ঢাকা ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিবচরে আধুনিক ডাকবাংলোর শুভ উদ্বোধন সদরপুরে মোবাইল ব্যবসায়ীকে হানিট্র্যাপে ফেলে ১৮ ঘণ্টা জিম্মি ও টাকা লুটের অভিযোগ: ২ নারী আটক শারদীয়া দুর্গাপূজা ষষ্ঠ থেকে দশমি পর্যন্ত পাঁচ দিন ব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত সদরপুরে ৩৫টি মণ্ডপে পালিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা, আজ প্রতিমা বিসর্জন বালিয়াকান্দি উপজেলা শালমারা নিশ্চিন্তপুর শালিকী গ্রাম স্কুল মাঠ প্রাঙ্গনে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ‎শিবচরে সড়ক দুর্ঘটনায় বিএনপির নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান নিহত ‎। ফরিদপুরে দেড় কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার দীর্ঘ ১৮৫ বছরের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল ফরিদপুর পৌরসভা। দেশকে অস্থিতিশীল করতে পতিত অপশক্তির দোসররা নানা ষড়যন্ত্র করছে: রিজভী কালিয়াকৈরে আবাসিক হোটেলে অভিযান, নারী পুরুষ সহ ৩৯ জনকে আটক 

সুন্দরবনে জলদস্যু আতংকে জেলে বাওয়ালিরা, বিকাশে টাকা পাঠালে মিলছে অপহ্নতদের মুক্তি।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১২:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :

