ঢাকা ১০:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে শামা ওবায়েদকে সংবর্ধনা ফরিদপুরে ইয়াবা সেবনের গ্যাস লাইটার চাওয়া কে কেন্দ্র করে অসহায় বোতল সংগ্রহকারীকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিলেন মাস্টারের ছেলে অসুস্থতার ছুটি না পেয়ে রাতের ডিউটিতে শ্রমিকের মৃত্যু, কারখানার সামনে শ্রমিকদের বিক্ষোভ মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় পরিচালকের ১০ বছরের কারাদণ্ড কালিয়াকোরে বিশেষ অভিযানে অবৈধ চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়  কালিয়াকৈরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কথিত নৈরাজ্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও অস্থিতিশীলতার বি এন পির প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল  ২৭০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারি আটক ২৭০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারি আটক

ফরিদপুরের টেপাখোলা লেক পারের ইতিহাস বর্তমান ও ভবিষ্যৎ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৫:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৬০৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

গালিব মাহাবুব, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি

 

ফরিদপুর শহরের বুকে অবস্থিত টেপাখোলা লেক পারের এক সময় ছিল প্রবহমান একটি নদী নাম তার ভুবনেশ্বর নদ। ব্রিটিশ আমলে এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, যেখানে কলকাতাগামী স্টিমার ও বড় বড় নৌযান চলাচল করতো। লেকের পাশে ছিল স্টিমার ঘাট, টিকিট কাউন্টার ও মালামাল বুকিংয়ের ব্যবস্থাপনা। এখানে নৌকা বাইচের মত গ্রামীণ ক্রীড়া ও উৎসবের আয়োজন হত, যা স্থানীয়দের আনন্দ ও ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।

 

পরবর্তীতে নদীটি তার ন্যায্যতা হারাতে থাকে এবং ধীরে ধীরে একটি লেকের রূপ ধারণ করে। শহরবাসীর কাছে এটি পরিচিতি টেপাখোলা লেক পার নামে বা সোহরাওয়ার্দী জলাশয় নামে। এ লেক শুধু ফরিদপুরের ইতিহাস নয়, বরং তার সভ্যতামূলক  চর্চা ও পরিবেশগত সৌন্দর্যের ও অংশ হয়ে ওঠে।

 

বর্তমান উন্নয়ন প্রকল্প টেপাখোলা লেকে বিশাল এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন, যার বাজেট প্রায় ২০০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে ফরিদপুর জেলা পরিষদ এবং এলজিইডি। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

 

গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, লেকের চারপাশে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক রিসোর্ট এবং বিনোদন কেন্দ্র। থাকবে, জিমনেসিয়াম, ফুড কোর্ট, রেস্টুরেন্ট, ভিক্টোরি মিউজিয়াম ও কমপ্লেক্স, ওয়ান্ডার হুইল, বড় চাকত্তা, চিলড্রেন ওয়াটার গেম, সুইমিং পুল, অ্যাম্ফিথিয়েটার, আর্ট ও ক্রাফ্ট সেন্টার ৩২০ ফুট উচ্চতার ইনডেক্স ফিঙ্গার টাওয়ার ও ২টি লিফট

 

টেপাখোলা লেকপারের আশেপাশের ও স্থানীয়দের গাছ কাটা নিয়ে বিতর্ক কিছু মন্তব্য, উন্নয়ন কাজের অংশ হিসেবে লেক পারের ২৯টি পুরনো মেহগনি গাছ কাটা হচ্ছে, যা নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তবে জেলা পরিষদের আশ্বাস অনুযায়ী, পরিবর্তে ১,৭৬২টি নতুন গাছ রোপণ করা হবে।

 

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এই প্রকল্প শেষ হলে টেপাখোলা লেক পার হয়ে উঠবে একটি আঞ্চলিক পর্যটন কেন্দ্র স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিনোদন স্পট। শহরের অর্থনীতি ও ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যম এটি শুধু ফরিদপুরবাসীর নয়, বরং সারা দেশের মানুষের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুরের টেপাখোলা লেক পারের ইতিহাস বর্তমান ও ভবিষ্যৎ

আপডেট সময় : ০১:২৫:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

 

গালিব মাহাবুব, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি

 

ফরিদপুর শহরের বুকে অবস্থিত টেপাখোলা লেক পারের এক সময় ছিল প্রবহমান একটি নদী নাম তার ভুবনেশ্বর নদ। ব্রিটিশ আমলে এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, যেখানে কলকাতাগামী স্টিমার ও বড় বড় নৌযান চলাচল করতো। লেকের পাশে ছিল স্টিমার ঘাট, টিকিট কাউন্টার ও মালামাল বুকিংয়ের ব্যবস্থাপনা। এখানে নৌকা বাইচের মত গ্রামীণ ক্রীড়া ও উৎসবের আয়োজন হত, যা স্থানীয়দের আনন্দ ও ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।

 

পরবর্তীতে নদীটি তার ন্যায্যতা হারাতে থাকে এবং ধীরে ধীরে একটি লেকের রূপ ধারণ করে। শহরবাসীর কাছে এটি পরিচিতি টেপাখোলা লেক পার নামে বা সোহরাওয়ার্দী জলাশয় নামে। এ লেক শুধু ফরিদপুরের ইতিহাস নয়, বরং তার সভ্যতামূলক  চর্চা ও পরিবেশগত সৌন্দর্যের ও অংশ হয়ে ওঠে।

 

বর্তমান উন্নয়ন প্রকল্প টেপাখোলা লেকে বিশাল এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন, যার বাজেট প্রায় ২০০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে ফরিদপুর জেলা পরিষদ এবং এলজিইডি। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

 

গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, লেকের চারপাশে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক রিসোর্ট এবং বিনোদন কেন্দ্র। থাকবে, জিমনেসিয়াম, ফুড কোর্ট, রেস্টুরেন্ট, ভিক্টোরি মিউজিয়াম ও কমপ্লেক্স, ওয়ান্ডার হুইল, বড় চাকত্তা, চিলড্রেন ওয়াটার গেম, সুইমিং পুল, অ্যাম্ফিথিয়েটার, আর্ট ও ক্রাফ্ট সেন্টার ৩২০ ফুট উচ্চতার ইনডেক্স ফিঙ্গার টাওয়ার ও ২টি লিফট

 

টেপাখোলা লেকপারের আশেপাশের ও স্থানীয়দের গাছ কাটা নিয়ে বিতর্ক কিছু মন্তব্য, উন্নয়ন কাজের অংশ হিসেবে লেক পারের ২৯টি পুরনো মেহগনি গাছ কাটা হচ্ছে, যা নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তবে জেলা পরিষদের আশ্বাস অনুযায়ী, পরিবর্তে ১,৭৬২টি নতুন গাছ রোপণ করা হবে।

 

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এই প্রকল্প শেষ হলে টেপাখোলা লেক পার হয়ে উঠবে একটি আঞ্চলিক পর্যটন কেন্দ্র স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিনোদন স্পট। শহরের অর্থনীতি ও ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যম এটি শুধু ফরিদপুরবাসীর নয়, বরং সারা দেশের মানুষের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠবে।