ঢাকা ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১৭ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাবের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের কল্যাণ, ঐক্য ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ শোক সংবাদ ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল হবে ২৫০ শয্যার, নির্মাণের উদ্যোগ ১৫ তলা আধুনিক ভবনের পত্নীতলায় জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শিবচরে যুবলীগ নেতার দাপট, ভয়-ভীতি ও মারধর করে জমি দখলের অভিযোগ সদরপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত অভিযুক্তের বাড়ির সামনেই ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা নেওয়া ও বাড়ি বিক্রির কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বালিয়াকান্দিতে দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ফরিদপুরে বিএসটিআইয়ের অভিযান, ফিলিং স্টেশনের ৫ ডিসপেন্সিং ইউনিট সিলগালা ভাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলর তিন বন্ধু নিহত

খুব দেখছি আষাঢ়ে বৃষ্টি- বহুবার চেয়েছি কৈ একবার ও তো আসনি সিন্ধু নদীর পাড়ে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫ ১৩৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

মৃন্ময় দেবী,,

আকাশ কালো করে মেঘ আসে বৃষ্টি হয়। বেশ বড় বড় ফোঁটায় কিছুক্ষণ বৃষ্টি হয়ে থেমে যায়। পাগলা আকাশ যেন বুঝতে পারে না- বর্ষাবে না রোদ দিবে। অবাক লাগে- জীবনের এতগুলো বছর পার হওয়ার পর আষাঢ় চিনেছি।

একসময় ভাবতাম ষড় ঋতু এক ষড়যন্ত্রের নাম। পার্থক্য করতে পারতাম না গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত। এখন বুঝি খুব কাছ থেকে দেখলে বৈশাখ জৈষ্ঠ্য, আষাঢ় শ্রাবণ, ভাদ্র আশ্বিন আলাদা করা সম্ভব। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা মাটি ছেড়ে আমাদের দূর নক্ষত্রে পাঠিয়ে দেয়। তাই আমরা ফুল চিনি না, গন্ধ চিনি না, নদী চিনি না, মাছ চিনি না, বাতাস চিনি না।

আমরা জন্ম নিই, আমরা মরে যাই। মা-মাটি-মানুষ আমাদের কাছে আসে না। নিজভূমে পরবাসীর মতো থাকি। অথবা এমনকিছু নিয়ে থাকি যা আমাদের নয় ও কৃত্রিম। এজন্য কোথাও এখন বর্ষা বরণ হয় না। আষাঢ়ের প্রথম দিনটি নীরবে পেরিয়ে যায়। জোড়া কদম ফুলগুলো বাড়ির চালে মন খারাপ করে বসে থাকে। নদীগুলো গলা পর্যন্ত পানি নিয়ে ডুবে থাকে চোখে পড়ে না। আমাদের সবকিছু থেকে আমরা কেবল দূরে সরে যাচ্ছি।

হাসপাতালে সিসিইউর পাশে অল্প একটু জায়গা। রোগীর স্বজনদের বসার স্থান। গ্রাম থেকে আসা লোকজন এখানে পাটি পেতে থাকে। রাতে ঘুমায়। গোল হয়ে বসে খাওয়া দাওয়া করে। আজ দেখলাম চুলের দুই পাশে দুই বিনুনি করা, কপালে ছোট লাল টিপ, শ্যামবর্ণের এক ছোট মেয়ে গালে হাত দিয়ে বসে আছে। হাতে পুটুলি- সম্পত্তি বুঝি অটুকু। আমি ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করি- নাম কি। বলে বকুল। বলি- কে ভর্তি আছে। বলে- বাবা। বলি- একা এসেছো? বলে মা গেছে ঔষধ আনতে।

বুঝি যে মুমূর্ষু বাবা এখন এ আট নয় বছরের মেয়ের তত্ত্বাবধানে আছে। এ বকুল নামটি, এ শ্যামবর্ণা মেয়েটি, দুই বিনুনি করা মাথাটিকে খুব আপন মনে হয়। এখন তো শহরে বাঙালি খাবার পাওয়া যায় না। ঘন্ট ফন্ট, মোচার তরকারি, এচোঁড়, ভর্তা, ভাজি নেই। আছে কাশ্মীরি, পাকিস্তানি, টার্কি, চাইনিজ খাবার। দেশ কোথায়। আমরা কোথায়। আমাদের কাছ থেকে আমরা হারিয়ে গেছি।

