ফরিদপুরের নামেই বিভাগ হতে হবে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দাবিতে এক বুক ভরা স্বপ্ন।
- আপডেট সময় : ০৮:৩৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫ ২৭৯ বার পড়া হয়েছে

গালিব মাহাবুব, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
বাংলার হৃদয়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ফরিদপুর জেলা শুধু একটি ভৌগোলিক এলাকা নয়, এইটা ইতিহাস সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য চিহ্ন। শতাব্দীর পর শতাব্দি ধরে এই অঞ্চল প্রশাসনিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। তাই নতুন প্রস্তাবিত বিভাগের নাম (ফরিদপুর বিভাগ) হওয়াই জনমানুষের দাবি।
পুরনো ইতিহাস তুলে ধরা হলোঃ ফতেহাবাদ থেকে ফরিদপুর। ফরিদপুরের প্রাচীন নাম ছিল ফতেহাবাদ। ধারণা করা হয়, হুসাইন শাহের শাসনামলে এটি ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান শহর। ঐতিহাসিকদের মতে, ফতেহাবাদ নামটি এসেছে লক্ষণাবতীর শাসক জালালউদ্দিন ফতেহ শাহের (১৪৮১–১৪৮৭) নামানুসারে। পরে ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রখ্যাত সুফি সাধক শাহ শেখ ফরিদউদ্দীন মাসউদ (রহ.) এর নামানুসারে এ অঞ্চলের নাম রাখা হয়’ফরিদপুর। তাঁর আধ্যাত্মিক প্রভাব আজও ফরিদপুরবাসীর মনে গভীরভাবে স্থান করে আছে।
প্রশাসনিক যাত্রাঃ জেলা প্রতিষ্ঠা থেকে বর্তমান, ১৭৮৬ সালে (কিছু মতে ১৮১৫ সালে) ব্রিটিশ শাসনামলে ফরিদপুর জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমে এর নাম ছিল ঢাকা জালালপুর, সদর দপ্তর ছিল ঢাকায়। ১৮০৭ সালে সদর দপ্তর স্থানান্তরিত হয় ফরিদপুরে, এবং এখান থেকেই জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়।
বৃহত্তর ফরিদপুরঃ এক’সময় পাঁচ জেলার মিলিত ঐতিহ্য। ফরিদপুর ছিল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম জেলা। এর আওতায় ছিল, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে ১৯৮৪ সালে বৃহত্তর ফরিদপুরকে পাঁচটি স্বতন্ত্র জেলায় ভাগ করা হয়।
ঐতিহাসিক ও সামাজিক গুরুত্ব, ফরিদপুরের ভূমি ছিল ফরায়েজি আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল, যা ঊনবিংশ শতাব্দীর অন্যতম ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলন। এছাড়া এখানে নীল চাষ ও নীল বিদ্রোহের ইতিহাসও রয়েছে, যা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। ফরিদপুর থেকেই উঠে এসেছেন অসংখ্য জাতীয় নেতা, সাহিত্যিক ও সমাজসংস্কারক যাদের অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে জ্বলজ্বলে।
বর্তমান অবস্থান ও আয়তন, বর্তমানে ফরিদপুর জেলার মোট আয়তন প্রায় ২০৭২.৭২ বর্গকিলোমিটার। এ জেলার উত্তরে রাজবাড়ী ও মাগুরা, দক্ষিণে গোপালগঞ্জ, পূর্বে মাদারীপুর ও মানিকগঞ্জ এবং পশ্চিমে ঝিনাইদহ জেলা অবস্থিত। পদ্মা ও গড়াই নদী এই জেলার জীবনীশক্তি হিসেবে পরিচিত।
ফরিদপুরের খেটে খাওয়া ও সাধারণ মানুষের দাবিঃ ফরিদপুর নামেই বিভাগ হোক কারণ ফরিদপুরের এই সমৃদ্ধ ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রশাসনিক গুরুত্ব বিবেচনায় জনমনে একটাই প্রত্যাশা। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের প্রস্তাবিত নতুন বিভাগের নাম হোক (ফরিদপুর বিভাগ) এটাই ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ইতিহাসের প্রতি ন্যায্য দাবি।



















