ফরিদপুর হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারে ফল ব্যবসায়ীর আড়তে হামলা ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৭:০০:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে

রেজাউল করিম, ফরিদপুর
ফরিদপুর শহরের হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারে এক ফল ব্যবসায়ীর আড়তে হামলা ও নগদ ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা লুটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বাজারে চাঁদাবাজি, মাদকসেবীদের উৎপাত এবং নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগও সামনে এসেছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. জাফর শেখ জানান, তিনি হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারে ‘যোগাযোগ ফল ভান্ডার’ নামে একটি ফলের আড়তের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তার দাবি, মোঃ ঈমন ও মোঃ সাগর পিতা মানিক আলিপুর ব্রিজের ঢাল এলাকায় তাদের বাড়ি দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুন ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ইমন ও সাগর এর নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার আড়তে প্রবেশ করে। এ সময় তারা তাকে ও সেখানে উপস্থিত অন্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। একপর্যায়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশের বসতঘরে প্রবেশ করে বিছানার নিচে রাখা নগদ ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে চলে যায় বলে তিনি দাবি করেন।
এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফেলে যাওয়া কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে এবং বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দেয়।
মো. জাফর শেখ বলেন, “আমার কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করার বিষয়টি আমি আগেই হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি লাভলুকে জানিয়েছিলাম। তখন যদি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তাহলে আজ হয়তো এমন ঘটনার মুখোমুখি হতে হতো না।”
ঘটনার পর বাজারের একাধিক ফল আড়ত মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজারে প্রায়ই এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। তারা নিরাপদ পরিবেশে ব্যবসা করতে চান। তাদের অভিযোগ, বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ব্যবসার পরিবেশ আরও খারাপ হয়ে যাবে এবং ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ, সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করলেও ঐতিহ্যবাহী হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজার এলাকায় এখনও প্রকাশ্যে দেশীয় মদের দোকান রয়েছে। এসব স্থানকে কেন্দ্র করে মাদকসেবীদের আনাগোনা, মাতলামি এবং বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড ঘটে বলে দাবি করেন তারা। ভয়ে অনেক সময় কেউ প্রতিবাদও করতে পারেন না।
তারা ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বাজারসংলগ্ন অবৈধ মদের দোকান এবং বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অনৈতিক ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছেন একদল প্রভাবশালীরা এগুলো বন্ধ না করা হলে একটি সময় বাজার বেহাল দশায় পরিনতি হবে। এসময় বাজার ব্যাবসায়ীরা বলেন, নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হলে ব্যবসায়ীরা অনেকটাই স্বস্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার এসআই আব্দুল হক সাংবাদিকদের জানান, “ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারের প্রধান সড়কের অনেকাংশজুড়ে বিভিন্ন দোকান ও অস্থায়ী বাজার বসানো হয়েছে। ফলে ক্রেতা, পথচারী এবং যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয়রা দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।