বৃষ্টির পর সব সবুজ হয়ে আছে। ভাল লাগে দেখতে। এমনকি রাস্তার পাশে জমা জলও ভাল লাগে। কাদা কাদা পৃথিবী আর কাদা কাদা আকাশ। বর্ষা আমার চোখের প্রিয় ঋতু।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

খুব দেখছি আষাঢ়ে বৃষ্টি- বহুবার চেয়েছি কৈ একবার ও তো আসনি সিন্ধু নদীর পাড়ে

আপডেট সময় : ০১:৪৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

 

মৃন্ময় দেবী,,

আকাশ কালো করে মেঘ আসে বৃষ্টি হয়। বেশ বড় বড় ফোঁটায় কিছুক্ষণ বৃষ্টি হয়ে থেমে যায়। পাগলা আকাশ যেন বুঝতে পারে না- বর্ষাবে না রোদ দিবে। অবাক লাগে- জীবনের এতগুলো বছর পার হওয়ার পর আষাঢ় চিনেছি।

একসময় ভাবতাম ষড় ঋতু এক ষড়যন্ত্রের নাম। পার্থক্য করতে পারতাম না গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত। এখন বুঝি খুব কাছ থেকে দেখলে বৈশাখ জৈষ্ঠ্য, আষাঢ় শ্রাবণ, ভাদ্র আশ্বিন আলাদা করা সম্ভব। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা মাটি ছেড়ে আমাদের দূর নক্ষত্রে পাঠিয়ে দেয়। তাই আমরা ফুল চিনি না, গন্ধ চিনি না, নদী চিনি না, মাছ চিনি না, বাতাস চিনি না।

আমরা জন্ম নিই, আমরা মরে যাই। মা-মাটি-মানুষ আমাদের কাছে আসে না। নিজভূমে পরবাসীর মতো থাকি। অথবা এমনকিছু নিয়ে থাকি যা আমাদের নয় ও কৃত্রিম। এজন্য কোথাও এখন বর্ষা বরণ হয় না। আষাঢ়ের প্রথম দিনটি নীরবে পেরিয়ে যায়। জোড়া কদম ফুলগুলো বাড়ির চালে মন খারাপ করে বসে থাকে। নদীগুলো গলা পর্যন্ত পানি নিয়ে ডুবে থাকে চোখে পড়ে না। আমাদের সবকিছু থেকে আমরা কেবল দূরে সরে যাচ্ছি।

হাসপাতালে সিসিইউর পাশে অল্প একটু জায়গা। রোগীর স্বজনদের বসার স্থান। গ্রাম থেকে আসা লোকজন এখানে পাটি পেতে থাকে। রাতে ঘুমায়। গোল হয়ে বসে খাওয়া দাওয়া করে। আজ দেখলাম চুলের দুই পাশে দুই বিনুনি করা, কপালে ছোট লাল টিপ, শ্যামবর্ণের এক ছোট মেয়ে গালে হাত দিয়ে বসে আছে। হাতে পুটুলি- সম্পত্তি বুঝি অটুকু। আমি ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করি- নাম কি। বলে বকুল। বলি- কে ভর্তি আছে। বলে- বাবা। বলি- একা এসেছো? বলে মা গেছে ঔষধ আনতে।

বুঝি যে মুমূর্ষু বাবা এখন এ আট নয় বছরের মেয়ের তত্ত্বাবধানে আছে। এ বকুল নামটি, এ শ্যামবর্ণা মেয়েটি, দুই বিনুনি করা মাথাটিকে খুব আপন মনে হয়। এখন তো শহরে বাঙালি খাবার পাওয়া যায় না। ঘন্ট ফন্ট, মোচার তরকারি, এচোঁড়, ভর্তা, ভাজি নেই। আছে কাশ্মীরি, পাকিস্তানি, টার্কি, চাইনিজ খাবার। দেশ কোথায়। আমরা কোথায়। আমাদের কাছ থেকে আমরা হারিয়ে গেছি।

বৃষ্টির পর সব সবুজ হয়ে আছে। ভাল লাগে দেখতে। এমনকি রাস্তার পাশে জমা জলও ভাল লাগে। কাদা কাদা পৃথিবী আর কাদা কাদা আকাশ। বর্ষা আমার চোখের প্রিয় ঋতু।