ঢাকা ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শোক সংবাদ ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল হবে ২৫০ শয্যার, নির্মাণের উদ্যোগ ১৫ তলা আধুনিক ভবনের পত্নীতলায় জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শিবচরে যুবলীগ নেতার দাপট, ভয়-ভীতি ও মারধর করে জমি দখলের অভিযোগ সদরপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত অভিযুক্তের বাড়ির সামনেই ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা নেওয়া ও বাড়ি বিক্রির কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বালিয়াকান্দিতে দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ফরিদপুরে বিএসটিআইয়ের অভিযান, ফিলিং স্টেশনের ৫ ডিসপেন্সিং ইউনিট সিলগালা ভাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলর তিন বন্ধু নিহত অনিয়ম ও অবহেলা সহ্য করা হবে না: সদরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ৩ সেবিকা বদলি

প্রেশার কুকারের ভিতরে লুকিয়ে ‘সিসার বোমা’? অজান্তেই খাবারে ঢুকে পড়ছে বিষ!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৫:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫ ২০৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

আব্দুল মতিন মুন্সী  (বোয়ালমারী, ফরিদপুর)

রান্নাঘরে আমাদের দৈনন্দিন সঙ্গী প্রেশার কুকার। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার ঘরের এই নির্ভরযোগ্য সহকারী নীরবে ছড়িয়ে দিচ্ছে বিষ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে থাকা অনেক অ্যালুমিনিয়ামের প্রেশার কুকার থেকে খাবারে মিশে যেতে পারে ক্ষতিকর ধাতু সিসা (lead), যা শরীরের জন্য চূড়ান্তভাবে ক্ষতিকর।

 

খাঁটি অ্যালুমিনিয়ামে সিসা থাকে না—এই তথ্য যেমন সত্য, তেমনি এটাও ঠিক যে, বাজারে পাওয়া অনেক কুকার তৈরি হয় পুনর্ব্যবহৃত স্ক্র্যাপ অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে। এই ধাতুতে মিশে থাকতে পারে সিসা বা অন্যান্য ভারী ধাতু, যা তাপের সংস্পর্শে খাবারে মিশে যেতে পারে। সমস্যাটি আরও ঘনীভূত হয় যখন কুকারটি পুরনো, আঁচড় পড়া, কিংবা ভিতরের আবরণ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয় যখন টকজাতীয় খাবার (যেমন টমেটো, তেঁতুল বা লেবুর রস) কুকারে রান্না করা হয়—এসিডিক পরিবেশে ক্ষতিকারক ধাতু আরও দ্রুত খাবারে মিশে যায়।

 

সিসা শরীরে জমে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে। এর প্রভাব পড়ে মস্তিষ্ক, কিডনি, হাড়, এমনকি অনাগত শিশুর উপরেও। শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে শেখার সমস্যা, আচরণগত ব্যাধি ও মনঃসংযোগের ঘাটতি। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দেখা দেয় স্মৃতিভ্রংশ, কিডনির জটিলতা ও হাড়ের দুর্বলতা।

 

এই ঝুঁকি থেকে বাঁচতে সবচেয়ে প্রয়োজন সচেতনতা। কুকার কেনার সময় অবশ্যই দেখে নিন সেটি BIS বা ISI সনদপ্রাপ্ত কি না, এবং অজানা কোম্পানি বা অত্যন্ত সস্তা দামে বিক্রি হওয়া পণ্য থেকে দূরে থাকুন। পুরনো বা আঁচড় লাগা কুকার ব্যবহার না করাই ভালো।

 

রান্না শুধু স্বাদের ব্যাপার নয়, এটি স্বাস্থ্য আর নিরাপত্তার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই আজই একবার দেখে নিন আপনার রান্নাঘরের প্রেশার কুকার কতটা নিরাপদ। কারণ খাবারের ভিতরে সিসার মতো নীরব বিষ ঢুকে পড়লে তার মাশুল গুনতে হতে পারে সারাজীবন।

 

সতর্ক থাকুন, সুস্থ থাকুন। রান্নার পাত্রেও লুকিয়ে থাকতে পারে বিপদের ছায়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

প্রেশার কুকারের ভিতরে লুকিয়ে ‘সিসার বোমা’? অজান্তেই খাবারে ঢুকে পড়ছে বিষ!

আপডেট সময় : ০৫:১৫:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫

 

 

আব্দুল মতিন মুন্সী  (বোয়ালমারী, ফরিদপুর)

রান্নাঘরে আমাদের দৈনন্দিন সঙ্গী প্রেশার কুকার। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার ঘরের এই নির্ভরযোগ্য সহকারী নীরবে ছড়িয়ে দিচ্ছে বিষ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে থাকা অনেক অ্যালুমিনিয়ামের প্রেশার কুকার থেকে খাবারে মিশে যেতে পারে ক্ষতিকর ধাতু সিসা (lead), যা শরীরের জন্য চূড়ান্তভাবে ক্ষতিকর।

 

খাঁটি অ্যালুমিনিয়ামে সিসা থাকে না—এই তথ্য যেমন সত্য, তেমনি এটাও ঠিক যে, বাজারে পাওয়া অনেক কুকার তৈরি হয় পুনর্ব্যবহৃত স্ক্র্যাপ অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে। এই ধাতুতে মিশে থাকতে পারে সিসা বা অন্যান্য ভারী ধাতু, যা তাপের সংস্পর্শে খাবারে মিশে যেতে পারে। সমস্যাটি আরও ঘনীভূত হয় যখন কুকারটি পুরনো, আঁচড় পড়া, কিংবা ভিতরের আবরণ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয় যখন টকজাতীয় খাবার (যেমন টমেটো, তেঁতুল বা লেবুর রস) কুকারে রান্না করা হয়—এসিডিক পরিবেশে ক্ষতিকারক ধাতু আরও দ্রুত খাবারে মিশে যায়।

 

সিসা শরীরে জমে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে। এর প্রভাব পড়ে মস্তিষ্ক, কিডনি, হাড়, এমনকি অনাগত শিশুর উপরেও। শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে শেখার সমস্যা, আচরণগত ব্যাধি ও মনঃসংযোগের ঘাটতি। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দেখা দেয় স্মৃতিভ্রংশ, কিডনির জটিলতা ও হাড়ের দুর্বলতা।

 

এই ঝুঁকি থেকে বাঁচতে সবচেয়ে প্রয়োজন সচেতনতা। কুকার কেনার সময় অবশ্যই দেখে নিন সেটি BIS বা ISI সনদপ্রাপ্ত কি না, এবং অজানা কোম্পানি বা অত্যন্ত সস্তা দামে বিক্রি হওয়া পণ্য থেকে দূরে থাকুন। পুরনো বা আঁচড় লাগা কুকার ব্যবহার না করাই ভালো।

 

রান্না শুধু স্বাদের ব্যাপার নয়, এটি স্বাস্থ্য আর নিরাপত্তার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই আজই একবার দেখে নিন আপনার রান্নাঘরের প্রেশার কুকার কতটা নিরাপদ। কারণ খাবারের ভিতরে সিসার মতো নীরব বিষ ঢুকে পড়লে তার মাশুল গুনতে হতে পারে সারাজীবন।

 

সতর্ক থাকুন, সুস্থ থাকুন। রান্নার পাত্রেও লুকিয়ে থাকতে পারে বিপদের ছায়া।