ঢাকা ১২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সদরপুরে ৩৫টি মণ্ডপে পালিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা, আজ প্রতিমা বিসর্জন বালিয়াকান্দি উপজেলা শালমারা নিশ্চিন্তপুর শালিকী গ্রাম স্কুল মাঠ প্রাঙ্গনে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ‎শিবচরে সড়ক দুর্ঘটনায় বিএনপির নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান নিহত ‎। ফরিদপুরে দেড় কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার দীর্ঘ ১৮৫ বছরের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল ফরিদপুর পৌরসভা। দেশকে অস্থিতিশীল করতে পতিত অপশক্তির দোসররা নানা ষড়যন্ত্র করছে: রিজভী কালিয়াকৈরে আবাসিক হোটেলে অভিযান, নারী পুরুষ সহ ৩৯ জনকে আটক  নগরকান্দায় সারের ডিলার নিয়োগের জেরে যুবদল নেতাকে হাতুড়িপেটা, আহত ৫ ‎ ‎শিবচরে শিরুয়াইল তরুণ ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী নূরুল ইসলাম খলিফার পরিচিতি সভা ‎ ‎ ‎ কালিয়াকৈরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভায়, ১৪৯ মণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে

রায় শুনে আনন্দে কাঁদলেন আহত ও নিহতের স্বজনরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৮:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ৩১১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ইমন চৌধুরী স্টাফ রিপোর্টার

দীর্ঘ প্রতীক্ষা, চোখের নিচে ক্লান্তির রেখা আর বুকভরা হাহাকার—সবকিছুকে ছাপিয়ে আজ আদালত চত্বরে ফুটে উঠল এক ভিন্ন দৃশ্য। ন্যায়বিচারের কাঙ্ক্ষিত রায় ঘোষণার পর আহত ও নিহতদের স্বজনদের মুখে দেখা গেল স্বস্তির আলো, আর সেই আলোর সাথেই ঝরে পড়ল অশ্রু—বেদনার নয়, আনন্দের।

আজ বেলা ১২টার দিকে আদালতের বিচারক মামলার রায় পড়া শুরু করলে পুরো আদালতকক্ষে নেমে আসে নিস্তব্ধতা। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা হাত ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। রায়ে আসামিদের উপযুক্ত শাস্তি ঘোষণার পরপরই স্বজনদের চোখ ভিজে ওঠে আবেগে। কেউ হাত তুলে তাকালেন আকাশের দিকে, কেউ আবার ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “আজ আমাদের কষ্টের কিছুটা হলেও সান্ত্বনা মিলল।”

এক নিহতের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি আমার ছেলেকে আর ফিরে পাব না, কিন্তু আজ অন্তত তার হত্যার বিচার পেলাম। আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া।” আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত তার আত্মীয়স্বজনরা তাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন।

এদিকে আহতদের পরিবারগুলোও রায়ের পর অনুভব করেন এক ধরনের নিরাপত্তা ও সন্তুষ্টি। একজন আহতের ভাই বলেন, “এই রায়ের জন্য আমরা দিনের পর দিন অপেক্ষা করেছি। আজ মনে হচ্ছে, আমাদের কষ্ট আদালত বুঝেছে।”

রায়কে ঘিরে আদালত এলাকায় ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিচার শেষে স্বজনদের অনেকেই বাইরে এসে একে অপরকে আলিঙ্গন করেন। কেউ কেউ দোয়া পাঠ করেন নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে।

আইনজীবীরাও রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি ন্যায়বিচারের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই রায় ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ভূমিকা রাখবে।

বিচার পেয়ে আনন্দে ভাসলেও স্বজনদের চোখে ছিল না পাওয়া মানুষগুলোর শূন্যতার ছাপ। তবু আজকের রায় তাদের মনে কিছুটা হলেও প্রশান্তি এনে দিয়েছে—এই বিশ্বাস নিয়েই আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন সবাই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

রায় শুনে আনন্দে কাঁদলেন আহত ও নিহতের স্বজনরা

আপডেট সময় : ০১:২৮:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

 

ইমন চৌধুরী স্টাফ রিপোর্টার

দীর্ঘ প্রতীক্ষা, চোখের নিচে ক্লান্তির রেখা আর বুকভরা হাহাকার—সবকিছুকে ছাপিয়ে আজ আদালত চত্বরে ফুটে উঠল এক ভিন্ন দৃশ্য। ন্যায়বিচারের কাঙ্ক্ষিত রায় ঘোষণার পর আহত ও নিহতদের স্বজনদের মুখে দেখা গেল স্বস্তির আলো, আর সেই আলোর সাথেই ঝরে পড়ল অশ্রু—বেদনার নয়, আনন্দের।

আজ বেলা ১২টার দিকে আদালতের বিচারক মামলার রায় পড়া শুরু করলে পুরো আদালতকক্ষে নেমে আসে নিস্তব্ধতা। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা হাত ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। রায়ে আসামিদের উপযুক্ত শাস্তি ঘোষণার পরপরই স্বজনদের চোখ ভিজে ওঠে আবেগে। কেউ হাত তুলে তাকালেন আকাশের দিকে, কেউ আবার ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “আজ আমাদের কষ্টের কিছুটা হলেও সান্ত্বনা মিলল।”

এক নিহতের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি আমার ছেলেকে আর ফিরে পাব না, কিন্তু আজ অন্তত তার হত্যার বিচার পেলাম। আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া।” আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত তার আত্মীয়স্বজনরা তাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন।

এদিকে আহতদের পরিবারগুলোও রায়ের পর অনুভব করেন এক ধরনের নিরাপত্তা ও সন্তুষ্টি। একজন আহতের ভাই বলেন, “এই রায়ের জন্য আমরা দিনের পর দিন অপেক্ষা করেছি। আজ মনে হচ্ছে, আমাদের কষ্ট আদালত বুঝেছে।”

রায়কে ঘিরে আদালত এলাকায় ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিচার শেষে স্বজনদের অনেকেই বাইরে এসে একে অপরকে আলিঙ্গন করেন। কেউ কেউ দোয়া পাঠ করেন নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে।

আইনজীবীরাও রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি ন্যায়বিচারের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই রায় ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ভূমিকা রাখবে।

বিচার পেয়ে আনন্দে ভাসলেও স্বজনদের চোখে ছিল না পাওয়া মানুষগুলোর শূন্যতার ছাপ। তবু আজকের রায় তাদের মনে কিছুটা হলেও প্রশান্তি এনে দিয়েছে—এই বিশ্বাস নিয়েই আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন সবাই।