ঢাকা ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিবচরে আধুনিক ডাকবাংলোর শুভ উদ্বোধন সদরপুরে মোবাইল ব্যবসায়ীকে হানিট্র্যাপে ফেলে ১৮ ঘণ্টা জিম্মি ও টাকা লুটের অভিযোগ: ২ নারী আটক শারদীয়া দুর্গাপূজা ষষ্ঠ থেকে দশমি পর্যন্ত পাঁচ দিন ব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত সদরপুরে ৩৫টি মণ্ডপে পালিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা, আজ প্রতিমা বিসর্জন বালিয়াকান্দি উপজেলা শালমারা নিশ্চিন্তপুর শালিকী গ্রাম স্কুল মাঠ প্রাঙ্গনে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ‎শিবচরে সড়ক দুর্ঘটনায় বিএনপির নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান নিহত ‎। ফরিদপুরে দেড় কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার দীর্ঘ ১৮৫ বছরের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল ফরিদপুর পৌরসভা। দেশকে অস্থিতিশীল করতে পতিত অপশক্তির দোসররা নানা ষড়যন্ত্র করছে: রিজভী কালিয়াকৈরে আবাসিক হোটেলে অভিযান, নারী পুরুষ সহ ৩৯ জনকে আটক 

২০০ টাকার বাকবিতণ্ডা থেকে প্রাণহানি! লাথির আঘাতে যুবকের মৃত্যু।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ ৭৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

স্টাফ রিপোর্টার

 

গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার ভোগড়া এলাকায় মাত্র ২০০ টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক হামলার ঘটনায় লিয়ন মিয়া (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর লাথির আঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহিন আলম মাস্টারের বিরুদ্ধে বাসন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত লিয়ন মিয়া বাসন থানার ভোগড়া পেয়ারাবাগান বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘লিয়ন ইলেকট্রনিক্স’ নামে একটি দোকান পরিচালনা করতেন। প্রায় ছয় মাস আগে তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহিন আলম মাস্টারের কাছ থেকে পুরাতন ইলেকট্রনিক তার ক্রয় করেন। ওই তারের মূল্য ছিল এক হাজার টাকা। এর মধ্যে ৮০০ টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি ২০০ টাকা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

 

অভিযোগে বলা হয়, গত ২৩ মে ২০২৬ রাত সাড়ে ৮টার দিকে লিয়ন মিয়া একটি বিকাশ দোকানে টাকা পাঠাতে গেলে অভিযুক্ত শাহিন আলম তার কাছে বকেয়া টাকা দাবি করেন। এ সময় লিয়ন মিয়া তার কেনা তার নষ্ট ছিল উল্লেখ করে বাকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহিন আলম তাকে নাভী ও বুকে পরপর কয়েকটি লাথি মারেন। আঘাতে তিনি ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

 

স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাসায় নেওয়া হলেও রাতভর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরদিন সকালে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

 

তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ২৪ মে দুপুরে গাজীপুর-ঢাকা মহাসড়কের মুকুল চৌধুরী তেল পাম্প এলাকায় পৌঁছালে লিয়ন মিয়া মারা যান বলে পরিবারের দাবি।

 

নিহতের বড় ভাই নাহিদ মিয়া এজাহারে উল্লেখ করেন, তার ভাইয়ের মৃত্যুর পর বাসন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠায়। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আলোচনা শেষে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তুচ্ছ আর্থিক বিরোধ থেকে এমন মর্মান্তিক ঘটনার সৃষ্টি হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে বাসন থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগ গ্রহণ করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তি আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর সেই আঘাতের ফলেই যদি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, তবে ময়নাতদন্ত, চিকিৎসা নথি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে দাঁড়ায়। তদন্তে আঘাত ও মৃত্যুর মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

২০০ টাকার বাকবিতণ্ডা থেকে প্রাণহানি! লাথির আঘাতে যুবকের মৃত্যু।

আপডেট সময় : ০৫:২৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

 

 

স্টাফ রিপোর্টার

 

গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার ভোগড়া এলাকায় মাত্র ২০০ টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক হামলার ঘটনায় লিয়ন মিয়া (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর লাথির আঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহিন আলম মাস্টারের বিরুদ্ধে বাসন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত লিয়ন মিয়া বাসন থানার ভোগড়া পেয়ারাবাগান বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘লিয়ন ইলেকট্রনিক্স’ নামে একটি দোকান পরিচালনা করতেন। প্রায় ছয় মাস আগে তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহিন আলম মাস্টারের কাছ থেকে পুরাতন ইলেকট্রনিক তার ক্রয় করেন। ওই তারের মূল্য ছিল এক হাজার টাকা। এর মধ্যে ৮০০ টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি ২০০ টাকা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

 

অভিযোগে বলা হয়, গত ২৩ মে ২০২৬ রাত সাড়ে ৮টার দিকে লিয়ন মিয়া একটি বিকাশ দোকানে টাকা পাঠাতে গেলে অভিযুক্ত শাহিন আলম তার কাছে বকেয়া টাকা দাবি করেন। এ সময় লিয়ন মিয়া তার কেনা তার নষ্ট ছিল উল্লেখ করে বাকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহিন আলম তাকে নাভী ও বুকে পরপর কয়েকটি লাথি মারেন। আঘাতে তিনি ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

 

স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাসায় নেওয়া হলেও রাতভর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরদিন সকালে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

 

তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ২৪ মে দুপুরে গাজীপুর-ঢাকা মহাসড়কের মুকুল চৌধুরী তেল পাম্প এলাকায় পৌঁছালে লিয়ন মিয়া মারা যান বলে পরিবারের দাবি।

 

নিহতের বড় ভাই নাহিদ মিয়া এজাহারে উল্লেখ করেন, তার ভাইয়ের মৃত্যুর পর বাসন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠায়। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আলোচনা শেষে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তুচ্ছ আর্থিক বিরোধ থেকে এমন মর্মান্তিক ঘটনার সৃষ্টি হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে বাসন থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগ গ্রহণ করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তি আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর সেই আঘাতের ফলেই যদি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, তবে ময়নাতদন্ত, চিকিৎসা নথি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে দাঁড়ায়। তদন্তে আঘাত ও মৃত্যুর মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।