ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ধামইরহাটে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক ব্যক্তি গ্রেফতার ছদ্মবেশে অভিযান: খালি গায়ে কৃষক সেজে পলাতক ডাকাত গ্রেপ্তার, পুলিশের প্রশংসা ফরিদপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ফরিদপুরে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ে অনিয়মের অভিযোগ একই প্রতিষ্ঠানের পুনঃপুন কাজ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি জোরালো ফরিদপুরে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলা ২০২৬: দৃষ্টিনন্দন আয়োজন, দর্শনার্থী বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ গোয়ালচামটে সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ: জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে, দ্রুত ব্যবস্থা চায় নগরবাসী পহেলা বৈশাখে শুভেচ্ছা জানালেন সমাজসেবিকা নাসিমা খাতুন ফরিদপুরে অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধে করণীয় ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান সদরপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ক্ষমা চেয়ে রক্ষা, বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহার—সতর্ক বার্তা দিলেন সাংবাদিকরা

ফরিদপুরে এক নারীকে পাচারের অপরাধে দুই নারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫ ৪৬৯ বার পড়া হয়েছে

Oplus_16908288

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশেষ প্রতিনিধিঃ রেজাউল করিম

ফরিদপুরে নারীও শিশু আদালতে এক নারীকে পাচারের দায়ে মাকসুদা বিবি(৪৯) ও মর্জিনা বেগম সোনালী(৩১) নামে দুই নারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুর দুইটার দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় দেন। তবে রায় ঘোষণার সময় দুই আসামী পলাতক থাকায় আদালতে তারা হাজির ছিলেন না।
দণ্ডপ্রাপ্ত মাকসুদা বিবি সাতক্ষীরার বৈশালী গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনা কালীন অবস্থায় তিনি ফরিদপুরের সদর উপজেলার কানাইপুর এলাকায় ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি জুট মিলে কাজ করতেন। অপর আসামি মর্জিনা বেগম সোনালীর বাড়ি মুন্সীগঞ্জের হটচারীপুর এলাকায়। মর্জিনা বেগম মাকসুদা বিবির সহযোগী হিসেবে এই পাচারের সাথে যুক্ত ছিলেন বলে মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে।
মামলার বিবরনে জানাযায়, ফরিদপুর শহরতলীর কানাইপুরে একটি জুট মিলে চাকরি করতেন দুই বোন। এই সুবাদে ওই জুট মিলে চাকুরীরত আসামী মাকসুদা বিবির সাথে তাদের দুই বোনের সম্পর্ক হয়। ২০১২ সালের ৮ মে দুই বোনের মধ্যে বড় বোনকে নিয়ে মাকসুদা বিবি তাদের দেশের বাড়ি সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠানের কথা বলে নিয়ে যান। সেখানে তাকে সুন্দরবন দেখাবে বলে উৎসাহ জাগানো হয়। তাকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তার মা রাজিয়া বেগম তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করতে থাকেন। তাদের দুই জনের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের খুঁজে পান না। পরবর্তীতে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি ভারত থেকে তার ছোট মেয়ের মোবাইলে ফোন করে জানান যে, তার বড় বোনকে ভারতে পাচার করে এনে বিক্রি করে দিয়েছেন। এ সময় তিনি আরও জানান যে, তার বোন পুলিশের হেফাজতে আছেন। পরবর্তীতে আমরা বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি অফিস ঢাকার মাধ্যমে জানতে পারি যে, আমার মেয়ের অবস্থান সম্পর্কে। তাকে ভারতীয় পুলিশ গত ২০১২ সালে ১৮ মে রেট দিয়ে তাকে উদ্ধার করেছে।
এই ঘটনা জানার পর ওই মেয়ের মা রাজিয়া বেগম ২০১২ সালের ২৯ মে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করে। বর্তমানে পাচার হওয়া ওই নারী বাংলাদেশে ফিরে এসে অবস্থান করছেন।
এর সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানান, সাক্ষী ও শুনানীর পর ওই নারীকে পাচারের দায়ে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফরিদপুরে এক নারীকে পাচারের অপরাধে দুই নারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৬:০৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

বিশেষ প্রতিনিধিঃ রেজাউল করিম

ফরিদপুরে নারীও শিশু আদালতে এক নারীকে পাচারের দায়ে মাকসুদা বিবি(৪৯) ও মর্জিনা বেগম সোনালী(৩১) নামে দুই নারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুর দুইটার দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় দেন। তবে রায় ঘোষণার সময় দুই আসামী পলাতক থাকায় আদালতে তারা হাজির ছিলেন না।
দণ্ডপ্রাপ্ত মাকসুদা বিবি সাতক্ষীরার বৈশালী গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনা কালীন অবস্থায় তিনি ফরিদপুরের সদর উপজেলার কানাইপুর এলাকায় ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি জুট মিলে কাজ করতেন। অপর আসামি মর্জিনা বেগম সোনালীর বাড়ি মুন্সীগঞ্জের হটচারীপুর এলাকায়। মর্জিনা বেগম মাকসুদা বিবির সহযোগী হিসেবে এই পাচারের সাথে যুক্ত ছিলেন বলে মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে।
মামলার বিবরনে জানাযায়, ফরিদপুর শহরতলীর কানাইপুরে একটি জুট মিলে চাকরি করতেন দুই বোন। এই সুবাদে ওই জুট মিলে চাকুরীরত আসামী মাকসুদা বিবির সাথে তাদের দুই বোনের সম্পর্ক হয়। ২০১২ সালের ৮ মে দুই বোনের মধ্যে বড় বোনকে নিয়ে মাকসুদা বিবি তাদের দেশের বাড়ি সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠানের কথা বলে নিয়ে যান। সেখানে তাকে সুন্দরবন দেখাবে বলে উৎসাহ জাগানো হয়। তাকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তার মা রাজিয়া বেগম তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করতে থাকেন। তাদের দুই জনের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের খুঁজে পান না। পরবর্তীতে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি ভারত থেকে তার ছোট মেয়ের মোবাইলে ফোন করে জানান যে, তার বড় বোনকে ভারতে পাচার করে এনে বিক্রি করে দিয়েছেন। এ সময় তিনি আরও জানান যে, তার বোন পুলিশের হেফাজতে আছেন। পরবর্তীতে আমরা বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি অফিস ঢাকার মাধ্যমে জানতে পারি যে, আমার মেয়ের অবস্থান সম্পর্কে। তাকে ভারতীয় পুলিশ গত ২০১২ সালে ১৮ মে রেট দিয়ে তাকে উদ্ধার করেছে।
এই ঘটনা জানার পর ওই মেয়ের মা রাজিয়া বেগম ২০১২ সালের ২৯ মে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করে। বর্তমানে পাচার হওয়া ওই নারী বাংলাদেশে ফিরে এসে অবস্থান করছেন।
এর সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানান, সাক্ষী ও শুনানীর পর ওই নারীকে পাচারের দায়ে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।