ঢাকা ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বালিয়াকান্দি উপজেলা শালমারা নিশ্চিন্তপুর শালিকী গ্রাম স্কুল মাঠ প্রাঙ্গনে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ‎শিবচরে সড়ক দুর্ঘটনায় বিএনপির নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান নিহত ‎। ফরিদপুরে দেড় কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার দীর্ঘ ১৮৫ বছরের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল ফরিদপুর পৌরসভা। দেশকে অস্থিতিশীল করতে পতিত অপশক্তির দোসররা নানা ষড়যন্ত্র করছে: রিজভী কালিয়াকৈরে আবাসিক হোটেলে অভিযান, নারী পুরুষ সহ ৩৯ জনকে আটক  নগরকান্দায় সারের ডিলার নিয়োগের জেরে যুবদল নেতাকে হাতুড়িপেটা, আহত ৫ ‎ ‎শিবচরে শিরুয়াইল তরুণ ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী নূরুল ইসলাম খলিফার পরিচিতি সভা ‎ ‎ ‎ কালিয়াকৈরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভায়, ১৪৯ মণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে শিবচরে রাতের আঁধারে জমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ,ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

খুলনার তালা- কয়রা সড়ক উন্নয়ন কাজে কচ্ছপ গতি।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০০:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২২৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :

খুলনার তালা থেকে কয়রা পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ চলছে ধীরগতিতে। ৫৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক উন্নয়ন কাজটি তিনবার সময় বাড়ালেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনোও শেষ করতে পারেনি। সর্বশেষ সময় অনুযায়ী চলতি ডিসেম্বরে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। এখনোও অর্ধেক কাজ শেষ হয়নি। আর বাকি এ কয়দিনে কাজ সম্পন্ন করা নিয়ে আশংকা দেখা দিয়েছে। ফলে রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচলে দিনদিন ভোগান্তি বাড়ছে। তালার আঠালো মাইল থেকে খুলনার কয়রা পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরন ও বাক সোজা করার কাজ চলছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকল্পটি তিন দফায় সময় বাড়িয়ে চলতি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। খুলনা সড়ক ও জনপথ দপ্তরের  তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তালা- কয়রা- ভায়া পাইকগাছা সড়ক যথাযথ মান উন্নতি করন প্রকল্পটি একনেকে পাস হয়। দরপত্র শেষে কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহের এন্টারপ্রাইজ। ২৯ ডিসেম্বর তাদের ৩৩৯ কোটি ৫৮ লাখ ৪৭ হাজার টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২২ সালের ৩০ জুন কাজ শেষ করার কথা ছিল। পরবর্তী সময়ে নানা জটিলতার কারনে তিন দফা এক বছর করে সময় বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর করা হয়। প্রকল্পে ব্যয় বাড়ানো হয় ৪০ কোটি টাকা। এছাড়াও প্রকল্পের মধ্য থেকে তিন কিলোমিটার অংশের জন্য আলাদা করে ব্যয় বাড়ানো হয় আরো ৫৫ কোটি টাকা। সর্বশেষ তালা থেকে