ঢাকা ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ভুতুড়ে বিলের প্রতিবাদে ফরিদপুরে মিছিল, জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি অসুবিধা ও অব্যবস্থাপনায় জরাজীর্ণ ফরিদপুরের আড়াইরশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার বদলে ‘প্রাইভেট বাণিজ্য’, অবহেলায় বঞ্চিত কোমলমতি শিশুরা ইলিয়াস আলীকে ‘দ্বিতীয় চেষ্টায়’ জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে অপহরণ: চিফ প্রসিকিউটর ফরিদপুর জেলা পরিষদ ও বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা পরিদর্শন করলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব ৩০ বছরের ভোগান্তি, বসতভিটা রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান দিনমজুর নুরুল ইসলাম ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি, পৌর কর্তৃপক্ষের সরেজমিন পরিদর্শনের আহ্বান কালিয়াকৈরে জাল রাজস্ব স্ট্যাম্প ব্যবহার করে ২৫ লক্ষ টাকার নকল সিগারেট জব্দ আটক ২ জন মোট চার দিনের ছুটিতে প্রিয়জনের সঙ্গে ছুটি উপভোগ করার জন্য উত্তরবঙ্গের পথে ছুটছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মান্দায় অভিযান: ২২০ লিটার চোলাই মদ তৈরির উপকরণসহ একজন গ্রেফতার সীমান্ত থেকে ৯৪.৭৫০ কেজি ওজনের দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার

অসুবিধা ও অব্যবস্থাপনায় জরাজীর্ণ ফরিদপুরের আড়াইরশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার বদলে ‘প্রাইভেট বাণিজ্য’, অবহেলায় বঞ্চিত কোমলমতি শিশুরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Oplus_16908288

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

শিমুল তালুকদার, সদরপুর (ফরিদপুর):

পানের সুপেয় পানি নেই, নেই শৌচাগারের ব্যবস্থা, এমনকি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য নেই কোনো খেলার মাঠও। ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আড়াইরশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি। নানা অব্যবস্থাপনার সাথে যুক্ত হয়েছে শিক্ষকদের পাঠদানে চরম অবহেলা ও অনিয়ন্ত্রিত প্রাইভেট বাণিজ্যের মহোৎসব। যার ফলে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিদ্যালয়টির কোমলমতি শিশুরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আড়াইরশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শ্রেণি কক্ষে সাধারণ পাঠদানের চেয়ে প্রাইভেট পড়াতেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। সরকারি নিয়মানুযায়ী নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অর্থের বিনিময়ে প্রাইভেট পড়ানোর কোনো সুযোগ না থাকলেও, সব নিয়ম-নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে চলছে শিক্ষার্থী পাওয়ার প্রতিযোগিতা। কেউ নিজ বাড়িতে, আবার কেউ বিদ্যালয়ের পাশেই বাসা ভাড়া নিয়ে গড়ে তুলেছেন প্রাইভেট কোচিং বাণিজ্য।

স্থানীয় এক অভিভাবক আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “এই বিদ্যালয়ের প্রায় সব শিক্ষকের বাড়ি এই গ্রামেই। স্থানীয় প্রভাব থাকায় তারা কোনো সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা করেন না, চলেন নিজেদের ইচ্ছামতো।”

অন্যান্য অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে দৈনিক সাত-আট ঘণ্টা অবস্থান করেও যেখানে শিশুরা ঠিকমতো পড়ালেখা শিখতে পারছে না, সেখানে মাত্র ৫০ মিনিট বা ১ ঘণ্টার প্রাইভেটে কীভাবে সব পড়া শেষ হয়ে যাচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পড়ালেখার পরিবেশ ও মূল পাঠদান বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে কোমলমতি শিশুরা কোচিংয়ের দিকেই ঝুঁকছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টি শিক্ষার পরিবেশ হারিয়ে যেন এক ‘প্রাইভেট বাণিজ্যের কারখানায়’ পরিণত হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষকদের অনিয়ম, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (এসএমসি) চরম অবজ্ঞা এবং স্থানীয় শিক্ষা বিভাগের উদাসীনতার কারণেই বিদ্যালয়টির শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। মৌলিক সুবিধার অভাব আর শিক্ষকদের বাণিজ্যিক মানসিকতায় নষ্ট হচ্ছে এলাকার প্রাথমিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ।

এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নসহ শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পাঠদান ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষকদের বেপরোয়া প্রাইভেট বাণিজ্য বন্ধে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

 

ছবি সংযুক্ত

শিমুল তালুকদার

সদরপুর, ফরিদপুর

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

অসুবিধা ও অব্যবস্থাপনায় জরাজীর্ণ ফরিদপুরের আড়াইরশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার বদলে ‘প্রাইভেট বাণিজ্য’, অবহেলায় বঞ্চিত কোমলমতি শিশুরা

আপডেট সময় : ০৫:৪৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

 

 

শিমুল তালুকদার, সদরপুর (ফরিদপুর):

পানের সুপেয় পানি নেই, নেই শৌচাগারের ব্যবস্থা, এমনকি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য নেই কোনো খেলার মাঠও। ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আড়াইরশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি। নানা অব্যবস্থাপনার সাথে যুক্ত হয়েছে শিক্ষকদের পাঠদানে চরম অবহেলা ও অনিয়ন্ত্রিত প্রাইভেট বাণিজ্যের মহোৎসব। যার ফলে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিদ্যালয়টির কোমলমতি শিশুরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আড়াইরশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শ্রেণি কক্ষে সাধারণ পাঠদানের চেয়ে প্রাইভেট পড়াতেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। সরকারি নিয়মানুযায়ী নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অর্থের বিনিময়ে প্রাইভেট পড়ানোর কোনো সুযোগ না থাকলেও, সব নিয়ম-নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে চলছে শিক্ষার্থী পাওয়ার প্রতিযোগিতা। কেউ নিজ বাড়িতে, আবার কেউ বিদ্যালয়ের পাশেই বাসা ভাড়া নিয়ে গড়ে তুলেছেন প্রাইভেট কোচিং বাণিজ্য।

স্থানীয় এক অভিভাবক আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “এই বিদ্যালয়ের প্রায় সব শিক্ষকের বাড়ি এই গ্রামেই। স্থানীয় প্রভাব থাকায় তারা কোনো সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা করেন না, চলেন নিজেদের ইচ্ছামতো।”

অন্যান্য অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে দৈনিক সাত-আট ঘণ্টা অবস্থান করেও যেখানে শিশুরা ঠিকমতো পড়ালেখা শিখতে পারছে না, সেখানে মাত্র ৫০ মিনিট বা ১ ঘণ্টার প্রাইভেটে কীভাবে সব পড়া শেষ হয়ে যাচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পড়ালেখার পরিবেশ ও মূল পাঠদান বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে কোমলমতি শিশুরা কোচিংয়ের দিকেই ঝুঁকছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টি শিক্ষার পরিবেশ হারিয়ে যেন এক ‘প্রাইভেট বাণিজ্যের কারখানায়’ পরিণত হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষকদের অনিয়ম, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (এসএমসি) চরম অবজ্ঞা এবং স্থানীয় শিক্ষা বিভাগের উদাসীনতার কারণেই বিদ্যালয়টির শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। মৌলিক সুবিধার অভাব আর শিক্ষকদের বাণিজ্যিক মানসিকতায় নষ্ট হচ্ছে এলাকার প্রাথমিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ।

এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নসহ শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পাঠদান ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষকদের বেপরোয়া প্রাইভেট বাণিজ্য বন্ধে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

 

ছবি সংযুক্ত

শিমুল তালুকদার

সদরপুর, ফরিদপুর