ঢাকা ১১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রক্তদান কর্মসূচি বিশিষ্ট নজরুল সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে ‘সোহানা আন্তর্জাতিক ব্যবসা পুরস্কার-২০২৬’ অর্জন করলেন- ফরিদপুররের লতা জেলা পরিষদ প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশকে ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাবের জন্মদিনের শুভেচ্ছা পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাবের শুভেচ্ছা বার্তা পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন ফরিদপুর মটর ওয়ার্কার্স (১০৫৫) শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ফরিদপুর সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন নায়াব ইউসুফ ফরিদপুরবাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন জসিম হাওলাদার কৈজুরীবাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন যুবদল নেতা সুমন শেখ নজরুল সংগীতে মুগ্ধতা ছড়ালেন ফরিদপুরের ‘লাইলি খালা’ বটিয়াঘাটায় প্রতারক নারী জৌলুস ইসহাক নাজমা দম্পতি গ্রেফতার

চাঞ্চল্যকর জামাল হত্যার মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার দুইজন। 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৯:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ ১৭২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোহাম্মদ রুহুল আমিন ভূঁইয়া 

স্টাফ রিপোর্টার 

 

বেনাপোল থেকে এনামুল হকঃবেনাপোল সীমান্তের শার্শা উপজেলায় ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস জামাল হোসেন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে দুই আসামিকে। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী জাহিদ হাসানের পর এবার ধরা পড়েছে সহযোগী আমানতউল্লাহ।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে নাভারন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিশাত আল নাহিয়ান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি জানান, নিহত জামাল হোসেন (৩০) মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্ত থেকে ফেনসিডিল এনে শার্শা ও বেনাপোল পোর্ট থানার বিভিন্ন মাদক কারবারীদের কাছে পৌঁছে দিতেন। এই চক্রে তার সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন প্রতিবেশী জাহিদ হাসান।

হত্যাকাণ্ডের দিন, ৩০ মার্চ ২০২৫, সন্ধ্যায় জামাল ও জাহিদ মাদক ব্যবসায়ী মিন্টুর বাড়িতে গিয়ে ১৫০ বোতল ফেনসিডিল সংগ্রহ করে। পরে মিন্টুর মোটরসাইকেলযোগে বারোপোতার দিকে যাওয়ার পথে গোগার ইছাপুর এলাকার শফির ইটভাটার সামনে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ওঁত পেতে থাকা জাহিদের সহযোগীরা—হাফিজুল, আমানতউল্লাহ, জুম্মান, বিল্লাল, আলাউদ্দীন ও অজ্ঞাত আরও কয়েকজন—তাদের গতিরোধের চেষ্টা করে।

ভিকটিম জামাল গতি বাড়িয়ে পালাতে চাইলে পেছনে বসা জাহিদ কাঠের চলা দিয়ে জামালের মাথায় আঘাত করে। এতে জামাল মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান একটি গর্তে। এরপর আসামিরা কাঠের চলা, রামদা ও চাকু দিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরদিন, ৩১ মার্চ সকালে শার্শা থানা পুলিশ গোগা ইউনিয়নের ইছাপুর গ্রামের শফির ইটভাটার সামনে থেকে জামালের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত জামাল সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কাঁদপুর এলাকার আয়ুব হোসেনের ছেলে।

ঘটনার ক্লু উদঘাটনে মাঠে নামে শার্শা থানা পুলিশ। এরপর অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) উজ্জ্বল হোসেনের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করে ৪ এপ্রিল ভোররাতে অভিযান চালিয়ে বেনাপোল থানার বারোপোতা এলাকা থেকে আমানতউল্লাহ (২৫) ও সাতক্ষীরার কাঁদপুর এলাকা থেকে জাহিদ হাসান (২৫) কে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতদের জবানবন্দিতে উঠে আসে হত্যার পেছনের আসল উদ্দেশ্য—মাদক ছিনতাই এবং পূর্বশত্রুতা। ঘটনাস্থল থেকে একটি (apache 4v) (এ্যাপাসি ৪ভি) মোটরসাইকেল, তিনটি কাঠের চলা, একটি বাটন মোবাইল, একটি টর্চ লাইট ও দুই জোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চাঞ্চল্যকর জামাল হত্যার মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার দুইজন। 

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫

মোহাম্মদ রুহুল আমিন ভূঁইয়া 

স্টাফ রিপোর্টার 

 

বেনাপোল থেকে এনামুল হকঃবেনাপোল সীমান্তের শার্শা উপজেলায় ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস জামাল হোসেন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে দুই আসামিকে। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী জাহিদ হাসানের পর এবার ধরা পড়েছে সহযোগী আমানতউল্লাহ।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে নাভারন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিশাত আল নাহিয়ান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি জানান, নিহত জামাল হোসেন (৩০) মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্ত থেকে ফেনসিডিল এনে শার্শা ও বেনাপোল পোর্ট থানার বিভিন্ন মাদক কারবারীদের কাছে পৌঁছে দিতেন। এই চক্রে তার সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন প্রতিবেশী জাহিদ হাসান।

হত্যাকাণ্ডের দিন, ৩০ মার্চ ২০২৫, সন্ধ্যায় জামাল ও জাহিদ মাদক ব্যবসায়ী মিন্টুর বাড়িতে গিয়ে ১৫০ বোতল ফেনসিডিল সংগ্রহ করে। পরে মিন্টুর মোটরসাইকেলযোগে বারোপোতার দিকে যাওয়ার পথে গোগার ইছাপুর এলাকার শফির ইটভাটার সামনে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ওঁত পেতে থাকা জাহিদের সহযোগীরা—হাফিজুল, আমানতউল্লাহ, জুম্মান, বিল্লাল, আলাউদ্দীন ও অজ্ঞাত আরও কয়েকজন—তাদের গতিরোধের চেষ্টা করে।

ভিকটিম জামাল গতি বাড়িয়ে পালাতে চাইলে পেছনে বসা জাহিদ কাঠের চলা দিয়ে জামালের মাথায় আঘাত করে। এতে জামাল মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান একটি গর্তে। এরপর আসামিরা কাঠের চলা, রামদা ও চাকু দিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরদিন, ৩১ মার্চ সকালে শার্শা থানা পুলিশ গোগা ইউনিয়নের ইছাপুর গ্রামের শফির ইটভাটার সামনে থেকে জামালের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত জামাল সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কাঁদপুর এলাকার আয়ুব হোসেনের ছেলে।

ঘটনার ক্লু উদঘাটনে মাঠে নামে শার্শা থানা পুলিশ। এরপর অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) উজ্জ্বল হোসেনের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করে ৪ এপ্রিল ভোররাতে অভিযান চালিয়ে বেনাপোল থানার বারোপোতা এলাকা থেকে আমানতউল্লাহ (২৫) ও সাতক্ষীরার কাঁদপুর এলাকা থেকে জাহিদ হাসান (২৫) কে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতদের জবানবন্দিতে উঠে আসে হত্যার পেছনের আসল উদ্দেশ্য—মাদক ছিনতাই এবং পূর্বশত্রুতা। ঘটনাস্থল থেকে একটি (apache 4v) (এ্যাপাসি ৪ভি) মোটরসাইকেল, তিনটি কাঠের চলা, একটি বাটন মোবাইল, একটি টর্চ লাইট ও দুই জোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।