পাইকগাছা পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে ছয় ফুট প্রশস্তকরনের বরাদ্দ করা হয় আরো ১শ’ কোটি টাকা। এভাবে প্রকল্পের ব্যয় ১৯৫ কোটি বেড়ে ৫৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা করা হয়েছে। স্বরজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ধীরগতিতে কাজ করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। বাক সোজা করার কাজ ৮০ ভাগ শেষ হলেও সড়ক প্রশস্ত করার কাজ হয়েছে মাত্র ৪০ ভাগ। অনেক জায়গায় ১০ ভাগও কাজ হয়নি। তবে এসব কাজ করার কারনে পথচারী সহ যানবাহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একাধিক পথচারী জানান, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়া ও কয়েকবার সময় বাড়ানোর ফলে বিড়ম্বনা বেড়েছে সড়ক ব্যবহারকারীদের। চলাচলের সময় ধুলাবালিতে সাধারণ মানুষ নাজেহাল হচ্ছে, বিঘ্নিত হচ্ছে যানচলাচলে। স্কুল, কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের চলাচলে চরম সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে হাসপাতালে যেতে রোগীদের রাস্তার মাঝেই কেটে যায় দীর্ঘ সময়। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে এলাকার মানুষ সন্দেহ পোষন করলেও আশাবাদী সড়ক বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। সড়ক বিভাগ জানায়, সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ৩০ টি ঝুঁকিপুর্ন বাক সোজা করা। এতে ১১.২৪ হেক্টর জমি অধিগ্রহণে ৭১ কোটি ৮২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। যার কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। কিছু জমির জায়গা নিয়ে মামলা মোকদ্দমার ঝামেলা পোহাতে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। এছাড়া সরকার পতনের সময় বেশকিছু দিন কাজ বন্ধ ছিল। গত নভেম্বর থেকে আবার পুর্ন গতিতে কাজ শুরু হয়েছে। তবে এখনোও অনেক শ্রমিক কাজে যোগ দিতে পারেনি। দু- একদিনের মধ্যে তারা চলে আসবে। মাইক্রো ড্রাইভার আরিফুল ইসলাম বলেন, আগে তালা থেকে কয়রা যেতে দেড় ঘন্টা সময় লাগতো, আর এখন রাস্তায় কাজ করার কারনে ৪ ঘন্টা সময় লাগে। গাড়িতে তেল খরচ হচ্ছে বেশি। ফলে যাত্রীদের ভাড়া প্রায় দ্ধিগুন দিতে হচ্ছে। ভ্যানে চলাচলকারী মোবারকপুরের হাসমত আলী বলেন, এক রাস্তা সংস্কার করতে আর কত সময় লাগবে। ৩ বছরতো হয়ে গেলো। ধুলোবালি আর বৃষ্টির সময় কাঁদা পানিতে নাকানিচুবানি খেতে হচ্ছে। খুলনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, ” প্রকল্পটি চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হবে। জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতার কারনে তিনবার সময় বাড়ানো হয়েছে। এখন দ্রুত গতিতে বাক সোজা করার কাজ চলছে। এছাড়া সড়ক প্রশস্ত করার কাজ হচ্ছে। আমরা ঠিকাদারকে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছি। তবে অনেক চেষ্টা করেও ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপা রানী সরকার বলেন, আমি ঠিকাদারের সাথে কথা বলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। কাজ চলমান থাকলেও ধীরগতির কারনে নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

