ঢাকা ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জরুরি বিজ্ঞপ্তিঃ তারিখ ০৮-০৬-২০২৬ ইং  ৬৫ শতাংশ গ্রাহককে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে দেশীয় প্রযুক্তিতে বিদ্যুচ্চালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরির উদ্যোগ বোয়ালমারীতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে তিন সন্তানের জনক গ্রেপ্তার ফরিদপুরে প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে ইমাম পরিবারের বসতবাড়িতে হামলার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ দৌলতদিয়ায় ফেরিঘাটে আবারও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে গেলো যাত্রীবাহী বাস কালিয়াকৈরে ছিনতাই হওয়া প্রাইভেটকার উদ্ধার, সংঘবদ্ধ চক্রের ৩ জন সদস্য গ্রেপ্তার কালিয়াকৈরে মানববন্ধন ইসলামী ব্যাংক নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইজারা বাতিল ও রাখাইনে করিডোর দানের ষড়যন্ত্র রুখতে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা :

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৪:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫ ৮১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

 

  • স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে : 

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইজারা বাতিল ও রাখাইনে করিডোর দানের ষড়যন্ত্র রুখতে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রামের শ্রমিক জোট শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।

 

আজ ১৭ জুন মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় শ্রমিক জোট স্কপ আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দান এবং রাখাইনে তথাকথিত ‘মানবিক করিডোর’ দেয়ার গুঞ্জন জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি।

সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, এনসিটির ইজারা বাতিল, পতেঙ্গা টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে পরিচালনায় দেয়ার ফলে এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন, করিডোর পরিকল্পনা পরিহার এবং দেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শ্রমিক ও জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে।

ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে,

আগামী ২০ থেকে ২৬ জুন বন্দর সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়, ৩০ জুন চট্টগ্রাম বন্দর গেইটে শান্তিপূর্ণ গণসমাবেশ।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও  জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল

চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এনসিটি ইজারার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকার সেই প্রত্যাশা উপেক্ষা করছে। তিনি গত ৬ জুন প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘প্রতিহত করুন’ শব্দের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের হুমকি দেয়া গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত অশনিসংকেত।

 

শ্রমিক নেতারা জানান, এনসিটি হচ্ছে দেশের সবচেয়ে আধুনিক ও কৌশলগত কনটেইনার টার্মিনাল, যা সম্পূর্ণভাবে বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এবং বর্তমানে শতভাগ বন্দর কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। তারা বলেন, এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দিলে দেশের ৪৫ শতাংশ কনটেইনার পরিচালনার ক্ষমতা বিদেশিদের হাতে চলে যাবে, যা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ।

 

তারা আরো বলেন, পতেঙ্গা টার্মিনাল ইতোমধ্যেই সৌদি আরবের রেড সী গেটওয়ের হাতে ইজারা দেওয়ার পর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি; বরং টার্মিনালটির সক্ষমতার ১০-১২ শতাংশও ব্যবহার হচ্ছে না। এনসিটির ক্ষেত্রেও একই পরিণতি আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা করিডোর প্রসঙ্গেও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রাখাইনে ‘মানবিক সাহায্যের নামে করিডোর দেয়ার গুঞ্জনে বাংলাদেশ বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক সংকটে জড়িয়ে পড়তে পারে। প্রধান উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে জনমনে আরও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে স্কপ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী নুরুল্লাহ বাহার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি  এস কে খোদা তোতন, চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন, শ্রমিক দল নেতা হুমায়ুন কবির, ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, চট্টগ্রাম স্কপের যুগ্ম সম্পাদক জাহেদ উদ্দিন শাহিন, শ্রমিক ফ্রন্ট চট্টগ্রাম জেলার নেতা মহিন উদ্দিন, বিএফটিইউসি’র চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক কে এম শহিদুল্লাহ প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইজারা বাতিল ও রাখাইনে করিডোর দানের ষড়যন্ত্র রুখতে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা :

আপডেট সময় : ০৫:২৪:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

 

 

 

 

  • স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে : 

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইজারা বাতিল ও রাখাইনে করিডোর দানের ষড়যন্ত্র রুখতে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রামের শ্রমিক জোট শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।

 

আজ ১৭ জুন মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় শ্রমিক জোট স্কপ আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দান এবং রাখাইনে তথাকথিত ‘মানবিক করিডোর’ দেয়ার গুঞ্জন জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি।

সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, এনসিটির ইজারা বাতিল, পতেঙ্গা টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে পরিচালনায় দেয়ার ফলে এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন, করিডোর পরিকল্পনা পরিহার এবং দেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শ্রমিক ও জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে।

ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে,

আগামী ২০ থেকে ২৬ জুন বন্দর সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়, ৩০ জুন চট্টগ্রাম বন্দর গেইটে শান্তিপূর্ণ গণসমাবেশ।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও  জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল

চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এনসিটি ইজারার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকার সেই প্রত্যাশা উপেক্ষা করছে। তিনি গত ৬ জুন প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘প্রতিহত করুন’ শব্দের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের হুমকি দেয়া গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত অশনিসংকেত।

 

শ্রমিক নেতারা জানান, এনসিটি হচ্ছে দেশের সবচেয়ে আধুনিক ও কৌশলগত কনটেইনার টার্মিনাল, যা সম্পূর্ণভাবে বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এবং বর্তমানে শতভাগ বন্দর কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। তারা বলেন, এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দিলে দেশের ৪৫ শতাংশ কনটেইনার পরিচালনার ক্ষমতা বিদেশিদের হাতে চলে যাবে, যা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ।

 

তারা আরো বলেন, পতেঙ্গা টার্মিনাল ইতোমধ্যেই সৌদি আরবের রেড সী গেটওয়ের হাতে ইজারা দেওয়ার পর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি; বরং টার্মিনালটির সক্ষমতার ১০-১২ শতাংশও ব্যবহার হচ্ছে না। এনসিটির ক্ষেত্রেও একই পরিণতি আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা করিডোর প্রসঙ্গেও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রাখাইনে ‘মানবিক সাহায্যের নামে করিডোর দেয়ার গুঞ্জনে বাংলাদেশ বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক সংকটে জড়িয়ে পড়তে পারে। প্রধান উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে জনমনে আরও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে স্কপ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী নুরুল্লাহ বাহার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি  এস কে খোদা তোতন, চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন, শ্রমিক দল নেতা হুমায়ুন কবির, ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, চট্টগ্রাম স্কপের যুগ্ম সম্পাদক জাহেদ উদ্দিন শাহিন, শ্রমিক ফ্রন্ট চট্টগ্রাম জেলার নেতা মহিন উদ্দিন, বিএফটিইউসি’র চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক কে এম শহিদুল্লাহ প্রমুখ।