ঢাকা ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুরাদ হোসেন মিয়া ফরিদপুরে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ, ক্ষোভে ফুঁসছে স্বজনরা পবিত্র ঈদুল আজাহাকে সামনে রেখে ঈদ যাত্রা হবে স্বস্তিদায়ক ও দুর্ঘটনা মুক্ত ফরিদপুর জেলাবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন সাংবাদিক মোঃ ফজলুল হক ফরিদপুরে জেলা পরিষদের আর্থিক সহায়তা বিতরণ, উপকারভোগীদের মাঝে স্বস্তি ফরিদপুর মেডিকেলে হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা ১৩ ফরিদপুরে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ, পাকা স্থাপনা নির্মাণে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা। নগরকান্দায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: অ্যাম্বুলেন্স-বিআরটিসি বাস সংঘর্ষে নিহত ৫ ১৩, ১৪ ও ১৬ নং ওয়ার্ডবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন সমাজসেবিকা নাসিমা খাতুন

বরাদ্দ কম, কেসিসিতে বাজাটের আকার কমেছে ২৬০ কোটি টাকা। মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো : খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) সড়ক, অবকাঠামো ও জলাবদ্ধতা নিরসনে গত চার বছরে নতুন কোন প্রকল্প অনুমোদন হয়নি। পুরাতন প্রকল্প গুলো চলতি বছর শেষ হচ্ছে। এতে কমে গেছে খুলনা মহানগরীর উন্নয়নের আসা সরকারি বরাদ্দ। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কেসিসির বাজেটে উন্নয়ন বরাদ্দ কমেছে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন সহ নানা কারনে দুর্যোগ প্রবন উপকূলীয় মহানগর খুলনায় নানা সংকট চলছে। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বেশকিছু খাল খনন ও অনেক এলাকায় ড্রেন নির্মান বাকি। কেসিসির অভ্যন্তরীন অবকাঠামো সংকটও প্রকট। নগরীর বেশিরভাগ সড়কের সংস্কারও জরুরি। এজন্য কেসিসির ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন নামে একটি প্রকল্প নিয়ে চিঠি চালাচালি চলছে চার বছর ধরে। দ্রুত প্রকল্পটি অনুমোদন এবং বরাদ্দ না বাড়ালে খুলনার মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকবে না। কেসিসি সুত্র জানায়, মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামত ও উন্নয়ন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের নামে প্রকল্প দুটি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে অনুমোদন হয়।প্রায় ১ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে এই প্রকল্প। এর মধ্যে সড়ক মেরামতের প্রকল্পটি গত অর্থ বছরে শেষ হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পটি শেষ হচ্ছে চলতি অর্থ বছরে। ২০২১ সালে অনুমোদন হওয়া কেসিসির বর্জ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পও চলতি অর্থ বছরে শেষ হচ্ছে। এরপর সরকারি অর্থায়নে চলা কোনো প্রকল্প কেসিসিতে থাকছে না। কেসিসির হিসাব বিভাগ থেকে জানাগেছে, কর্পোরেশনের নিজস্ব আয় দিয়ে কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেতন- ভাতা এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। উন্নয়ন কাজের পুরোটাই আসে প্রকল্পের অনুকুলে সরকারি বরাদ্দ এবং দাতা সংস্থার অনুদান থেকে। ফলে নতুন কোন প্রকল্প অনুমোদন না হলে উন্নয়ন কাজে বরাদ্দ পাওয়া যাবে না। সুত্রটি জানায়, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে কেসিসির বাজেটের আকার ছিল ৮৬১ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ১ হাজার ৮২ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বাজেট ছিল ৯৮১ কোটি টাকা। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৭২১ কোটি টাকার বাজেট। চলতি মাসেই এ বাজেট ঘোষণা করা হতে পারে। কেসিসির বাজেট কাম একাউন্ট অফিসার মো: মনিরুজ্জামান জানান, সরকারি প্রকল্প কমে যাওয়ায় অর্থ বরাদ্দও কমছে। এজন্য বাজেটের আকারও ছোট হচ্ছে। হিসাব শাখার কর্মকর্তা জানান, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে কেসিসির উন্নয়ন কাজে সরকারি বরাদ্দ পাওয়াগেছে ৩১৭ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসেছে ২২৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থ বছরে ১৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ক্রামান্বয়ে কমতে থাকা উন্নয়ন বরাদ্দের