খুলনার তালা- কয়রা সড়ক উন্নয়ন কাজে কচ্ছপ গতি।

আপডেট সময় : ০৩:০০:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

 

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :

খুলনার তালা থেকে কয়রা পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ চলছে ধীরগতিতে। ৫৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক উন্নয়ন কাজটি তিনবার সময় বাড়ালেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনোও শেষ করতে পারেনি। সর্বশেষ সময় অনুযায়ী চলতি ডিসেম্বরে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। এখনোও অর্ধেক কাজ শেষ হয়নি। আর বাকি এ কয়দিনে কাজ সম্পন্ন করা নিয়ে আশংকা দেখা দিয়েছে। ফলে রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচলে দিনদিন ভোগান্তি বাড়ছে। তালার আঠালো মাইল থেকে খুলনার কয়রা পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরন ও বাক সোজা করার কাজ চলছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকল্পটি তিন দফায় সময় বাড়িয়ে চলতি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। খুলনা সড়ক ও জনপথ দপ্তরের  তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তালা- কয়রা- ভায়া পাইকগাছা সড়ক যথাযথ মান উন্নতি করন প্রকল্পটি একনেকে পাস হয়। দরপত্র শেষে কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহের এন্টারপ্রাইজ। ২৯ ডিসেম্বর তাদের ৩৩৯ কোটি ৫৮ লাখ ৪৭ হাজার টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২২ সালের ৩০ জুন কাজ শেষ করার কথা ছিল। পরবর্তী সময়ে নানা জটিলতার কারনে তিন দফা এক বছর করে সময় বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর করা হয়। প্রকল্পে ব্যয় বাড়ানো হয় ৪০ কোটি টাকা। এছাড়াও প্রকল্পের মধ্য থেকে তিন কিলোমিটার অংশের জন্য আলাদা করে ব্যয় বাড়ানো হয় আরো ৫৫ কোটি টাকা। সর্বশেষ তালা থেকে পাইকগাছা পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে ছয় ফুট প্রশস্তকরনের বরাদ্দ করা হয় আরো ১শ’ কোটি টাকা। এভাবে প্রকল্পের ব্যয় ১৯৫ কোটি বেড়ে ৫৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা করা হয়েছে। স্বরজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ধীরগতিতে কাজ করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। বাক সোজা করার কাজ ৮০ ভাগ শেষ হলেও সড়ক প্রশস্ত করার কাজ হয়েছে মাত্র ৪০ ভাগ। অনেক জায়গায় ১০ ভাগও কাজ হয়নি। তবে এসব কাজ করার কারনে পথচারী সহ যানবাহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একাধিক পথচারী জানান, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়া ও কয়েকবার সময় বাড়ানোর ফলে বিড়ম্বনা বেড়েছে সড়ক ব্যবহারকারীদের। চলাচলের সময় ধুলাবালিতে সাধারণ মানুষ নাজেহাল হচ্ছে, বিঘ্নিত হচ্ছে যানচলাচলে। স্কুল, কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের চলাচলে চরম সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে হাসপাতালে যেতে রোগীদের রাস্তার মাঝেই কেটে যায় দীর্ঘ সময়। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে এলাকার মানুষ সন্দেহ পোষন করলেও আশাবাদী সড়ক বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। সড়ক বিভাগ জানায়, সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ৩০ টি ঝুঁকিপুর্ন বাক সোজা করা। এতে ১১.২৪ হেক্টর জমি অধিগ্রহণে ৭১ কোটি ৮২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। যার কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। কিছু জমির জায়গা নিয়ে মামলা মোকদ্দমার ঝামেলা পোহাতে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। এছাড়া সরকার পতনের সময় বেশকিছু দিন কাজ বন্ধ ছিল। গত নভেম্বর থেকে আবার পুর্ন গতিতে কাজ শুরু হয়েছে। তবে এখনোও অনেক শ্রমিক কাজে যোগ দিতে পারেনি। দু- একদিনের মধ্যে তারা চলে আসবে। মাইক্রো ড্রাইভার আরিফুল ইসলাম বলেন, আগে তালা থেকে কয়রা যেতে দেড় ঘন্টা সময় লাগতো, আর এখন রাস্তায় কাজ করার কারনে ৪ ঘন্টা সময় লাগে। গাড়িতে তেল খরচ হচ্ছে বেশি। ফলে যাত্রীদের ভাড়া প্রায় দ্ধিগুন দিতে হচ্ছে। ভ্যানে চলাচলকারী মোবারকপুরের হাসমত আলী বলেন, এক রাস্তা সংস্কার করতে আর কত সময় লাগবে। ৩ বছরতো হয়ে গেলো। ধুলোবালি আর বৃষ্টির সময় কাঁদা পানিতে নাকানিচুবানি খেতে হচ্ছে। খুলনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, ” প্রকল্পটি চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হবে। জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতার কারনে তিনবার সময় বাড়ানো হয়েছে। এখন দ্রুত গতিতে বাক সোজা করার কাজ চলছে। এছাড়া সড়ক প্রশস্ত করার কাজ হচ্ছে। আমরা ঠিকাদারকে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছি। তবে অনেক চেষ্টা করেও ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপা রানী সরকার বলেন, আমি ঠিকাদারের সাথে কথা বলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। কাজ চলমান থাকলেও ধীরগতির কারনে নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।