ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল হবে ২৫০ শয্যার, নির্মাণের উদ্যোগ ১৫ তলা আধুনিক ভবনের পত্নীতলায় জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শিবচরে যুবলীগ নেতার দাপট, ভয়-ভীতি ও মারধর করে জমি দখলের অভিযোগ সদরপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত অভিযুক্তের বাড়ির সামনেই ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা নেওয়া ও বাড়ি বিক্রির কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বালিয়াকান্দিতে দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ফরিদপুরে বিএসটিআইয়ের অভিযান, ফিলিং স্টেশনের ৫ ডিসপেন্সিং ইউনিট সিলগালা ভাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলর তিন বন্ধু নিহত অনিয়ম ও অবহেলা সহ্য করা হবে না: সদরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ৩ সেবিকা বদলি দেশে সারের সংকট নেই, চার মাসের বাড়তি মজুত রয়েছে: কৃষিমন্ত্রী

গাজীপুরে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সীকার

মোঃ মাহবুবুর রহমান সোহেল
  • আপডেট সময় : ০৩:৫২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫ ১৯৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

মোঃ মাহবুবুর রহমান সোহেল

গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানা এলাকায় প্রতারণার শিকার হয়ে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে ঘটে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড। পুলিশ এই হত্যার ঘটনায় টাঙ্গাইল থেকে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) কাশিমপুর থানা পুলিশ টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী ও সদর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে শাহ জাহান খান (৫৫) ও সানোয়ার হোসেন ওরফে রাজু (৪২) নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে কাশিমপুর থানা পুলিশ । তবে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হান্নান মোল্লা এখনো পলাতক রয়েছে।

নিহত শিপন মিয়া (৪০) নেত্রকোনা জেলার সদর থানার হাসেন আলীর ছেলে। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুই বছর আগে শাহ জাহান খান তার ভায়রার ছেলে রফিকের জন্য পুলিশের চাকরির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়ে শিপন মিয়ার মাধ্যমে দুই লাখ টাকা দেন। কিন্তু সেই টাকা ফেরত না পেয়ে বারবার তাগিদ দেন শাহ জাহান খান। শিপন জানায়, টাকা হান্নান মোল্লার কাছে আছে। টাকা ফেরত না পেয়ে মানসিক চাপের মুখে পড়েন শাহ জাহান। একপর্যায়ে হান্নান মোল্লা তাকে প্রতিশোধ নিতে পরিচিত করে এবং শিপনকে হত্যার পরিকল্পনা করে

পরিকল্পনা অনুযায়ী কাশিমপুর এলাকায় একটি দোতলা বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেয়া হয়। ৮ মার্চ বিকেলে শিপনকে ওই বাড়িতে ডেকে আনা হয়। সে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকার কারণে ঘুমিয়ে পড়ে। এরপর আগে থেকে প্রস্তুত করা লাল রঙের রশি দিয়ে শিপনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। শাহ জাহান, সানোয়ার ও হান্নান মোল্লা মিলে ৮-১০ মিনিট ধরে শিপনের গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর মৃতদেহ ঘরে রেখে শিপনের মোবাইল ফোন নিয়ে তারা পালিয়ে যায়।

পরদিন শাহ জাহান নতুন ভাড়াটিয়া বাড়ির মালিককে ফোন করে জানান, ঘরে একটি লাশ রয়েছে এবং তা সরিয়ে ফেলার অনুরোধ করেন। এরপর তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ উত্তর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শাহ জাহান ও সানোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

কাশিমপুর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, পলাতক হান্নান মোল্লাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গাজীপুরে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সীকার

আপডেট সময় : ০৩:৫২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫

 

মোঃ মাহবুবুর রহমান সোহেল

গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানা এলাকায় প্রতারণার শিকার হয়ে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে ঘটে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড। পুলিশ এই হত্যার ঘটনায় টাঙ্গাইল থেকে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) কাশিমপুর থানা পুলিশ টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী ও সদর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে শাহ জাহান খান (৫৫) ও সানোয়ার হোসেন ওরফে রাজু (৪২) নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে কাশিমপুর থানা পুলিশ । তবে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হান্নান মোল্লা এখনো পলাতক রয়েছে।

নিহত শিপন মিয়া (৪০) নেত্রকোনা জেলার সদর থানার হাসেন আলীর ছেলে। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুই বছর আগে শাহ জাহান খান তার ভায়রার ছেলে রফিকের জন্য পুলিশের চাকরির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়ে শিপন মিয়ার মাধ্যমে দুই লাখ টাকা দেন। কিন্তু সেই টাকা ফেরত না পেয়ে বারবার তাগিদ দেন শাহ জাহান খান। শিপন জানায়, টাকা হান্নান মোল্লার কাছে আছে। টাকা ফেরত না পেয়ে মানসিক চাপের মুখে পড়েন শাহ জাহান। একপর্যায়ে হান্নান মোল্লা তাকে প্রতিশোধ নিতে পরিচিত করে এবং শিপনকে হত্যার পরিকল্পনা করে

পরিকল্পনা অনুযায়ী কাশিমপুর এলাকায় একটি দোতলা বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেয়া হয়। ৮ মার্চ বিকেলে শিপনকে ওই বাড়িতে ডেকে আনা হয়। সে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকার কারণে ঘুমিয়ে পড়ে। এরপর আগে থেকে প্রস্তুত করা লাল রঙের রশি দিয়ে শিপনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। শাহ জাহান, সানোয়ার ও হান্নান মোল্লা মিলে ৮-১০ মিনিট ধরে শিপনের গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর মৃতদেহ ঘরে রেখে শিপনের মোবাইল ফোন নিয়ে তারা পালিয়ে যায়।

পরদিন শাহ জাহান নতুন ভাড়াটিয়া বাড়ির মালিককে ফোন করে জানান, ঘরে একটি লাশ রয়েছে এবং তা সরিয়ে ফেলার অনুরোধ করেন। এরপর তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ উত্তর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শাহ জাহান ও সানোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

কাশিমপুর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, পলাতক হান্নান মোল্লাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।