সম্প্রতি সময়ে সুন্দরবনে জলদস্যুদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা সুন্দরবনের নদ নদীতে মাছ ধরা জেলেদের মুক্তিপনের দাবিতে অপহরন করে আদায় করছে মোটা অংকের টাকা। বিকাশের মাধ্যমে দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করার পর মুক্তি মিলছে অপহ্নতদের। ফলে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে জীবিকার টানে সুন্দরবনে ঢোকা জেলেদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। খোঁজ নিয়ে জানাযায়, জনৈক অয়েজকুরুনি গাজীর জেলে হিসেবে গত মঙ্গলবার শ্যামনগর উপজেলার ট্যাংরাখালী গ্রামের নুর হোসেনের ছেলে আব্দুস সালাম (২৫) ও ভেটখালী নুতনঘেরি গ্রামের কৃঞ্চ কাহারের ছেলে বিজয় কাহার (৩৮) মাছ ধরতে সুন্দরবনে যায় । দুদিন পর বৃহস্পতিবার বিকালে পায়রাটুনি খালে জাল বিছানোর সময় পাচ সদস্যের জলদস্যুর একটি দল সেখান থেকে বিজয় কাহার ও আব্দুস সালামকে অপহরন করে। জলদস্যুরা তাদের মুক্তির জন্য মাথাপিছু মুক্তিপন হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে দাবি করে। এ ঘটনার পর ৫ সেপ্টেম্বর রাতে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপনের ৩৬ হাজার টাকা পরিশোধের পর জলদস্যুরা ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে আব্দুস সালামকে মুক্তি দেয়। ঔই দিন সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে সুন্দরবন ফেরত অপর জেলেদের নৌকা যোগে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। ফিরে আসা জেলে আব্দুস সালামের পিতা নুর হোসেন জানান, একদিন পরে জিন্মি জেলেদের পরিবারের কাছে কাছে মোবাইলে যোগাযোগ করে মুক্তিপন বাবদ মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা করে দাবি করা হয়। পরবর্তীতে অনুনয়-বিনয় করে ছেলের মুক্তিপন বাবদ ৩৫ হাজার টাকায় জলদস্যুদের রাজি করাতে সম্মত হন। পরে টাকা পরিশোধের পর তাকে ছেড়ে দেয় দস্যুরা। জলদস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা অপর জেলে বিজয় কাহারের পিতা কৃঞ্চ কাহার জানান, শনিবার পর্যন্ত তিনি মুক্তিপনের টাকা সংগ্রহ করতে পারেননি। ছেলের মুক্তিপন বাবদ জলদস্যুদের দাবিকৃত ৫০ হাজার টাকা মোবাইলে বিকাশ করতে বলেছেন তারা। ফিরে আসা জেলে আব্দুস সালাম জানায়, পাঁচ সদস্যের জলদস্যু দলটির কাছে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। তারা ছোট একটি ডিঙি নৌকা নিয়ে সুন্দরবনের মধ্যে দস্যুতা করছে। এদিকে এর আগে গত ২৫ ও ২৬ আগষ্ট দুই দফায় সুন্দরবনের দাড়গাং নদী সংলগ্ন খাল থেকে ৪ জন ও হোগল ডোকরা খাল এবং কালির খাল থেকে তিন জনসহ মোট ৭ জন জেলেকে অপহরণ করে জলদস্যুরা। এরা হলেন শ্যামনগরের পার্শেখালি এলাকার ইব্রাহিম সরদার, আব্দুল হাকিম, সুজিত মুন্ডা, কালিঞ্চি  এলাকার সাত্তার গাজী, আকিনুর, কৈখালির বুলবুল গাজী ও রমজান নগরে তারানিপুর গ্রামের আরাফাত হোসেন। পরে মুক্তিপন দিয়ে সবাই ফিরে আসে। জলদস্যুদের দাবিকৃত মুক্তিপনের ৬০ হাজার টাকা দিয়ে ফিরে আসা জেলে সুজন মুন্ডা জানান, সুন্দরবনে মুন্না বাহিনী নামে নতুন একটি বনদস্যু বাহিনী এসব জেলেদের অপহরণ করেছে। ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় সুন্দরবনের খালে বিচরন করে মুন্না বাহিনীর সদস্যেরা।  প্রথম চালান মাছ ধরে লোকালয়ে ফিরে আসা জেলে আবুল হোসেন জানান, তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে এক তারিখে আমরা সুন্দরবনে ঢুকেছিলাম। কিন্তু জলদস্যুদের অপতৎপরতার কারনে বেশিদিন থাকতে পারলাম না। সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরার সময় সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়। তিনি সুন্দরবনে জলদস্যুদের অপতৎপরতা রোধে বন বিভাগ সহ আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ ফজলুল হক জানান, সুন্দরবনের অভায়ারন্য এলাকাসহ যেসব এলাকায় জেলেরা মাছ ধরে সে সমস্ত এলাকায় বন বিভাগ ও স্মার্ট পেট্রোল টিমের পক্ষ থেকে টহল জোরদার করা হয়েছে। জেলেদেরকে নজর রাখার জন্য টিমের সদস্যেদেরকে বলা হয়েছে। শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো: হুমায়ুন কবীর মোল্লা জানান, কোন জেলে অপহরন হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাক্তিরা আমাদেরকে কিছুই জানায় না। অপহ্নত জেলেদের বিপদ হতে পারে এই ভেবে তাদের অভিভাবকরা টাকা দিয়ে তাদেরকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করে। এরপরে অভিযোগ পেলে পুলিশ অপহ্নতদের উদ্ধারের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সুন্দরবনে জলদস্যু আতংকে জেলে বাওয়ালিরা, বিকাশে টাকা পাঠালে মিলছে অপহ্নতদের মুক্তি।

আপডেট সময় : ০১:১২:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

 

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :

