ঢাকা ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরে মিথ্যা মামলা দায়েরের দায়ে স্বামী-স্ত্রীর ৩ বছরের কারাদণ্ড ফরিদপুরে পল্লী জসীম মেলা পুনরায় আয়োজনের দাবিতে মানববন্ধন ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতির ক্ষোভ, ‘কমিটি থাকবে, কর্মী খুঁজে পাওয়া যাবে না’ ফরিদপুরের হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারে ইলিশ মাছের জমজমাট বেচাকেনা ফরিদপুরে এসআরবি-১০-এর অভিযানে বিদেশি রিভলবার ও ককটেল সহ সাব্বির আহমেদ গ্রেপ্তার ফরিদপুরে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত  ফরিদপুরে দুই তরুণের যাবজ্জীবন কা*রা*দ*ণ্ড ‌ কালিয়াকৈরে তীব্র এলপিজি গ্যাসের সংকট বাড়তি দামেও মিলেনা গ্যাস মধ্যবিত্ত মানুষের এগুলো দেখার কেউ নেই ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মিরাজ শেখের ১০ বছরের কারাদণ্ড ১৭ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাবের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের কল্যাণ, ঐক্য ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ

ফরিদপুরে মিথ্যা মামলা দায়েরের দায়ে স্বামী-স্ত্রীর ৩ বছরের কারাদণ্ড

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ফরিদপুরে মিথ্যা মামলা দায়েরের দায়ে মামলার বাদী রিনা আক্তার (৩৭) ও তাঁর স্বামী এবং মামলার প্রধান সাক্ষী মাসুদ বেপারীকে (৪৪) তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলায় একমাত্র আসামিকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত রিনা আক্তার ও তাঁর স্বামী মাসুদ বেপারী সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের টানচর ওয়াজ হাওলাদারের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার পর পুলিশ পাহারায় তাঁদের ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে রিনা আক্তার প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হন। তাঁর অভিযোগ ছিল, এ সময় এক ব্যক্তি ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

এর কয়েক দিন পর, ৩ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রিনা আক্তার তাঁর স্বামী মাসুদ বেপারী ও ননদের স্বামী শাহাবুদ্দিন বেপারীর ওপর হামলার অভিযোগও করেন। এসব ঘটনার পর ১২ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের পাশাপাশি হামলার ঘটনাটিও উল্লেখ করা হয়।

পরে ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। আদালত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে সদরপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলামকে নির্দেশ দেন।

তদন্ত শেষে একই বছরের ১৭ নভেম্বর দেওয়া প্রতিবেদনে মামলার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই আদালত মামলাটি আমলে নেন। এরপর মামলাটি অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণসহ বিচারিক কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে।

বুধবার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত দিনে বাদী রিনা আক্তার ও তাঁর স্বামী মাসুদ বেপারীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী তাঁদের জেরা করেন। এ সময় তাঁদের বক্তব্যে বিভিন্ন অসংগতি ও পরস্পরবিরোধী তথ্য উঠে আসে বলে জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী।

মামলার নথি, সাক্ষ্য ও জেরায় পাওয়া বক্তব্য পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগগুলোকে অসত্য ও সাজানো বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছান। এরপর মিথ্যা মামলা দায়েরের দায়ে মামলার বাদী রিনা আক্তার ও তাঁর স্বামী মাসুদ বেপারীকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।

এদিকে মামলায় হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত ১২ জনের মধ্যে ১১ জনকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত আগেই খালাস দিয়েছেন। বুধবার ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলার একমাত্র আসামিকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী বশীর আহমদ চৌধুরী বলেন, “দীর্ঘ জেরায় বাদী ও তাঁর স্বামীর বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া যায়। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত মামলাটি মিথ্যা ও সাজানো হিসেবে বিবেচনা করেছেন। মিথ্যা মামলা দায়েরের দায়ে আদালত তাঁদের তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।”

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফরিদপুরে মিথ্যা মামলা দায়েরের দায়ে স্বামী-স্ত্রীর ৩ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৬:২৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ফরিদপুরে মিথ্যা মামলা দায়েরের দায়ে মামলার বাদী রিনা আক্তার (৩৭) ও তাঁর স্বামী এবং মামলার প্রধান সাক্ষী মাসুদ বেপারীকে (৪৪) তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলায় একমাত্র আসামিকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত রিনা আক্তার ও তাঁর স্বামী মাসুদ বেপারী সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের টানচর ওয়াজ হাওলাদারের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার পর পুলিশ পাহারায় তাঁদের ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে রিনা আক্তার প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হন। তাঁর অভিযোগ ছিল, এ সময় এক ব্যক্তি ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

এর কয়েক দিন পর, ৩ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রিনা আক্তার তাঁর স্বামী মাসুদ বেপারী ও ননদের স্বামী শাহাবুদ্দিন বেপারীর ওপর হামলার অভিযোগও করেন। এসব ঘটনার পর ১২ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের পাশাপাশি হামলার ঘটনাটিও উল্লেখ করা হয়।

পরে ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। আদালত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে সদরপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলামকে নির্দেশ দেন।

তদন্ত শেষে একই বছরের ১৭ নভেম্বর দেওয়া প্রতিবেদনে মামলার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই আদালত মামলাটি আমলে নেন। এরপর মামলাটি অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণসহ বিচারিক কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে।

বুধবার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত দিনে বাদী রিনা আক্তার ও তাঁর স্বামী মাসুদ বেপারীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী তাঁদের জেরা করেন। এ সময় তাঁদের বক্তব্যে বিভিন্ন অসংগতি ও পরস্পরবিরোধী তথ্য উঠে আসে বলে জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী।

মামলার নথি, সাক্ষ্য ও জেরায় পাওয়া বক্তব্য পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগগুলোকে অসত্য ও সাজানো বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছান। এরপর মিথ্যা মামলা দায়েরের দায়ে মামলার বাদী রিনা আক্তার ও তাঁর স্বামী মাসুদ বেপারীকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।

এদিকে মামলায় হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত ১২ জনের মধ্যে ১১ জনকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত আগেই খালাস দিয়েছেন। বুধবার ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলার একমাত্র আসামিকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী বশীর আহমদ চৌধুরী বলেন, “দীর্ঘ জেরায় বাদী ও তাঁর স্বামীর বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া যায়। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত মামলাটি মিথ্যা ও সাজানো হিসেবে বিবেচনা করেছেন। মিথ্যা মামলা দায়েরের দায়ে আদালত তাঁদের তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।”

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।