ঢাকা ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাতীয় পরিচয়পত্রে বাধ্যতামূলক মোবাইল নম্বর সংযুক্তির ব্যাপারে আমার কিছু কথা অজ্ঞাত লাশের পরিচয় শনাক্তে কার্যকর উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আমার আহ্বান নগরকান্দায় বড় ভাইয়ের হাতের কব্জি কাটলেন ছোট ভাই ফরিদপুরে নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস পালিত ফরিদপুরে বিএসটিআই’র সমন্বিত মোবাইল কোর্টে ৮ মামলায় জরিমানা ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা নগরকান্দায় অবৈধ মাটি কাটার অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও জনদুর্ভোগ চরমে Youth commits suicide over family feud in Sadarpur ফরিদপুরে মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে কানাইপুর ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা কালিয়াকৈরে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে ৩ জনের মৃত্যু কালিয়াকৈরে ৮৪ কোটির টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাইটেক পার্ক স্টেশন এখন মাদকসেবীদের দখলে গাজীপুরে ৫ খুনের ঘটনায় জানা যাচ্ছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

গাজীপুরে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সীকার

মোঃ মাহবুবুর রহমান সোহেল
  • আপডেট সময় : ০৩:৫২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫ ১৫৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

মোঃ মাহবুবুর রহমান সোহেল

গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানা এলাকায় প্রতারণার শিকার হয়ে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে ঘটে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড। পুলিশ এই হত্যার ঘটনায় টাঙ্গাইল থেকে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) কাশিমপুর থানা পুলিশ টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী ও সদর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে শাহ জাহান খান (৫৫) ও সানোয়ার হোসেন ওরফে রাজু (৪২) নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে কাশিমপুর থানা পুলিশ । তবে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হান্নান মোল্লা এখনো পলাতক রয়েছে।

নিহত শিপন মিয়া (৪০) নেত্রকোনা জেলার সদর থানার হাসেন আলীর ছেলে। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুই বছর আগে শাহ জাহান খান তার ভায়রার ছেলে রফিকের জন্য পুলিশের চাকরির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়ে শিপন মিয়ার মাধ্যমে দুই লাখ টাকা দেন। কিন্তু সেই টাকা ফেরত না পেয়ে বারবার তাগিদ দেন শাহ জাহান খান। শিপন জানায়, টাকা হান্নান মোল্লার কাছে আছে। টাকা ফেরত না পেয়ে মানসিক চাপের মুখে পড়েন শাহ জাহান। একপর্যায়ে হান্নান মোল্লা তাকে প্রতিশোধ নিতে পরিচিত করে এবং শিপনকে হত্যার পরিকল্পনা করে

পরিকল্পনা অনুযায়ী কাশিমপুর এলাকায় একটি দোতলা বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেয়া হয়। ৮ মার্চ বিকেলে শিপনকে ওই বাড়িতে ডেকে আনা হয়। সে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকার কারণে ঘুমিয়ে পড়ে। এরপর আগে থেকে প্রস্তুত করা লাল রঙের রশি দিয়ে শিপনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। শাহ জাহান, সানোয়ার ও হান্নান মোল্লা মিলে ৮-১০ মিনিট ধরে শিপনের গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর মৃতদেহ ঘরে রেখে শিপনের মোবাইল ফোন নিয়ে তারা পালিয়ে যায়।

পরদিন শাহ জাহান নতুন ভাড়াটিয়া বাড়ির মালিককে ফোন করে জানান, ঘরে একটি লাশ রয়েছে এবং তা সরিয়ে ফেলার অনুরোধ করেন। এরপর তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ উত্তর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শাহ জাহান ও সানোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

কাশিমপুর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, পলাতক হান্নান মোল্লাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গাজীপুরে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সীকার

আপডেট সময় : ০৩:৫২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫

 

মোঃ মাহবুবুর রহমান সোহেল

গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানা এলাকায় প্রতারণার শিকার হয়ে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে ঘটে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড। পুলিশ এই হত্যার ঘটনায় টাঙ্গাইল থেকে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) কাশিমপুর থানা পুলিশ টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী ও সদর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে শাহ জাহান খান (৫৫) ও সানোয়ার হোসেন ওরফে রাজু (৪২) নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে কাশিমপুর থানা পুলিশ । তবে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হান্নান মোল্লা এখনো পলাতক রয়েছে।

নিহত শিপন মিয়া (৪০) নেত্রকোনা জেলার সদর থানার হাসেন আলীর ছেলে। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুই বছর আগে শাহ জাহান খান তার ভায়রার ছেলে রফিকের জন্য পুলিশের চাকরির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়ে শিপন মিয়ার মাধ্যমে দুই লাখ টাকা দেন। কিন্তু সেই টাকা ফেরত না পেয়ে বারবার তাগিদ দেন শাহ জাহান খান। শিপন জানায়, টাকা হান্নান মোল্লার কাছে আছে। টাকা ফেরত না পেয়ে মানসিক চাপের মুখে পড়েন শাহ জাহান। একপর্যায়ে হান্নান মোল্লা তাকে প্রতিশোধ নিতে পরিচিত করে এবং শিপনকে হত্যার পরিকল্পনা করে

পরিকল্পনা অনুযায়ী কাশিমপুর এলাকায় একটি দোতলা বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেয়া হয়। ৮ মার্চ বিকেলে শিপনকে ওই বাড়িতে ডেকে আনা হয়। সে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকার কারণে ঘুমিয়ে পড়ে। এরপর আগে থেকে প্রস্তুত করা লাল রঙের রশি দিয়ে শিপনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। শাহ জাহান, সানোয়ার ও হান্নান মোল্লা মিলে ৮-১০ মিনিট ধরে শিপনের গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর মৃতদেহ ঘরে রেখে শিপনের মোবাইল ফোন নিয়ে তারা পালিয়ে যায়।

পরদিন শাহ জাহান নতুন ভাড়াটিয়া বাড়ির মালিককে ফোন করে জানান, ঘরে একটি লাশ রয়েছে এবং তা সরিয়ে ফেলার অনুরোধ করেন। এরপর তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ উত্তর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শাহ জাহান ও সানোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

কাশিমপুর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, পলাতক হান্নান মোল্লাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।