কারনে নগরীর কাংখিত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেন, নগরীর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের প্রকল্প গত জুনে শেষ হয়েছে। অন্য কয়েকটি সড়ক, জিয়াহল কমপ্লেক্স, ওয়ার্ড অফিস, ড্রেন নির্মানের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পটি নিয়ে চার বছর ধরে চালাচালি চলছে। সার্বিক বিষয় নিয়ে কেসিসির প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার ফিরোজ সরকার বলেন, অবকাঠামো ও অন্যান্য উন্নয়নের জন্য নেওয়া বড় প্রকল্প গুলো দ্রুত অনুমোদনের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দাতা সংস্থার অনুমোদিত প্রকল্পের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৩:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫ ১৯৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)  সড়ক, অবকাঠামো ও জলাবদ্ধতা নিরসনে গত চার বছরে নতুন কোন প্রকল্প অনুমোদন হয়নি। পুরাতন প্রকল্প গুলো চলতি বছর শেষ হচ্ছে। এতে কমে গেছে খুলনা মহানগরীর উন্নয়নের আসা সরকারি বরাদ্দ। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কেসিসির বাজেটে উন্নয়ন বরাদ্দ কমেছে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন সহ নানা কারনে দুর্যোগ প্রবন উপকূলীয় মহানগর খুলনায় নানা সংকট চলছে। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বেশকিছু খাল খনন ও অনেক এলাকায় ড্রেন নির্মান বাকি। কেসিসির অভ্যন্তরীন অবকাঠামো সংকটও প্রকট। নগরীর বেশিরভাগ সড়কের সংস্কারও জরুরি। এজন্য কেসিসির ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন নামে একটি প্রকল্প নিয়ে চিঠি চালাচালি চলছে চার বছর ধরে। দ্রুত প্রকল্পটি অনুমোদন এবং বরাদ্দ না বাড়ালে খুলনার মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকবে না। কেসিসি সুত্র জানায়, মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামত ও উন্নয়ন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের নামে প্রকল্প দুটি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে অনুমোদন হয়।প্রায় ১ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে এই প্রকল্প। এর মধ্যে সড়ক মেরামতের প্রকল্পটি গত অর্থ বছরে শেষ হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পটি শেষ হচ্ছে চলতি অর্থ বছরে। ২০২১ সালে অনুমোদন হওয়া কেসিসির বর্জ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পও চলতি অর্থ বছরে শেষ হচ্ছে। এরপর সরকারি অর্থায়নে চলা কোনো প্রকল্প কেসিসিতে থাকছে না। কেসিসির হিসাব বিভাগ থেকে জানাগেছে, কর্পোরেশনের নিজস্ব আয় দিয়ে কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেতন- ভাতা এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। উন্নয়ন কাজের পুরোটাই আসে প্রকল্পের অনুকুলে সরকারি বরাদ্দ এবং দাতা সংস্থার অনুদান থেকে। ফলে নতুন কোন প্রকল্প অনুমোদন না হলে উন্নয়ন কাজে বরাদ্দ পাওয়া যাবে না। সুত্রটি জানায়, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে কেসিসির বাজেটের আকার ছিল ৮৬১ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ১ হাজার ৮২ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বাজেট ছিল ৯৮১ কোটি টাকা। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৭২১ কোটি টাকার বাজেট। চলতি মাসেই এ বাজেট ঘোষণা করা হতে পারে। কেসিসির বাজেট কাম একাউন্ট অফিসার মো: মনিরুজ্জামান জানান, সরকারি প্রকল্প কমে যাওয়ায় অর্থ বরাদ্দও কমছে। এজন্য বাজেটের আকারও ছোট হচ্ছে। হিসাব শাখার কর্মকর্তা জানান, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে কেসিসির উন্নয়ন কাজে সরকারি বরাদ্দ পাওয়াগেছে ৩১৭ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসেছে ২২৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থ বছরে ১৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ক্রামান্বয়ে কমতে থাকা উন্নয়ন বরাদ্দের কারনে নগরীর কাংখিত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেন, নগরীর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের  প্রকল্প গত জুনে শেষ হয়েছে। অন্য কয়েকটি সড়ক, জিয়াহল কমপ্লেক্স, ওয়ার্ড অফিস, ড্রেন