ঢাকা ০১:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টঙ্গীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল, নিষিদ্ধ সংগঠনের কথিত চোরাগোপ্তা তৎপরতার প্রতিবাদের দাবি ২০০ টাকার বাকবিতণ্ডা থেকে প্রাণহানি! লাথির আঘাতে যুবকের মৃত্যু। সম্পত্তির লোভে মায়ের ওপর নৃশংস হামলা, ধামইরহাটে ছেলে গ্রেফতার গজারিয়া বাজার লিটিল স্টার কিন্ডারগার্টেন স্কুলে বৃত্তি ও সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে শামা ওবায়েদকে সংবর্ধনা ফরিদপুরে ইয়াবা সেবনের গ্যাস লাইটার চাওয়া কে কেন্দ্র করে অসহায় বোতল সংগ্রহকারীকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিলেন মাস্টারের ছেলে অসুস্থতার ছুটি না পেয়ে রাতের ডিউটিতে শ্রমিকের মৃত্যু, কারখানার সামনে শ্রমিকদের বিক্ষোভ মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় পরিচালকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

লালনের তিরোধান দিবসকে জাতীয় দিবস ঘোষণায় কেন্দ্রীয় সাধুসংঘের অভিনন্দন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩১:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫ ২৯১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

গত ২৭ আগষ্ট ২০২৫ তারিখে ফকির লালন শাহের তিরোধান দিবসকে ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণার পর টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বাগুটিয়া বাজারে অবস্থিত কেন্দ্রীয় সাধু সংঘে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের জোয়ার বইছে। ঘোষণার খবর পাওয়া মাত্রই কেন্দ্রীয় সাধু সংঘে এক স্বতঃস্ফূর্ত উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

 

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতার নির্দেশে দ্রুত এক জরুরি সভা আহ্বান করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন—কেন্দ্রীয় সাধু সংঘের সভাপতি বাবু হরি মোহন পাল, প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র সাংবাদিক শাহ আলম, নির্বাহী সভাপতি ছোবাহান তালুকদার, সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আল কামাল হুসাইন রতন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শিল্পী খোকন, পাঠাগার সভাপতি শাহানুর রহমান শাহীনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সাধু-সজ্জনবৃন্দ।

 

কেন্দ্রীয় সাধু সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র সাংবাদিক শাহ আলম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন—

“আজ আমাদের জীবনের এক ঐতিহাসিক দিন। লালনের দর্শন মানবতাকে পথ দেখায়, সেই দর্শন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলো। আমরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

 

সভাপতি হরি মোহন পাল বলেন—

“লালন আছেন তার গান ও দর্শনের মধ্যে। জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে তার শিক্ষা ধারণে অনুপ্রাণিত করবে।”

 

নির্বাহী সভাপতি ছোবাহান তালুকদার অভিমত ব্যক্ত করেন—

“এটি কেবল সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি নয়, বরং মানবতার জয়গান। আজকের এই স্বীকৃতি লালনপ্রেমীদের আত্মতৃপ্ত করেছে।”

 

সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আল কামাল হুসাইন রতন বলেন—

“লালনের গান আমাদের সত্য, সরলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ শিখিয়েছে। জাতীয় দিবসের মর্যাদা আমাদের সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে।”

 

শিল্পী খোকন জানান—

“জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হলে শিল্পীরা নতুন অনুপ্রেরণা পাবে। লালনের গান বাংলার চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ।”

 

পাঠাগার সভাপতি শাহানুর রহমান শাহীন বলেন—

“আমরা লালন সাহিত্য সংরক্ষণে নতুন কর্মসূচি নেবো। শিগগিরই পাঠাগারে বিশেষ কর্মশালা আয়োজন করা হবে।”

 

এসময় স্থানীয় শিল্পীরা গান গেয়ে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তারা বলেন—

“আমরা লালনের গান গেয়ে বড় হয়েছি। আজকের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আমাদের জন্য এক গৌরবের ও প্রেরণার দিন।”

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এই কেন্দ্রীয় সাধু সংঘ জাতীয় পর্যায়ে একাধিকবার লালন সঙ্গীত প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছে এবং গত ১০ বছর ধরে তিনদিন ব্যাপী সাধু সম্মেলন ও লালন মেলার আয়োজন করে আসছে।

 

