ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হাতবদল হয়েই দাম দ্বিগুণ, বিলুপ্তপ্রায় তাল ফলের বাজার চড়া মাদক ও আধিপত্য নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, পুলিশের পিকআপ ভাঙচুর গোয়ালন্দঘাটে ৮.৫৮ লাখ টাকার মাদকসহ চারজন গ্রেপ্তার ফরিদপুরে ভেজালবিরোধী অভিযানে চার প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা উচ্ছেদের পরও ফুটপাত দখলে, প্রশ্ন উঠছে পৌর অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে শিবচরে রেলভূমিতে ‘দখল-বাণিজ্য ধামইরহাটে নারী হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন, দুই আসামি গ্রেফতার ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী ও চালক নিহত কণিকার বাড়িতে গেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস সিজারের ৫১ দিন পর প্রসূতির মৃত্যু, পেটে গজ রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ

মাদক ও আধিপত্য নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, পুলিশের পিকআপ ভাঙচুর

রেজাউল করিম
  • আপডেট সময় : ০২:০০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

Oplus_16908288

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নে মাদককে কেন্দ্র করে বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধারে গিয়ে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে চাবি নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের গোলজারমণ্ডলের ডাঙ্গী ও আক্কাচ আলীর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় আহত দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট গোলজারমণ্ডলের ডাঙ্গী এলাকায় স্থানীয় যুবক শাকিল ও তার কয়েকজন সহযোগী ইয়াবা সেবন করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সময় টুলু মিয়া ও সুমনসহ কয়েকজন বিষয়টি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে ভিডিও ধারণের বিষয়টি দেখিয়ে শাকিলের কাছে টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর শাকিলের পক্ষের লোকজন টুলু মিয়াকে টাকা নেওয়ার কথা বলে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। সেখানে তাকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর থানায় নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা হলে টুলুকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের দাবি, ওই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টুলু মিয়া পার্শ্ববর্তী মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ১৫-২০টি মোটরসাইকেলে লোকজন নিয়ে গোলজারমণ্ডলের ডাঙ্গী ও আক্কাচ আলীর মোড় এলাকায় যান। সেখানে আগের ঘটনার সঙ্গে জড়িত মুদিদোকানি বক্কার শিকদার ও মান্নানকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বক্কার শিকদারের পক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এ সময় টুলু মিয়াকে এলাকায় না পেয়ে তার বাবা রাজা মিয়া (৭০) ও স্থানীয় জয়নাল শিকদারকে (৬৫) মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরে কয়েকশ মানুষ তাদের ঘিরে রাখেন।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত রাজা মিয়া ও জয়নাল শিকদারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ।

পরে একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন পুলিশের পিকআপ ভ্যানে হামলা চালিয়ে সেটি ভাঙচুর করেন এবং গাড়ির চাবি নিয়ে যান বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে আহত রাজা মিয়া ও জয়নাল শিকদারকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মিন্টু মৃধা বলেন, টুলু মিয়া ওমানে থাকেন। তিনি মাঝেমধ্যে দেশে এসে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবারের ঘটনার পর শনিবার সকাল ১০টার ফ্লাইটে তিনি আবার ওমানে চলে গেছেন বলেও দাবি করেন মিন্টু।

তিনি আরও দাবি করেন, আগের ঘটনার দিন টুলুর ভাই নিলু মিয়া রামদা নিয়ে এলাকায় এসেছিলেন। তখন বক্কারের ছেলে লালচান তাকে আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেন। ওই ঘটনার জেরেই শুক্রবার বক্কার শিকদারকে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি তার।

এ বিষয়ে বক্কার শিকদার ও টুলু মিয়ার বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, স্থানীয় আধিপত্য, মাদকসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশের ওপর হামলা ও পিকআপ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের গাড়িটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ওসি আরও জানান, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

মাদক ও আধিপত্য নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, পুলিশের পিকআপ ভাঙচুর

আপডেট সময় : ০২:০০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

 

ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নে মাদককে কেন্দ্র করে বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধারে গিয়ে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে চাবি নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের গোলজারমণ্ডলের ডাঙ্গী ও আক্কাচ আলীর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় আহত দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট গোলজারমণ্ডলের ডাঙ্গী এলাকায় স্থানীয় যুবক শাকিল ও তার কয়েকজন সহযোগী ইয়াবা সেবন করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সময় টুলু মিয়া ও সুমনসহ কয়েকজন বিষয়টি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে ভিডিও ধারণের বিষয়টি দেখিয়ে শাকিলের কাছে টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর শাকিলের পক্ষের লোকজন টুলু মিয়াকে টাকা নেওয়ার কথা বলে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। সেখানে তাকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর থানায় নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা হলে টুলুকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের দাবি, ওই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টুলু মিয়া পার্শ্ববর্তী মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ১৫-২০টি মোটরসাইকেলে লোকজন নিয়ে গোলজারমণ্ডলের ডাঙ্গী ও আক্কাচ আলীর মোড় এলাকায় যান। সেখানে আগের ঘটনার সঙ্গে জড়িত মুদিদোকানি বক্কার শিকদার ও মান্নানকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বক্কার শিকদারের পক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এ সময় টুলু মিয়াকে এলাকায় না পেয়ে তার বাবা রাজা মিয়া (৭০) ও স্থানীয় জয়নাল শিকদারকে (৬৫) মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরে কয়েকশ মানুষ তাদের ঘিরে রাখেন।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত রাজা মিয়া ও জয়নাল শিকদারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ।

পরে একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন পুলিশের পিকআপ ভ্যানে হামলা চালিয়ে সেটি ভাঙচুর করেন এবং গাড়ির চাবি নিয়ে যান বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে আহত রাজা মিয়া ও জয়নাল শিকদারকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মিন্টু মৃধা বলেন, টুলু মিয়া ওমানে থাকেন। তিনি মাঝেমধ্যে দেশে এসে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবারের ঘটনার পর শনিবার সকাল ১০টার ফ্লাইটে তিনি আবার ওমানে চলে গেছেন বলেও দাবি করেন মিন্টু।

তিনি আরও দাবি করেন, আগের ঘটনার দিন টুলুর ভাই নিলু মিয়া রামদা নিয়ে এলাকায় এসেছিলেন। তখন বক্কারের ছেলে লালচান তাকে আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেন। ওই ঘটনার জেরেই শুক্রবার বক্কার শিকদারকে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি তার।

এ বিষয়ে বক্কার শিকদার ও টুলু মিয়ার বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, স্থানীয় আধিপত্য, মাদকসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশের ওপর হামলা ও পিকআপ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের গাড়িটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ওসি আরও জানান, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।