নির্মানের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পটি নিয়ে চার বছর ধরে চালাচালি চলছে। সার্বিক বিষয় নিয়ে কেসিসির প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার ফিরোজ সরকার বলেন, অবকাঠামো ও অন্যান্য উন্নয়নের জন্য নেওয়া বড় প্রকল্প গুলো দ্রুত অনুমোদনের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দাতা সংস্থার অনুমোদিত প্রকল্পের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বরাদ্দ কম, কেসিসিতে বাজাটের আকার কমেছে ২৬০ কোটি টাকা। মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো : খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) সড়ক, অবকাঠামো ও জলাবদ্ধতা নিরসনে গত চার বছরে নতুন কোন প্রকল্প অনুমোদন হয়নি। পুরাতন প্রকল্প গুলো চলতি বছর শেষ হচ্ছে। এতে কমে গেছে খুলনা মহানগরীর উন্নয়নের আসা সরকারি বরাদ্দ। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কেসিসির বাজেটে উন্নয়ন বরাদ্দ কমেছে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন সহ নানা কারনে দুর্যোগ প্রবন উপকূলীয় মহানগর খুলনায় নানা সংকট চলছে। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বেশকিছু খাল খনন ও অনেক এলাকায় ড্রেন নির্মান বাকি। কেসিসির অভ্যন্তরীন অবকাঠামো সংকটও প্রকট। নগরীর বেশিরভাগ সড়কের সংস্কারও জরুরি। এজন্য কেসিসির ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন নামে একটি প্রকল্প নিয়ে চিঠি চালাচালি চলছে চার বছর ধরে। দ্রুত প্রকল্পটি অনুমোদন এবং বরাদ্দ না বাড়ালে খুলনার মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকবে না। কেসিসি সুত্র জানায়, মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামত ও উন্নয়ন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের নামে প্রকল্প দুটি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে অনুমোদন হয়।প্রায় ১ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে এই প্রকল্প। এর মধ্যে সড়ক মেরামতের প্রকল্পটি গত অর্থ বছরে শেষ হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পটি শেষ হচ্ছে চলতি অর্থ বছরে। ২০২১ সালে অনুমোদন হওয়া কেসিসির বর্জ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পও চলতি অর্থ বছরে শেষ হচ্ছে। এরপর সরকারি অর্থায়নে চলা কোনো প্রকল্প কেসিসিতে থাকছে না। কেসিসির হিসাব বিভাগ থেকে জানাগেছে, কর্পোরেশনের নিজস্ব আয় দিয়ে কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেতন- ভাতা এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। উন্নয়ন কাজের পুরোটাই আসে প্রকল্পের অনুকুলে সরকারি বরাদ্দ এবং দাতা সংস্থার অনুদান থেকে। ফলে নতুন কোন প্রকল্প অনুমোদন না হলে উন্নয়ন কাজে বরাদ্দ পাওয়া যাবে না। সুত্রটি জানায়, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে কেসিসির বাজেটের আকার ছিল ৮৬১ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ১ হাজার ৮২ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বাজেট ছিল ৯৮১ কোটি টাকা। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৭২১ কোটি টাকার বাজেট। চলতি মাসেই এ বাজেট ঘোষণা করা হতে পারে। কেসিসির বাজেট কাম একাউন্ট অফিসার মো: মনিরুজ্জামান জানান, সরকারি প্রকল্প কমে যাওয়ায় অর্থ বরাদ্দও কমছে। এজন্য বাজেটের আকারও ছোট হচ্ছে। হিসাব শাখার কর্মকর্তা জানান, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে কেসিসির উন্নয়ন কাজে সরকারি বরাদ্দ পাওয়াগেছে ৩১৭ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসেছে ২২৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থ বছরে ১৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ক্রামান্বয়ে কমতে থাকা উন্নয়ন বরাদ্দের কারনে নগরীর কাংখিত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেন, নগরীর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের প্রকল্প গত জুনে শেষ হয়েছে। অন্য কয়েকটি সড়ক, জিয়াহল কমপ্লেক্স, ওয়ার্ড অফিস, ড্রেন নির্মানের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পটি নিয়ে চার বছর ধরে চালাচালি চলছে। সার্বিক বিষয় নিয়ে কেসিসির প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার ফিরোজ সরকার বলেন, অবকাঠামো ও অন্যান্য উন্নয়নের জন্য নেওয়া বড় প্রকল্প গুলো দ্রুত অনুমোদনের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দাতা সংস্থার অনুমোদিত প্রকল্পের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

