ঢাকা ১০:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ভুতুড়ে বিলের প্রতিবাদে ফরিদপুরে মিছিল, জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি অসুবিধা ও অব্যবস্থাপনায় জরাজীর্ণ ফরিদপুরের আড়াইরশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার বদলে ‘প্রাইভেট বাণিজ্য’, অবহেলায় বঞ্চিত কোমলমতি শিশুরা ইলিয়াস আলীকে ‘দ্বিতীয় চেষ্টায়’ জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে অপহরণ: চিফ প্রসিকিউটর ফরিদপুর জেলা পরিষদ ও বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা পরিদর্শন করলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব ৩০ বছরের ভোগান্তি, বসতভিটা রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান দিনমজুর নুরুল ইসলাম ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি, পৌর কর্তৃপক্ষের সরেজমিন পরিদর্শনের আহ্বান কালিয়াকৈরে জাল রাজস্ব স্ট্যাম্প ব্যবহার করে ২৫ লক্ষ টাকার নকল সিগারেট জব্দ আটক ২ জন মোট চার দিনের ছুটিতে প্রিয়জনের সঙ্গে ছুটি উপভোগ করার জন্য উত্তরবঙ্গের পথে ছুটছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মান্দায় অভিযান: ২২০ লিটার চোলাই মদ তৈরির উপকরণসহ একজন গ্রেফতার সীমান্ত থেকে ৯৪.৭৫০ কেজি ওজনের দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার

জুলেখার মুখে অচেনা কালো দাগ, নিতে হবে চিকিৎসার জন্য বিদেশে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪০:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫ ১৪৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে : 

সিরাজগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রাম। কাঁচা রাস্তা, খড়ের ঘর আর দিনমজুরের সংসার। এখানেই জন্ম জুলেখার। বয়স মাত্র ১৯। এই বয়সে অন্য মেয়েরা হয়তো কলেজে যাচ্ছে, বন্ধুদের সঙ্গে খেলছে, নতুন স্বপ্ন গড়ছে। কিন্তু জুলেখার জীবন থেমে গেছে এক অচেনা রোগের ছায়ায়।

জন্মের পর থেকেই তার মুখে দেখা দেয় কালো দাগ। সেই দাগ থেকে চুল গজাতে শুরু করে। গ্রামের মানুষ অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকত, কেউ কেউ ফিসফিস করে বলত ‘অন্যরকম মেয়ে’। সময়ের সাথে সাথে দাগটি বড় হতে থাকে, সাথে বাড়তে থাকে মানুষের কৌতূহলী দৃষ্টি আর সমাজের তির্যক কথা।

স্কুলে কখনো যাওয়া হয়নি তার। বাবা দিনমজুর, সংসার চালাতেই হিমশিম। চিকিৎসার সুযোগ ছিল না। তাই জুলেখা চুপ করে সহ্য করেছে নিজের ব্যথা, নিজের লজ্জা।

 

চট্টগ্রামের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এম আলী চৌধুরী আজাদ বলেন, এই রোগটির নাম কনজেনাইটাল জায়ান্ট হাইরি মেলানোসাইটিক নেভাস। এটি অত্যন্ত বিরল। ছোট আকার হলে কেটে ফেলা বা লেজার করা যায়। কিন্তু জুলেখার ক্ষেত্রে এটি অনেক বড়, দেশে এ ধরনের চিকিৎসা কার্যত অসম্ভব।

 

এই রোগ শুধু শারীরিক নয়, মানসিক কষ্টও তৈরি করে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, এতে ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেশি। আর সমাজে বেঁচে থাকাটাও হয়ে ওঠে কঠিন।

 

কয়েকদিন আগে জুলেখার খবর পৌঁছায় আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিনের কাছে। তিনি জানান, খবর দেখে আমি গভীরভাবে ব্যথিত হই। প্রতিশ্রুতি দিই তাকে সাহায্য করব। চট্টগ্রামে এনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখাই। মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে, তার চিকিৎসা বিদেশে করতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি তাকে বিদেশে পাঠানোর। দেশের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে কাজটি সহজ হবে।

 

এরই মধ্যে জনতার দলের সহ-সভাপতি ও আশ ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মাহবুবুল আলম-ও পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা আশ ফাউন্ডেশনের সাথে মিলে চেষ্টা করছি জুলেখার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে। সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা জরুরি।

 

জুলেখার মা চোখ মুছতে মুছতে বলেন, আমার মেয়েটা যেন অন্য মেয়েদের মতো খেলতে পারে, হাসতে পারে—এ

