ডুমুরিয়ায় চেয়ারম্যান বুলুর অনিয়ম – দুর্নীতি তদন্তে মাঠে প্রশাসন।
- আপডেট সময় : ১১:৪৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫ ৫৩৭ বার পড়া হয়েছে

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :
গাজী হুমায়ুন কবীর বুলু। বর্তমান ডুমুরিয়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান। উপজেলা যুবদলের আহবায়ক ছিলেন। ডুমুরিয়ায় নিয়ন্ত্রক কর্তা হতে বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে যোগদেন আওয়ামীলীগে। সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দকে তুষ্ট করে ভাগিয়ে নেন নৌকা। ভোট কেটে এবং কেন্দ্র দখল করে ২০১৬ সালে হয়ে যান সদরের চেয়ারম্যান। সেখান থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আওয়ামী ও মন্ত্রীর প্রভাব ব্যবহার করে নিজেকে একনায়কতন্ত্রের মহানায়ক বানিয়েছেন। কোন ইউপি সদস্যর মতামত ছাড়াই নেন প্রকল্প। ভিজিএফ – ভিজিডি কার্ড বিতরন করেন নিজস্ব বাহিনী দিয়ে। ট্রেড লাইসেন্স, চৌকিদারি ট্যাক্স ও অন্যান্য প্রত্যায়ন এখনও দেন এনালক পদ্ধতিতে। নেই তার কোন সঠিক লেজার ও হিসাব। সরকারি টাকায় পরিষদের ভিতর নির্মান করেছেন একাধিক দোকান। মোটা অংকের টাকা অগ্রিম নিয়ে ভাড়া তোলেন নিজেই। নেই তার হিসেব। গরীবের গেল ছয় মাসের চাল তুলে আত্মসাৎ করেছেন। এসব অনিয়মের কারনে সম্প্রতি এলাকাবাসী ইউনিয়ন পরিষদের তালা ঝুলিয়ে দেয়। উপজেলা অফিসারের কাছে করেন লিখিত নালিশ। এছাড়া জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে নয় জন ইউপি সদস্য এসব অনিয়মের বিচার চেয়ে আবেদন করেছেন। এসকল অভিযোগ ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ সুত্রে, ভাড়াটিয়া রবিউল ইসলাম বাবুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ১৪ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে পরিষদের দোকান ভাড়া নিয়েছি। মাসে ভাড়া দেওয়া হয় ৩১শ টাকা। ফটিক সাহার কাছ থেকে অগ্রিম দেড় লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের ব্যাপারে যুবদল নেতা পারভেজ বলেন, বুলু চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের আমলে তার নামে কমপক্ষে ১২ টি মামলা দিয়েছে। যুবদল নেতা সুমনকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। অসংখ্য নেতাকর্মীর নামে হয়রানি মুলক মামলার নায়ক বুলু বলে জানান তিনি। ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, সম্প্রতি আরাজি ডুমুরিয়া এক রাস্তায় অনিয়ম করায় এলাকাবাসী বিক্ষোভ করে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে আবারও টাকা দিয়ে ১৪০ ফুট রাস্তার কাজ করা হয়েছে। ইউপি সদস্য গফফার গাজী ও নাজমুল হোসেন বকুল বলেন, চেয়ারম্যান সব কিছু একাই করেন। কারো মতামত নেননা। যেকারনে তার অপসারণ চেয়ে আবেদন করেছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ আল আমিন বলেন, এলাকাবাসী পরিষদে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছিলো। আমি তাদেরকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিতে বলেছি।এলাকাবাসী ও ইউপি সদস্যরা একাধিক লিখিত অভিযোগ করেছেন। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তাকে সকল অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান গাজী হুমায়ুন কবীর বুলু বলেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।


























