ফরিদপুরে ১৪৪ ধারার আদেশ অমান্য করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ, বাধা দিতে গিয়ে নারীসহ পরিবারের সদস্যরা মারধরের শিকার
- আপডেট সময় : ০৫:৫২:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬ ৮৩ বার পড়া হয়েছে

শরিফুল ইসলাম নোভা
ফরিদপুর সদর উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামে আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারার নোটিশ অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় নির্মাণকাজে বাধা দিতে গেলে মামলার বাদীসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ফরিদপুরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা সদর পিটিশন নং-২৭৩/২০২৬ মামলায় মল্লিকপুর গ্রামের বাসিন্দা কমেলা বেগম বাদী এবং একই গ্রামের চানো শেখ, তারা শেখ, সাগর শেখ, হালিম শেখ, চাম্পা বেগম, টুলি বেগম ও ফুলকি বেগমসহ কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, মল্লিকপুর মৌজার বিএস খতিয়ান নং ২৮৩-এর দাগ নং ৬৫২ ও ৬৬৪-এর মোট ৪৩ শতাংশ জমির মধ্যে ২১ দশমিক ৫০ শতাংশ জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ চলছে। বাদীপক্ষের দাবি, ওই জমি তাদের পৈতৃক ওয়ারিশি সম্পত্তি এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস ও ভোগদখলে রয়েছেন। বিবাদীপক্ষ জোরপূর্বক জমি দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের চেষ্টা করছে বলে আদালতে অভিযোগ করা হয়।
পরে আদালতের নির্দেশে কোতোয়ালী থানা থেকে উভয় পক্ষকে ১৪৪ ধারার নোটিশ প্রদান করা হয়। নোটিশে স্পষ্টভাবে উভয় পক্ষকে বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, আদালতের নির্দেশ মেনে চলা এবং কোনো ধরনের শান্তিভঙ্গমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আগামী ২৯ জুলাই আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশও দেওয়া হয়।
তবে বাদীপক্ষের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ কার্যকর থাকা অবস্থাতেই বিবাদীপক্ষ নোটিশ অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করে। বিষয়টি জানতে পেরে কমেলা বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নির্মাণকাজে বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে বাদী মারধরের শিকার হন এবং পরিবারের আরও কয়েকজন আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই সকল ঘটনার মুলে আছে প্রতিবেশী স্থানীয় বিএনপি নেতা আলমগীর।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের আদেশ অমান্য এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।















