ঢাকা ১০:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৮ নং ওয়ার্ডবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন শ্রমিক নেতা মারুফ মোল্লা ফরিদপুরে নানা আয়োজনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন কালিয়াকৈর ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুরাদ হোসেন মিয়া ফরিদপুরে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ, ক্ষোভে ফুঁসছে স্বজনরা পবিত্র ঈদুল আজাহাকে সামনে রেখে ঈদ যাত্রা হবে স্বস্তিদায়ক ও দুর্ঘটনা মুক্ত ফরিদপুর জেলাবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন সাংবাদিক মোঃ ফজলুল হক ফরিদপুরে জেলা পরিষদের আর্থিক সহায়তা বিতরণ, উপকারভোগীদের মাঝে স্বস্তি ফরিদপুর মেডিকেলে হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা ১৩

খুব দেখছি আষাঢ়ে বৃষ্টি- বহুবার চেয়েছি কৈ একবার ও তো আসনি সিন্ধু নদীর পাড়ে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫ ১০৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

মৃন্ময় দেবী,,

আকাশ কালো করে মেঘ আসে বৃষ্টি হয়। বেশ বড় বড় ফোঁটায় কিছুক্ষণ বৃষ্টি হয়ে থেমে যায়। পাগলা আকাশ যেন বুঝতে পারে না- বর্ষাবে না রোদ দিবে। অবাক লাগে- জীবনের এতগুলো বছর পার হওয়ার পর আষাঢ় চিনেছি।

একসময় ভাবতাম ষড় ঋতু এক ষড়যন্ত্রের নাম। পার্থক্য করতে পারতাম না গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত। এখন বুঝি খুব কাছ থেকে দেখলে বৈশাখ জৈষ্ঠ্য, আষাঢ় শ্রাবণ, ভাদ্র আশ্বিন আলাদা করা সম্ভব। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা মাটি ছেড়ে আমাদের দূর নক্ষত্রে পাঠিয়ে দেয়। তাই আমরা ফুল চিনি না, গন্ধ চিনি না, নদী চিনি না, মাছ চিনি না, বাতাস চিনি না।

আমরা জন্ম নিই, আমরা মরে যাই। মা-মাটি-মানুষ আমাদের কাছে আসে না। নিজভূমে পরবাসীর মতো থাকি। অথবা এমনকিছু নিয়ে থাকি যা আমাদের নয় ও কৃত্রিম। এজন্য কোথাও এখন বর্ষা বরণ হয় না। আষাঢ়ের প্রথম দিনটি নীরবে পেরিয়ে যায়। জোড়া কদম ফুলগুলো বাড়ির চালে মন খারাপ করে বসে থাকে। নদীগুলো গলা পর্যন্ত পানি নিয়ে ডুবে থাকে চোখে পড়ে না। আমাদের সবকিছু থেকে আমরা কেবল দূরে সরে যাচ্ছি।

হাসপাতালে সিসিইউর পাশে অল্প একটু জায়গা। রোগীর স্বজনদের বসার স্থান। গ্রাম থেকে আসা লোকজন এখানে পাটি পেতে থাকে। রাতে ঘুমায়। গোল হয়ে বসে খাওয়া দাওয়া করে। আজ দেখলাম চুলের দুই পাশে দুই বিনুনি করা, কপালে ছোট লাল টিপ, শ্যামবর্ণের এক ছোট মেয়ে গালে হাত দিয়ে বসে আছে। হাতে পুটুলি- সম্পত্তি বুঝি অটুকু। আমি ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করি- নাম কি। বলে বকুল। বলি- কে ভর্তি আছে। বলে- বাবা। বলি- একা এসেছো? বলে মা গেছে ঔষধ আনতে।

বুঝি যে মুমূর্ষু বাবা এখন এ আট নয় বছরের মেয়ের তত্ত্বাবধানে আছে। এ বকুল নামটি, এ শ্যামবর্ণা মেয়েটি, দুই বিনুনি করা মাথাটিকে খুব আপন মনে হয়। এখন তো শহরে বাঙালি খাবার পাওয়া যায় না। ঘন্ট ফন্ট, মোচার তরকারি, এচোঁড়, ভর্তা, ভাজি নেই। আছে কাশ্মীরি, পাকিস্তানি, টার্কি, চাইনিজ খাবার। দেশ কোথায়। আমরা কোথায়। আমাদের কাছ থেকে আমরা হারিয়ে গেছি।