সম্প্রতি সময়ে সুন্দরবনে জলদস্যুদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা সুন্দরবনের নদ নদীতে মাছ ধরা জেলেদের মুক্তিপনের দাবিতে অপহরন করে আদায় করছে মোটা অংকের টাকা। বিকাশের মাধ্যমে দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করার পর মুক্তি মিলছে অপহ্নতদের। ফলে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে জীবিকার টানে সুন্দরবনে ঢোকা জেলেদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। খোঁজ নিয়ে জানাযায়, জনৈক অয়েজকুরুনি গাজীর জেলে হিসেবে গত মঙ্গলবার শ্যামনগর উপজেলার ট্যাংরাখালী গ্রামের নুর হোসেনের ছেলে আব্দুস সালাম (২৫) ও ভেটখালী নুতনঘেরি গ্রামের কৃঞ্চ কাহারের ছেলে বিজয় কাহার (৩৮) মাছ ধরতে সুন্দরবনে যায় । দুদিন পর বৃহস্পতিবার বিকালে পায়রাটুনি খালে জাল বিছানোর সময় পাচ সদস্যের জলদস্যুর একটি দল সেখান থেকে বিজয় কাহার ও আব্দুস সালামকে অপহরন করে। জলদস্যুরা তাদের মুক্তির জন্য মাথাপিছু মুক্তিপন হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে দাবি করে। এ ঘটনার পর ৫ সেপ্টেম্বর রাতে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপনের ৩৬ হাজার টাকা পরিশোধের পর জলদস্যুরা ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে আব্দুস সালামকে মুক্তি দেয়। ঔই দিন সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে সুন্দরবন ফেরত অপর জেলেদের নৌকা যোগে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। ফিরে আসা জেলে আব্দুস সালামের পিতা নুর হোসেন জানান, একদিন পরে জিন্মি জেলেদের পরিবারের কাছে কাছে মোবাইলে যোগাযোগ করে মুক্তিপন বাবদ মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা করে দাবি করা হয়। পরবর্তীতে অনুনয়-বিনয় করে ছেলের মুক্তিপন বাবদ ৩৫ হাজার টাকায় জলদস্যুদের রাজি করাতে সম্মত হন। পরে টাকা পরিশোধের পর তাকে ছেড়ে দেয় দস্যুরা। জলদস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা অপর জেলে বিজয় কাহারের পিতা কৃঞ্চ কাহার জানান, শনিবার পর্যন্ত তিনি মুক্তিপনের টাকা সংগ্রহ করতে পারেননি। ছেলের মুক্তিপন বাবদ জলদস্যুদের দাবিকৃত ৫০ হাজার টাকা মোবাইলে বিকাশ করতে বলেছেন তারা। ফিরে আসা জেলে আব্দুস সালাম জানায়, পাঁচ সদস্যের জলদস্যু দলটির কাছে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। তারা ছোট একটি ডিঙি নৌকা নিয়ে সুন্দরবনের মধ্যে দস্যুতা করছে। এদিকে এর আগে গত ২৫ ও ২৬ আগষ্ট দুই দফায় সুন্দরবনের দাড়গাং নদী সংলগ্ন খাল থেকে ৪ জন ও হোগল ডোকরা খাল এবং কালির খাল থেকে তিন জনসহ মোট ৭ জন জেলেকে অপহরণ করে জলদস্যুরা। এরা হলেন শ্যামনগরের পার্শেখালি এলাকার ইব্রাহিম সরদার, আব্দুল হাকিম, সুজিত মুন্ডা, কালিঞ্চি  এলাকার সাত্তার গাজী, আকিনুর, কৈখালির বুলবুল গাজী ও রমজান নগরে তারানিপুর গ্রামের আরাফাত হোসেন। পরে মুক্তিপন দিয়ে সবাই ফিরে আসে। জলদস্যুদের দাবিকৃত মুক্তিপনের ৬০ হাজার টাকা দিয়ে ফিরে আসা জেলে সুজন মুন্ডা জানান, সুন্দরবনে মুন্না বাহিনী নামে নতুন একটি বনদস্যু বাহিনী এসব জেলেদের অপহরণ করেছে। ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় সুন্দরবনের খালে বিচরন করে মুন্না বাহিনীর সদস্যেরা।  প্রথম চালান মাছ ধরে লোকালয়ে ফিরে আসা জেলে আবুল হোসেন জানান, তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে এক তারিখে আমরা সুন্দরবনে ঢুকেছিলাম। কিন্তু জলদস্যুদের অপতৎপরতার কারনে বেশিদিন থাকতে পারলাম না। সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরার সময় সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়। তিনি সুন্দরবনে জলদস্যুদের অপতৎপরতা রোধে বন বিভাগ সহ আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ ফজলুল হক জানান, সুন্দরবনের অভায়ারন্য এলাকাসহ যেসব এলাকায় জেলেরা মাছ ধরে সে সমস্ত এলাকায় বন বিভাগ ও স্মার্ট পেট্রোল টিমের পক্ষ থেকে টহল জোরদার করা হয়েছে। জেলেদেরকে নজর রাখার জন্য টিমের সদস্যেদেরকে বলা হয়েছে। শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো: হুমায়ুন কবীর মোল্লা জানান, কোন জেলে অপহরন হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাক্তিরা আমাদেরকে কিছুই জানায় না। অপহ্নত জেলেদের বিপদ হতে পারে এই ভেবে তাদের অভিভাবকরা টাকা দিয়ে তাদেরকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করে। এরপরে অভিযোগ পেলে পুলিশ অপহ্নতদের উদ্ধারের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।