পাইলট প্রকল্প থেকে বানিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে ভেনামি চিংড়ি।
- আপডেট সময় : ০১:০৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫ ১০০ বার পড়া হয়েছে

মোঃ রবিউল হোসেন খান,খুলনা ব্যুরো :
খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আবু সায়েদ মো: মনজুর আলম বলেছেন, ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটার সিমান্তবর্তী চক শেলমারী এলাকায় পাইলট প্রকল্প থেকে বানিজ্যক ভাবে শুরু হয়েছে ভেনামি চিংড়ি চাষ। ভেনামি রোগ প্রতিরোধক্ষম এবং ১০০ দিনের মধ্যে এ চিংড়ি বাজারজাত করা সম্ভব। এছাড়া বিদেশের বাজারে এর চাহিদা খুব বেশি। সরকারের পক্ষ থেকে ভেনামি চাষে পলিসি সাপ্লাই দিতে হবে এবং ভেনামি চাষের উপর ম্যাপিং করে ভালোমন্দ দিক সরকারের কাছে তুলে ধরতে হবে। আজ ১২ আগষ্ট সকালে জেবিএস ফুড প্রডাক্টস এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামক খামারে ভেনামি চিংড়ি আহরন ও চাষি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কম মুল্য চাষিরা পোনার ত্ত্বক পরিক্ষা, স্বাস্থ্যকর পোনা ও ভালো খাবার সহ মেডিসিন এবং সরকারের পক্ষ থেকে অন্যান্য টেকনিক্যাল সাপোর্ট পেলে বিপ্লব ঘটাতে পারে ভেনামি চাষে। এদিন এক একর জমির ১ টি পুকুর থেকে ৫ হাজার ৬০০ শত কেজি ভেনামি চিংড়ি আহরন করা হয়। যা হেক্টর প্রতি ১৪ হাজার ৮২৮ কেজি উৎপাদন হয়েছে। খামারে এমডিও এমইউসি ফুডের পরিচালক শ্যামল দাস জানান, শুরুতে ভেনামির পোনা থাইল্যান্ড থেকে এবং খাদ্য সহ অন্যান্য সামগ্রী ভারত থেকে আনা হতো। তখন পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু করা হয়। বর্তমানে ভেনামি চিংড়ি বানিজ্যক ভাবে চাষ করা হচ্ছে। তবে পোনা থেকে শুরু করে মেডিসিন এবং খাদ্য সামগ্রী আমদানির উপর নির্ভর করে। এই আমদানির উপর কিছু ট্যাক্স ধরায় উৎপাদন খরচ কেজি প্রতি ৪৮০ থেকে ৪৯০ টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। যদি সরকারের পক্ষ থেকে ট্যাক্স মুক্ত সহ লোকালভাবে খাদ্য ও স্বাস্থ্যকর পোনা উৎপাদন করা যেত, তাহলে ৪০০ টাকার নিচে খরচ দাড়াবে। এতে চাষের সংখ্যা ও বেড়ে যাবে শতগুণ। তেমনি বাড়বে উৎপাদন ও এক্সপোর্ট। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে সাবলম্বী হতে পারবে চাষীরা। খুলনার অব: প্রাপ্ত জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রফুল্ল সরকারের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বদরুজ্জামান, বিএফএফ এর ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ কামরুল আলম, আরো বক্তব্য রাখেন, বটিয়াঘাটা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মাদ সেলিম সুলতান, টোটাল ফুডসের পরিচালক প্রফেসর মেহেদী হাসান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রফুল্ল কুমার রায়, জনতা ব্যাংক মোংলা শাখা ব্যাবস্থাপক সুশান্ত মন্ডল, চাষি সত্যেন গাইন,বাবলু মন্ডল ও খামার ব্যাবস্থাপক প্রসেনজিৎ রায়।জানা্যায়, শৈলমারী এলাকায় এমইউসি ফুড লি: এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে গত তিন বছর যাবৎ জেবিএস ফুড প্রডাক্টস নামক খামারে হারভেস্টার পদ্ধতিতে ভেনামি চিংড়ি চাষ করা হয়। বর্তমানে ভেনামি চাষ পাইলট প্রকল্প বানিজ্যকভাবে শুরু হয়েছে খামারটিতে। মোট ৫ একর জমির উপর ৬ টি পুকুরের মধ্যে ৫ টিতে চিংড়ি চাষাবাদ এবং ০১ টিতে পুকুর রিজার্ভ হিসেবে ব্যবহ্নত হয়। মে মাসের ২ তারিখে ১২ লাখ ৩৯ হাজার ভেনামি চিংড়ি ছাড়ে। ইন্ডিয়ান বিএমআর হ্যাচারি থেকে এ চিংড়ির পোনা সংগ্রহ করা হয়। এ প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি ভেনামি চিংড়ির বানিজ্যক চাষের অনুমোদন পেয়েছে।


