বৃষ্টির পর সব সবুজ হয়ে আছে। ভাল লাগে দেখতে। এমনকি রাস্তার পাশে জমা জলও ভাল লাগে। কাদা কাদা পৃথিবী আর কাদা কাদা আকাশ। বর্ষা আমার চোখের প্রিয় ঋতু।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

খুব দেখছি আষাঢ়ে বৃষ্টি- বহুবার চেয়েছি কৈ একবার ও তো আসনি সিন্ধু নদীর পাড়ে

আপডেট সময় : ০১:৪৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

 

মৃন্ময় দেবী,,

আকাশ কালো করে মেঘ আসে বৃষ্টি হয়। বেশ বড় বড় ফোঁটায় কিছুক্ষণ বৃষ্টি হয়ে থেমে যায়। পাগলা আকাশ যেন বুঝতে পারে না- বর্ষাবে না রোদ দিবে। অবাক লাগে- জীবনের এতগুলো বছর পার হওয়ার পর আষাঢ় চিনেছি।

একসময় ভাবতাম ষড় ঋতু এক ষড়যন্ত্রের নাম। পার্থক্য করতে পারতাম না গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত। এখন বুঝি খুব কাছ থেকে দেখলে বৈশাখ জৈষ্ঠ্য, আষাঢ় শ্রাবণ, ভাদ্র আশ্বিন আলাদা করা সম্ভব। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা মাটি ছেড়ে আমাদের দূর নক্ষত্রে পাঠিয়ে দেয়। তাই আমরা ফুল চিনি না, গন্ধ চিনি না, নদী চিনি না, মাছ চিনি না, বাতাস চিনি না।

আমরা জন্ম নিই, আমরা মরে যাই। মা-মাটি-মানুষ আমাদের কাছে আসে না। নিজভূমে পরবাসীর মতো থাকি। অথবা এমনকিছু নিয়ে থাকি যা আমাদের নয় ও কৃত্রিম। এজন্য কোথাও এখন বর্ষা বরণ হয় না। আষাঢ়ের প্রথম দিনটি নীরবে পেরিয়ে যায়। জোড়া কদম ফুলগুলো বাড়ির চালে মন খারাপ করে বসে থাকে। নদীগুলো গলা পর্যন্ত পানি নিয়ে ডুবে থাকে চোখে পড়ে না। আমাদের সবকিছু থেকে আমরা কেবল দূরে সরে যাচ্ছি।

হাসপাতালে সিসিইউর পাশে অল্প একটু জায়গা। রোগীর স্বজনদের বসার স্থান। গ্রাম থেকে আসা লোকজন এখানে পাটি পেতে থাকে। রাতে ঘুমায়। গোল হয়ে বসে খাওয়া দাওয়া করে। আজ দেখলাম চুলের দুই পাশে দুই বিনুনি করা, কপালে ছোট লাল টিপ, শ্যামবর্ণের এক ছোট মেয়ে গালে হাত দিয়ে বসে আছে। হাতে পুটুলি- সম্পত্তি বুঝি অটুকু। আমি ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করি- নাম কি। বলে বকুল। বলি- কে ভর্তি আছে। বলে- বাবা। বলি- একা এসেছো? বলে মা গেছে ঔষধ আনতে।

বুঝি যে মুমূর্ষু বাবা এখন এ আট নয় বছরের মেয়ের তত্ত্বাবধানে আছে। এ বকুল নামটি, এ শ্যামবর্ণা মেয়েটি, দুই বিনুনি করা মাথাটিকে খুব আপন মনে হয়। এখন তো শহরে বাঙালি খাবার পাওয়া যায় না। ঘন্ট ফন্ট, মোচার তরকারি, এচোঁড়, ভর্তা, ভাজি নেই। আছে কাশ্মীরি, পাকিস্তানি, টার্কি, চাইনিজ খাবার। দেশ কোথায়। আমরা কোথায়। আমাদের কাছ থেকে আমরা হারিয়ে গেছি।

বৃষ্টির পর সব সবুজ হয়ে আছে। ভাল লাগে দেখতে। এমনকি রাস্তার পাশে জমা জলও ভাল লাগে। কাদা কাদা পৃথিবী আর কাদা কাদা আকাশ। বর্ষা আমার চোখের প্রিয় ঋতু।