ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মিরাজ শেখের ১০ বছরের কারাদণ্ড ১৭ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাবের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের কল্যাণ, ঐক্য ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ শোক সংবাদ ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল হবে ২৫০ শয্যার, নির্মাণের উদ্যোগ ১৫ তলা আধুনিক ভবনের পত্নীতলায় জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শিবচরে যুবলীগ নেতার দাপট, ভয়-ভীতি ও মারধর করে জমি দখলের অভিযোগ সদরপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত অভিযুক্তের বাড়ির সামনেই ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা নেওয়া ও বাড়ি বিক্রির কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বালিয়াকান্দিতে দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ফরিদপুরে বিএসটিআইয়ের অভিযান, ফিলিং স্টেশনের ৫ ডিসপেন্সিং ইউনিট সিলগালা

মৃত্যুফাঁদের নাম ‘চায়না দুয়ারি’: নীরব ধ্বংসের মুখে দেশি মাছের অভয়াশ্রম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৬:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ১৫২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

​শিমুল তালুকদার, সদরপুর থেকে

​ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদ-নদীতে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’ জালের অবাধ ব্যবহারে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। নদী ও খালের রেনু-পোনা থেকে শুরু করে প্রজননক্ষম মা মাছ কিংবা জলজ প্রাণী—কোনো কিছুই রক্ষা পাচ্ছে না এই কারেন্ট জালের চাইতেও ক্ষতিকর জাল থেকে। ফলে উপজেলার প্রাকৃতিক মৎস্য অভয়াশ্রমগুলো এখন মারাত্মক হুমকির মুখে।
​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন নদী-নালা ও খালে অবাধে পোনা ও মা মাছ শিকার চলছে। আকোটেরচর স্লুইসগেট খালে বাঁশের শক্ত বাঁধ তৈরি করে নিচে ‘রাক্ষুসে জাল’ পেতে মাছ শিকারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের খেজুরতলা নদী এবং ভাষাণচর ইউনিয়নের ভূবনেশ্বর নদের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রকাশ্যে চায়না দুয়ারী, ভেসাল ও ক্ষতিকর রিং জাল পেতে রাখা হয়েছে। আইনের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রশাসনের কার্যকর তদারকি না থাকায় এসব নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার দিন দিন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।
​উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে গিয়ে দেখা গেছে আরও ভয়াবহ দৃশ্য। স্থানীয় বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ ছোট সাইজের পোনা মাছ। পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় অসাধু জেলে ও ব্যবসায়ীরা পোনা মাছ নিধনের মহোৎসবে মেতে উঠেছে।
​মাছ শিকারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন জেলেরা। ঢেউখালী ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের প্রবীণ জেলে জলিল মুন্সী বলেন, “আড়িয়াল খাঁ নদীতে এখন আর আগের মতো মাছ নেই। নতুন পানি আসার সাথে সাথেই অসাধু চক্র চায়না দুয়ারীসহ নানা রাক্ষুসে জাল দিয়ে রেনু-পোনা ধ্বংস করে ফেলছে। এদের এখনই না থামালে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছের মুখ আর দেখা যাবে না।”
​আকোটের চর ইউনিয়নের পদ্মার তীরবর্তী ছলেনামা গ্রামের আরেক জেলে আজাহার শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “চায়না দুয়ারীর ফাঁস এতটাই সূক্ষ্ম যে, একবার পানিতে ফেললে মাছের ছোট পোনা তো দূরের কথা, অন্য কোনো জলজ প্রাণীও বের হতে পারে না। মাঝে মাঝে প্রশাসনের অভিযান চলায়, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এই জালের বাজারজাতকরণ ও তৈরির উৎস বন্ধ না করলে এবং নদীতে নিয়মিত নজরদারি না বাড়ালে নদী ফাঁকা হয়ে যাবে।”
​স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কিছু জাল ধ্বংস ও আড়াআড়ি বাঁধ উচ্ছেদ করা হলেও তা এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় অতি সামান্য।
আগামীতে দেশিয় প্রজাতির মাছ রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নিবেন এমন প্রত্যাসা সদরপুর উপজেলা বাসীর।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

মৃত্যুফাঁদের নাম ‘চায়না দুয়ারি’: নীরব ধ্বংসের মুখে দেশি মাছের অভয়াশ্রম

আপডেট সময় : ০৩:২৬:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

 

​শিমুল তালুকদার, সদরপুর থেকে

​ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদ-নদীতে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’ জালের অবাধ ব্যবহারে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। নদী ও খালের রেনু-পোনা থেকে শুরু করে প্রজননক্ষম মা মাছ কিংবা জলজ প্রাণী—কোনো কিছুই রক্ষা পাচ্ছে না এই কারেন্ট জালের চাইতেও ক্ষতিকর জাল থেকে। ফলে উপজেলার প্রাকৃতিক মৎস্য অভয়াশ্রমগুলো এখন মারাত্মক হুমকির মুখে।
​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন নদী-নালা ও খালে অবাধে পোনা ও মা মাছ শিকার চলছে। আকোটেরচর স্লুইসগেট খালে বাঁশের শক্ত বাঁধ তৈরি করে নিচে ‘রাক্ষুসে জাল’ পেতে মাছ শিকারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের খেজুরতলা নদী এবং ভাষাণচর ইউনিয়নের ভূবনেশ্বর নদের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রকাশ্যে চায়না দুয়ারী, ভেসাল ও ক্ষতিকর রিং জাল পেতে রাখা হয়েছে। আইনের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রশাসনের কার্যকর তদারকি না থাকায় এসব নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার দিন দিন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।
​উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে গিয়ে দেখা গেছে আরও ভয়াবহ দৃশ্য। স্থানীয় বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ ছোট সাইজের পোনা মাছ। পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় অসাধু জেলে ও ব্যবসায়ীরা পোনা মাছ নিধনের মহোৎসবে মেতে উঠেছে।
​মাছ শিকারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন জেলেরা। ঢেউখালী ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের প্রবীণ জেলে জলিল মুন্সী বলেন, “আড়িয়াল খাঁ নদীতে এখন আর আগের মতো মাছ নেই। নতুন পানি আসার সাথে সাথেই অসাধু চক্র চায়না দুয়ারীসহ নানা রাক্ষুসে জাল দিয়ে রেনু-পোনা ধ্বংস করে ফেলছে। এদের এখনই না থামালে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছের মুখ আর দেখা যাবে না।”
​আকোটের চর ইউনিয়নের পদ্মার তীরবর্তী ছলেনামা গ্রামের আরেক জেলে আজাহার শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “চায়না দুয়ারীর ফাঁস এতটাই সূক্ষ্ম যে, একবার পানিতে ফেললে মাছের ছোট পোনা তো দূরের কথা, অন্য কোনো জলজ প্রাণীও বের হতে পারে না। মাঝে মাঝে প্রশাসনের অভিযান চলায়, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এই জালের বাজারজাতকরণ ও তৈরির উৎস বন্ধ না করলে এবং নদীতে নিয়মিত নজরদারি না বাড়ালে নদী ফাঁকা হয়ে যাবে।”
​স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কিছু জাল ধ্বংস ও আড়াআড়ি বাঁধ উচ্ছেদ করা হলেও তা এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় অতি সামান্য।
আগামীতে দেশিয় প্রজাতির মাছ রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নিবেন এমন প্রত্যাসা সদরপুর উপজেলা বাসীর।