আপডেট সময় : ০১:৩৩:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

 

 

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)  সড়ক, অবকাঠামো ও জলাবদ্ধতা নিরসনে গত চার বছরে নতুন কোন প্রকল্প অনুমোদন হয়নি। পুরাতন প্রকল্প গুলো চলতি বছর শেষ হচ্ছে। এতে কমে গেছে খুলনা মহানগরীর উন্নয়নের আসা সরকারি বরাদ্দ। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কেসিসির বাজেটে উন্নয়ন বরাদ্দ কমেছে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন সহ নানা কারনে দুর্যোগ প্রবন উপকূলীয় মহানগর খুলনায় নানা সংকট চলছে। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বেশকিছু খাল খনন ও অনেক এলাকায় ড্রেন নির্মান বাকি। কেসিসির অভ্যন্তরীন অবকাঠামো সংকটও প্রকট। নগরীর বেশিরভাগ সড়কের সংস্কারও জরুরি। এজন্য কেসিসির ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন নামে একটি প্রকল্প নিয়ে চিঠি চালাচালি চলছে চার বছর ধরে। দ্রুত প্রকল্পটি অনুমোদন এবং বরাদ্দ না বাড়ালে খুলনার মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকবে না। কেসিসি সুত্র জানায়, মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামত ও উন্নয়ন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের নামে প্রকল্প দুটি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে অনুমোদন হয়।প্রায় ১ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে এই প্রকল্প। এর মধ্যে সড়ক মেরামতের প্রকল্পটি গত অর্থ বছরে শেষ হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পটি শেষ হচ্ছে চলতি অর্থ বছরে। ২০২১ সালে অনুমোদন হওয়া কেসিসির বর্জ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পও চলতি অর্থ বছরে শেষ হচ্ছে। এরপর সরকারি অর্থায়নে চলা কোনো প্রকল্প কেসিসিতে থাকছে না। কেসিসির হিসাব বিভাগ থেকে জানাগেছে, কর্পোরেশনের নিজস্ব আয় দিয়ে কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেতন- ভাতা এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। উন্নয়ন কাজের পুরোটাই আসে প্রকল্পের অনুকুলে সরকারি বরাদ্দ এবং দাতা সংস্থার অনুদান থেকে। ফলে নতুন কোন প্রকল্প অনুমোদন না হলে উন্নয়ন কাজে বরাদ্দ পাওয়া যাবে না। সুত্রটি জানায়, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে কেসিসির বাজেটের আকার ছিল ৮৬১ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ১ হাজার ৮২ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বাজেট ছিল ৯৮১ কোটি টাকা। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৭২১ কোটি টাকার বাজেট। চলতি মাসেই এ বাজেট ঘোষণা করা হতে পারে। কেসিসির বাজেট কাম একাউন্ট অফিসার মো: মনিরুজ্জামান জানান, সরকারি প্রকল্প কমে যাওয়ায় অর্থ বরাদ্দও কমছে। এজন্য বাজেটের আকারও ছোট হচ্ছে। হিসাব শাখার কর্মকর্তা জানান, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে কেসিসির উন্নয়ন কাজে সরকারি বরাদ্দ পাওয়াগেছে ৩১৭ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসেছে ২২৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থ বছরে ১৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ক্রামান্বয়ে কমতে থাকা উন্নয়ন বরাদ্দের কারনে নগরীর কাংখিত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেন, নগরীর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের  প্রকল্প গত জুনে শেষ হয়েছে। অন্য কয়েকটি সড়ক, জিয়াহল কমপ্লেক্স, ওয়ার্ড অফিস, ড্রেন নির্মানের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পটি নিয়ে চার বছর ধরে চালাচালি চলছে। সার্বিক বিষয় নিয়ে কেসিসির প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার ফিরোজ সরকার বলেন, অবকাঠামো ও অন্যান্য উন্নয়নের জন্য নেওয়া বড় প্রকল্প গুলো দ্রুত অনুমোদনের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দাতা সংস্থার অনুমোদিত প্রকল্পের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।