ঢাকা ১০:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মিরাজ শেখের ১০ বছরের কারাদণ্ড ১৭ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাবের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের কল্যাণ, ঐক্য ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ শোক সংবাদ ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল হবে ২৫০ শয্যার, নির্মাণের উদ্যোগ ১৫ তলা আধুনিক ভবনের পত্নীতলায় জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শিবচরে যুবলীগ নেতার দাপট, ভয়-ভীতি ও মারধর করে জমি দখলের অভিযোগ সদরপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত অভিযুক্তের বাড়ির সামনেই ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা নেওয়া ও বাড়ি বিক্রির কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বালিয়াকান্দিতে দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ফরিদপুরে বিএসটিআইয়ের অভিযান, ফিলিং স্টেশনের ৫ ডিসপেন্সিং ইউনিট সিলগালা

চাঞ্চল্যকর জামাল হত্যার মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার দুইজন। 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৯:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ ২০৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোহাম্মদ রুহুল আমিন ভূঁইয়া 

স্টাফ রিপোর্টার 

 

বেনাপোল থেকে এনামুল হকঃবেনাপোল সীমান্তের শার্শা উপজেলায় ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস জামাল হোসেন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে দুই আসামিকে। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী জাহিদ হাসানের পর এবার ধরা পড়েছে সহযোগী আমানতউল্লাহ।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে নাভারন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিশাত আল নাহিয়ান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি জানান, নিহত জামাল হোসেন (৩০) মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্ত থেকে ফেনসিডিল এনে শার্শা ও বেনাপোল পোর্ট থানার বিভিন্ন মাদক কারবারীদের কাছে পৌঁছে দিতেন। এই চক্রে তার সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন প্রতিবেশী জাহিদ হাসান।

হত্যাকাণ্ডের দিন, ৩০ মার্চ ২০২৫, সন্ধ্যায় জামাল ও জাহিদ মাদক ব্যবসায়ী মিন্টুর বাড়িতে গিয়ে ১৫০ বোতল ফেনসিডিল সংগ্রহ করে। পরে মিন্টুর মোটরসাইকেলযোগে বারোপোতার দিকে যাওয়ার পথে গোগার ইছাপুর এলাকার শফির ইটভাটার সামনে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ওঁত পেতে থাকা জাহিদের সহযোগীরা—হাফিজুল, আমানতউল্লাহ, জুম্মান, বিল্লাল, আলাউদ্দীন ও অজ্ঞাত আরও কয়েকজন—তাদের গতিরোধের চেষ্টা করে।

ভিকটিম জামাল গতি বাড়িয়ে পালাতে চাইলে পেছনে বসা জাহিদ কাঠের চলা দিয়ে জামালের মাথায় আঘাত করে। এতে জামাল মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান একটি গর্তে। এরপর আসামিরা কাঠের চলা, রামদা ও চাকু দিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরদিন, ৩১ মার্চ সকালে শার্শা থানা পুলিশ গোগা ইউনিয়নের ইছাপুর গ্রামের শফির ইটভাটার সামনে থেকে জামালের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত জামাল সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কাঁদপুর এলাকার আয়ুব হোসেনের ছেলে।

ঘটনার ক্লু উদঘাটনে মাঠে নামে শার্শা থানা পুলিশ। এরপর অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) উজ্জ্বল হোসেনের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করে ৪ এপ্রিল ভোররাতে অভিযান চালিয়ে বেনাপোল থানার বারোপোতা এলাকা থেকে আমানতউল্লাহ (২৫) ও সাতক্ষীরার কাঁদপুর এলাকা থেকে জাহিদ হাসান (২৫) কে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতদের জবানবন্দিতে উঠে আসে হত্যার পেছনের আসল উদ্দেশ্য—মাদক ছিনতাই এবং পূর্বশত্রুতা। ঘটনাস্থল থেকে একটি (apache 4v) (এ্যাপাসি ৪ভি) মোটরসাইকেল, তিনটি কাঠের চলা, একটি বাটন মোবাইল, একটি টর্চ লাইট ও দুই জোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চাঞ্চল্যকর জামাল হত্যার মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার দুইজন। 

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫

মোহাম্মদ রুহুল আমিন ভূঁইয়া 

স্টাফ রিপোর্টার 

 

বেনাপোল থেকে এনামুল হকঃবেনাপোল সীমান্তের শার্শা উপজেলায় ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস জামাল হোসেন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে দুই আসামিকে। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী জাহিদ হাসানের পর এবার ধরা পড়েছে সহযোগী আমানতউল্লাহ।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে নাভারন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিশাত আল নাহিয়ান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি জানান, নিহত জামাল হোসেন (৩০) মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্ত থেকে ফেনসিডিল এনে শার্শা ও বেনাপোল পোর্ট থানার বিভিন্ন মাদক কারবারীদের কাছে পৌঁছে দিতেন। এই চক্রে তার সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন প্রতিবেশী জাহিদ হাসান।

হত্যাকাণ্ডের দিন, ৩০ মার্চ ২০২৫, সন্ধ্যায় জামাল ও জাহিদ মাদক ব্যবসায়ী মিন্টুর বাড়িতে গিয়ে ১৫০ বোতল ফেনসিডিল সংগ্রহ করে। পরে মিন্টুর মোটরসাইকেলযোগে বারোপোতার দিকে যাওয়ার পথে গোগার ইছাপুর এলাকার শফির ইটভাটার সামনে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ওঁত পেতে থাকা জাহিদের সহযোগীরা—হাফিজুল, আমানতউল্লাহ, জুম্মান, বিল্লাল, আলাউদ্দীন ও অজ্ঞাত আরও কয়েকজন—তাদের গতিরোধের চেষ্টা করে।

ভিকটিম জামাল গতি বাড়িয়ে পালাতে চাইলে পেছনে বসা জাহিদ কাঠের চলা দিয়ে জামালের মাথায় আঘাত করে। এতে জামাল মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান একটি গর্তে। এরপর আসামিরা কাঠের চলা, রামদা ও চাকু দিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরদিন, ৩১ মার্চ সকালে শার্শা থানা পুলিশ গোগা ইউনিয়নের ইছাপুর গ্রামের শফির ইটভাটার সামনে থেকে জামালের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত জামাল সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কাঁদপুর এলাকার আয়ুব হোসেনের ছেলে।

ঘটনার ক্লু উদঘাটনে মাঠে নামে শার্শা থানা পুলিশ। এরপর অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) উজ্জ্বল হোসেনের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করে ৪ এপ্রিল ভোররাতে অভিযান চালিয়ে বেনাপোল থানার বারোপোতা এলাকা থেকে আমানতউল্লাহ (২৫) ও সাতক্ষীরার কাঁদপুর এলাকা থেকে জাহিদ হাসান (২৫) কে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতদের জবানবন্দিতে উঠে আসে হত্যার পেছনের আসল উদ্দেশ্য—মাদক ছিনতাই এবং পূর্বশত্রুতা। ঘটনাস্থল থেকে একটি (apache 4v) (এ্যাপাসি ৪ভি) মোটরসাইকেল, তিনটি কাঠের চলা, একটি বাটন মোবাইল, একটি টর্চ লাইট ও দুই জোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।