ঢাকা ০২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কানাইপুরে জমি বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলার অভিযোগ, আহত ৩ হাতবদল হয়েই দাম দ্বিগুণ, বিলুপ্তপ্রায় তাল ফলের বাজার চড়া মাদক ও আধিপত্য নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, পুলিশের পিকআপ ভাঙচুর গোয়ালন্দঘাটে ৮.৫৮ লাখ টাকার মাদকসহ চারজন গ্রেপ্তার ফরিদপুরে ভেজালবিরোধী অভিযানে চার প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা উচ্ছেদের পরও ফুটপাত দখলে, প্রশ্ন উঠছে পৌর অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে শিবচরে রেলভূমিতে ‘দখল-বাণিজ্য ধামইরহাটে নারী হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন, দুই আসামি গ্রেফতার ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী ও চালক নিহত কণিকার বাড়িতে গেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস

কানাইপুরে জমি বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলার অভিযোগ, আহত ৩

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৪:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের মালাঙ্গা এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে ঢুকে হামলা, মারধর ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মালাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন (৬৭) বাদী হয়ে ২৫ আগস্ট কোতয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আলমগীর হোসেনের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী জিয়াউর তালুকদার, লিয়াকত তালুকদার, হাসান বিশ্বাস, আরিফ বিশ্বাস, নাঈম বিশ্বাস, রফিক বিশ্বাস, মাহবুব বিশ্বাস ও লিপি বেগমসহ কয়েকজনের বসতবাড়ির সীমানার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে ঘটনার দিন দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে আলমগীর হোসেনের বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, এ সময় অভিযুক্তরা আলমগীর হোসেনকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করতে থাকেন। তার ছোট ছেলে আল-আমিন (৩২) প্রতিবাদ করতে এগিয়ে এলে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়া হয়। পরে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়। এতে আল-আমিন গুরুতর আহত হন।

অভিযোগ অনুযায়ী, বড় ছেলে মোহাম্মাদ আলী (৩৮) ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। বাবাও ছেলেদের রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হামলার সময় অভিযুক্তদের একজন আলমগীর হোসেনের বসতঘরে ঢুকে আলমারির ড্রয়ারে রাখা গরু কেনার জন্য রাখা ৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নিয়ে যান।

অভিযোগে বলা হয়, পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পুনরায় তাদের পেলে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত আল-আমিন ও মোহাম্মাদ আলীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আল-আমিনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আলমগীর হোসেন বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তারা আমাদের বাড়িতে এসে হামলা চালিয়েছে। আমার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ দেওয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

oplus_2

এ বিষয়ে অভিযোগে পাঁচজন প্রত্যক্ষদর্শীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—হাসেম শেখ, দুলাল সরকার, আমেনা বেগম, মুন্নী বেগম ও ছালাম শেখ। এছাড়া আরও কয়েকজন ঘটনার বিষয়ে জানেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আলমগীর হোসেন জানান, ছেলেদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা দেরি হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনার সংবাদ শুনে ৯ নং কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন আলামিন কে দেখতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এব্যাপারে কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান সাংবাদিকদের জানান এই ঘটনার জন্য একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন শেষ হলেই মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

কানাইপুরে জমি বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলার অভিযোগ, আহত ৩

আপডেট সময় : ০৮:৩৪:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের মালাঙ্গা এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে ঢুকে হামলা, মারধর ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মালাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন (৬৭) বাদী হয়ে ২৫ আগস্ট কোতয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আলমগীর হোসেনের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী জিয়াউর তালুকদার, লিয়াকত তালুকদার, হাসান বিশ্বাস, আরিফ বিশ্বাস, নাঈম বিশ্বাস, রফিক বিশ্বাস, মাহবুব বিশ্বাস ও লিপি বেগমসহ কয়েকজনের বসতবাড়ির সীমানার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে ঘটনার দিন দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে আলমগীর হোসেনের বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, এ সময় অভিযুক্তরা আলমগীর হোসেনকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করতে থাকেন। তার ছোট ছেলে আল-আমিন (৩২) প্রতিবাদ করতে এগিয়ে এলে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়া হয়। পরে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়। এতে আল-আমিন গুরুতর আহত হন।

অভিযোগ অনুযায়ী, বড় ছেলে মোহাম্মাদ আলী (৩৮) ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। বাবাও ছেলেদের রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হামলার সময় অভিযুক্তদের একজন আলমগীর হোসেনের বসতঘরে ঢুকে আলমারির ড্রয়ারে রাখা গরু কেনার জন্য রাখা ৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নিয়ে যান।

অভিযোগে বলা হয়, পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পুনরায় তাদের পেলে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত আল-আমিন ও মোহাম্মাদ আলীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আল-আমিনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আলমগীর হোসেন বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তারা আমাদের বাড়িতে এসে হামলা চালিয়েছে। আমার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ দেওয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

oplus_2

এ বিষয়ে অভিযোগে পাঁচজন প্রত্যক্ষদর্শীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—হাসেম শেখ, দুলাল সরকার, আমেনা বেগম, মুন্নী বেগম ও ছালাম শেখ। এছাড়া আরও কয়েকজন ঘটনার বিষয়ে জানেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আলমগীর হোসেন জানান, ছেলেদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা দেরি হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনার সংবাদ শুনে ৯ নং কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন আলামিন কে দেখতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এব্যাপারে কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান সাংবাদিকদের জানান এই ঘটনার জন্য একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন শেষ হলেই মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন।