ধামইরহাটে নারী হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন, দুই আসামি গ্রেফতার
- আপডেট সময় : ০১:২৪:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

মোকছেদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার (নওগাঁ)
নওগাঁর ধামইরহাটে মেরিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীকে হত্যার পর মরদেহে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বেল্ট ও ভিকটিমের জুতার ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতার আসামিরা হলেন—ধামইরহাট উপজেলার মড়লই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাবুল হোসেন (৪৯) এবং একই গ্রামের মো. তারেক রহমান (২১)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় ধামইরহাট উপজেলার আগ্রাদ্বিগুন ইউনিয়নের তালপুকুর মাহমুদপুর (ভালকাডাঙ্গা) এলাকায় একটি আমবাগানের গভীর জঙ্গলে আগুনে পোড়া এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। খবর পেয়ে ধামইরহাট থানা ও পত্নীতলা সার্কেলের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে নিখোঁজ মেরিনা বেগমের ছেলে কাউসার আলী মরদেহটি তার মায়ের বলে শনাক্ত করেন।
ঘটনাটি ক্লুলেস হওয়ায় পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় তদন্ত ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ ও ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টুর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে প্রথমে বাবুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারেক রহমানকেও গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার দুই আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত বেল্ট ও ভিকটিমের জুতার ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আরও দুইজন জড়িত রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, মেরিনা বেগমের সঙ্গে বাবুল হোসেনের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহের পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য দ্রুততম সময়ে উদঘাটন করে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরাধ দমনে নওগাঁ জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং অপরাধ প্রতিরোধে সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।



