এই স্বপ্ন দেখি। যদি সে সুস্থ হয়, আমার আর কোনো দুঃখ থাকবে না। আল্লাহর রহমতে ফাউন্ডেশন আর জনতার দল আমাদের ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গ্রামের উঠোনে দাঁড়িয়ে জুলেখা দূরে তাকিয়ে থাকে। তার মুখে অচেনা দাগ, কিন্তু চোখে স্বপ্নের আলো। সে চায় সমাজের অন্য মেয়েদের মতো সাধারণ জীবন—কোনো আড়াল নয়, কোনো লজ্জা নয়।

জুলেখার সেই স্বপ্ন পূরণ হবে কি না, তা নির্ভর করছে আমাদের সহানুভূতির ওপর। হয়তো একটু সাহায্য, একটু সহমর্মিতা—তাতেই খুলে যেতে পারে এক তরুণীর নতুন জীবনের দরজা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জুলেখার মুখে অচেনা কালো দাগ, নিতে হবে চিকিৎসার জন্য বিদেশে

আপডেট সময় : ০৬:৪০:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

 

 

 

স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে : 

সিরাজগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রাম। কাঁচা রাস্তা, খড়ের ঘর আর দিনমজুরের সংসার। এখানেই জন্ম জুলেখার। বয়স মাত্র ১৯। এই বয়সে অন্য মেয়েরা হয়তো কলেজে যাচ্ছে, বন্ধুদের সঙ্গে খেলছে, নতুন স্বপ্ন গড়ছে। কিন্তু জুলেখার জীবন থেমে গেছে এক অচেনা রোগের ছায়ায়।

জন্মের পর থেকেই তার মুখে দেখা দেয় কালো দাগ। সেই দাগ থেকে চুল গজাতে শুরু করে। গ্রামের মানুষ অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকত, কেউ কেউ ফিসফিস করে বলত ‘অন্যরকম মেয়ে’। সময়ের সাথে সাথে দাগটি বড় হতে থাকে, সাথে বাড়তে থাকে মানুষের কৌতূহলী দৃষ্টি আর সমাজের তির্যক কথা।

স্কুলে কখনো যাওয়া হয়নি তার। বাবা দিনমজুর, সংসার চালাতেই হিমশিম। চিকিৎসার সুযোগ ছিল না। তাই জুলেখা চুপ করে সহ্য করেছে নিজের ব্যথা, নিজের লজ্জা।

 

চট্টগ্রামের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এম আলী চৌধুরী আজাদ বলেন, এই রোগটির নাম কনজেনাইটাল জায়ান্ট হাইরি মেলানোসাইটিক নেভাস। এটি অত্যন্ত বিরল। ছোট আকার হলে কেটে ফেলা বা লেজার করা যায়। কিন্তু জুলেখার ক্ষেত্রে এটি অনেক বড়, দেশে এ ধরনের চিকিৎসা কার্যত অসম্ভব।

 

এই রোগ শুধু শারীরিক নয়, মানসিক কষ্টও তৈরি করে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, এতে ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেশি। আর সমাজে বেঁচে থাকাটাও হয়ে ওঠে কঠিন।

 

কয়েকদিন আগে জুলেখার খবর পৌঁছায় আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিনের কাছে। তিনি জানান, খবর দেখে আমি গভীরভাবে ব্যথিত হই। প্রতিশ্রুতি দিই তাকে সাহায্য করব। চট্টগ্রামে এনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখাই। মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে, তার চিকিৎসা বিদেশে করতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি তাকে বিদেশে পাঠানোর। দেশের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে কাজটি সহজ হবে।

 

এরই মধ্যে জনতার দলের সহ-সভাপতি ও আশ ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মাহবুবুল আলম-ও পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা আশ ফাউন্ডেশনের সাথে মিলে চেষ্টা করছি জুলেখার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে। সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা জরুরি।

 

জুলেখার মা চোখ মুছতে মুছতে বলেন, আমার মেয়েটা যেন অন্য মেয়েদের মতো খেলতে পারে, হাসতে পারে—এ

এই স্বপ্ন দেখি। যদি সে সুস্থ হয়, আমার আর কোনো দুঃখ থাকবে না। আল্লাহর রহমতে ফাউন্ডেশন আর জনতার দল আমাদের ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গ্রামের উঠোনে দাঁড়িয়ে জুলেখা দূরে তাকিয়ে থাকে। তার মুখে অচেনা দাগ, কিন্তু চোখে স্বপ্নের আলো। সে চায় সমাজের অন্য মেয়েদের মতো সাধারণ জীবন—কোনো আড়াল নয়, কোনো লজ্জা নয়।

জুলেখার সেই স্বপ্ন পূরণ হবে কি না, তা নির্ভর করছে আমাদের সহানুভূতির ওপর। হয়তো একটু সাহায্য, একটু সহমর্মিতা—তাতেই খুলে যেতে পারে এক তরুণীর নতুন জীবনের দরজা।