কিছু মানুষ হারিয়ে যাওয়ার পরই তাদের মূল্য বোঝা যায়
- আপডেট সময় : ০৭:৩৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ২৭৪ বার পড়া হয়েছে

লেখক সুকান্ত চন্দ্র রায়, সমাজকর্মী ফরিদপুর
কখনো ভেবে দেখেছেন, আজ যে মানুষটিকে আপনার জীবনের খুব স্বাভাবিক অংশ মনে হচ্ছে, একদিন তার অনুপস্থিতিই হয়তো আপনার সবচেয়ে বড় শূন্যতা হয়ে দাঁড়াবে?
আজ যে মানুষটি আপনার ফোন ধরে, আপনার ভুল ক্ষমা করে, আপনার জন্য অপেক্ষা করে, হয়তো একদিন তার কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগটুকুও থাকবে না।
তখন বুঝবেন, কিছু মানুষকে আমরা হারাই না, আমরা তাদের মূল্য বুঝতে দেরি করি।
আমরা মানুষের ভালোবাসা ও যত্নকে অনেক সময় অভ্যাস হিসেবে নিয়ে নিই। কারও প্রতিদিনের ফোন, কারও নীরব সহযোগিতা, কারও ছোট্ট প্রশ্ন, “কেমন আছো?” এসব এত স্বাভাবিক হয়ে যায় যে, এর ভেতরের ভালোবাসাটুকু আর দেখতে পাই না।
অথচ ছোট ছোট এই যত্নগুলোই জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
কেউ যখন আপনার জন্য সময় দেয়, সে শুধু সময় দেয় না, তার জীবনের একটি অংশ আপনাকে দেয়।
কেউ আপনার খারাপ সময়ে পাশে থাকলে, সে শুধু পাশে দাঁড়ায় না, আপনার ভেঙে পড়া মনটাকেও ধরে রাখে।
তাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সঠিক সময় হলো এখনই।
যাকে ভালোবাসেন, তাকে বলুন। যে আপনাকে সাহায্য করেছে, তাকে ধন্যবাদ দিন। যে কঠিন সময়ে পাশে ছিল, তাকে জানান, আপনি তার অবদান ভুলে যাননি।
কারণ মানুষ অনেক কথা ভুলে যায়, কিন্তু কেউ তাকে হৃদয় দিয়ে মূল্য দিয়েছিল, এই অনুভূতি সহজে ভুলে না।
কৃতজ্ঞতা মানে জীবনে কোনো কষ্ট নেই, এমন নয়। বরং কষ্টের মধ্যেও শিক্ষা খুঁজে পাওয়া, হারানোর মধ্যেও উপলব্ধি খুঁজে পাওয়া।
কিছু মানুষ আমাদের সুখ দিয়েছে, আর কিছু মানুষ আমাদের শিক্ষা দিয়েছে। কিছু দরজা সুযোগ দিয়েছে, আবার কিছু বন্ধ দরজা আমাদের ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে এনেছে।
তাই জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ের প্রতিই কৃতজ্ঞ হতে শিখুন।
নিজের সাফল্যের দিকে তাকিয়ে কখনো ভাববেন না, “আমি একাই করেছি।”
বরং মনে রাখুন, আপনার পথচলায় অনেক মানুষের হাত ছিল। বাবা-মা, শিক্ষক, বন্ধু, সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, এমনকি এমন কিছু মানুষও, যাদের একটি কথাই হয়তো আপনাকে বদলে দিয়েছে।
যে মানুষ নিজের সাফল্যের পেছনে থাকা মানুষগুলোকে মনে রাখে, সে-ই সত্যিকারের বড় মানুষ।
আজ একটু থামুন। নিজের জীবনটার দিকে তাকান।
কত মানুষ আপনাকে ভালোবেসেছে, কত মানুষ ক্ষমা করেছে, কত মানুষ আপনার জন্য দোয়া করেছে, কতবার জীবন আপনাকে নতুন করে শুরু করার সুযোগ দিয়েছে।
তারপর নিজেকে প্রশ্ন করুন:
“আমি কি সত্যিই কম পেয়েছি, নাকি আমার পাওয়া জিনিসগুলোর মূল্য বুঝতে ভুলে গেছি?”
সব সম্পদের হিসাব ব্যাংক ব্যালেন্সে থাকে না। কিছু সম্পদের মূল্য বোঝা যায় হৃদয়ে।
একটি পরিবার, একজন সত্যিকারের বন্ধু, একটি নিরাপদ ঘর, সুস্থভাবে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ, আবার শুরু করার একটি সুযোগ, এগুলোও জীবনের বিশাল সম্পদ।
শেষ পর্যন্ত মানুষ কত টাকা রেখে গেল, কত বড় পদ পেল, কত সম্পদ অর্জন করল, সেটিই সবচেয়ে বড় হিসাব নয়।
সবচেয়ে বড় হিসাব হলো, সে কত মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা, সম্মান ও কৃতজ্ঞতার জায়গা তৈরি করে যেতে পেরেছে।
তাই আরও কিছু পাওয়ার আগে, যা পেয়েছেন তার দিকে একবার তাকান।
আর যাদের কারণে আপনার পথটা একটু সহজ হয়েছে, তাদের কথা মনে করুন।
হয়তো আপনার একটি “ধন্যবাদ” কারও বহুদিনের অভিমান ভেঙে দেবে। হয়তো একটি সম্পর্ক আবার বেঁচে উঠবে।
মনে রাখবেন,
জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাচুর্য বেশি পাওয়া নয়, যা পেয়েছি তার মূল্য বুঝতে পারা।
শেষ পর্যন্ত জীবন শুধু আমাদের কী দিয়েছে, সেই হিসাব রাখে না। জীবন এটাও দেখে, আমরা যা পেয়েছিলাম, তার প্রতি কতটা কৃতজ্ঞ ছিলাম।


