সংবাদে আনন্দঘন পরিবেশ প্রতিফলিত হয়—ঘোষণার খবরে শুধু কেন্দ্রীয় সাধু সংঘ নয়, সারাদেশে লালন ভক্তনুরাগী, বাউল, ফকির, সাধু, গোসাই, পীর মাশায়েক সহ অসাম্প্রদায়িক সাধারন মানুষরা উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সবার দাবি, আগামী ১৭ অক্টোবর লালনের তিরোধান দিবসে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সারাদেশে ছুটি ঘোষনা, দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালিত হোক।

 

বিপ্লব কুমার দাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১৭৫৮-৩২৪১৭৯

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

লালনের তিরোধান দিবসকে জাতীয় দিবস ঘোষণায় কেন্দ্রীয় সাধুসংঘের অভিনন্দন

আপডেট সময় : ০৫:৩১:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

 

 

গত ২৭ আগষ্ট ২০২৫ তারিখে ফকির লালন শাহের তিরোধান দিবসকে ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণার পর টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বাগুটিয়া বাজারে অবস্থিত কেন্দ্রীয় সাধু সংঘে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের জোয়ার বইছে। ঘোষণার খবর পাওয়া মাত্রই কেন্দ্রীয় সাধু সংঘে এক স্বতঃস্ফূর্ত উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

 

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতার নির্দেশে দ্রুত এক জরুরি সভা আহ্বান করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন—কেন্দ্রীয় সাধু সংঘের সভাপতি বাবু হরি মোহন পাল, প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র সাংবাদিক শাহ আলম, নির্বাহী সভাপতি ছোবাহান তালুকদার, সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আল কামাল হুসাইন রতন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শিল্পী খোকন, পাঠাগার সভাপতি শাহানুর রহমান শাহীনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সাধু-সজ্জনবৃন্দ।

 

কেন্দ্রীয় সাধু সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র সাংবাদিক শাহ আলম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন—

“আজ আমাদের জীবনের এক ঐতিহাসিক দিন। লালনের দর্শন মানবতাকে পথ দেখায়, সেই দর্শন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলো। আমরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

 

সভাপতি হরি মোহন পাল বলেন—

“লালন আছেন তার গান ও দর্শনের মধ্যে। জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে তার শিক্ষা ধারণে অনুপ্রাণিত করবে।”

 

নির্বাহী সভাপতি ছোবাহান তালুকদার অভিমত ব্যক্ত করেন—

“এটি কেবল সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি নয়, বরং মানবতার জয়গান। আজকের এই স্বীকৃতি লালনপ্রেমীদের আত্মতৃপ্ত করেছে।”

 

সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আল কামাল হুসাইন রতন বলেন—

“লালনের গান আমাদের সত্য, সরলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ শিখিয়েছে। জাতীয় দিবসের মর্যাদা আমাদের সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে।”

 

শিল্পী খোকন জানান—

“জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হলে শিল্পীরা নতুন অনুপ্রেরণা পাবে। লালনের গান বাংলার চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ।”

 

পাঠাগার সভাপতি শাহানুর রহমান শাহীন বলেন—

“আমরা লালন সাহিত্য সংরক্ষণে নতুন কর্মসূচি নেবো। শিগগিরই পাঠাগারে বিশেষ কর্মশালা আয়োজন করা হবে।”

 

এসময় স্থানীয় শিল্পীরা গান গেয়ে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তারা বলেন—

“আমরা লালনের গান গেয়ে বড় হয়েছি। আজকের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আমাদের জন্য এক গৌরবের ও প্রেরণার দিন।”

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এই কেন্দ্রীয় সাধু সংঘ জাতীয় পর্যায়ে একাধিকবার লালন সঙ্গীত প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছে এবং গত ১০ বছর ধরে তিনদিন ব্যাপী সাধু সম্মেলন ও লালন মেলার আয়োজন করে আসছে।

 

সংবাদে আনন্দঘন পরিবেশ প্রতিফলিত হয়—ঘোষণার খবরে শুধু কেন্দ্রীয় সাধু সংঘ নয়, সারাদেশে লালন ভক্তনুরাগী, বাউল, ফকির, সাধু, গোসাই, পীর মাশায়েক সহ অসাম্প্রদায়িক সাধারন মানুষরা উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সবার দাবি, আগামী ১৭ অক্টোবর লালনের তিরোধান দিবসে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সারাদেশে ছুটি ঘোষনা, দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালিত হোক।

 

বিপ্লব কুমার দাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১৭৫৮-৩২৪১৭৯