ঢাকা ০৮:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শোক সংবাদ ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল হবে ২৫০ শয্যার, নির্মাণের উদ্যোগ ১৫ তলা আধুনিক ভবনের পত্নীতলায় জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শিবচরে যুবলীগ নেতার দাপট, ভয়-ভীতি ও মারধর করে জমি দখলের অভিযোগ সদরপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত অভিযুক্তের বাড়ির সামনেই ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা নেওয়া ও বাড়ি বিক্রির কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বালিয়াকান্দিতে দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ফরিদপুরে বিএসটিআইয়ের অভিযান, ফিলিং স্টেশনের ৫ ডিসপেন্সিং ইউনিট সিলগালা ভাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলর তিন বন্ধু নিহত অনিয়ম ও অবহেলা সহ্য করা হবে না: সদরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ৩ সেবিকা বদলি

⁨বাংলার লালনকন্যা ফরিদা পারভীনের বিদায়ে জাতি শোকে স্তব্ধ — সুরহীন নীরবতায় কাঁদছে পুরো বাংলার আকাশ-বাতাস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৮:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে :

বাংলার লোকসংগীতের প্রাণ, লালনকন্যা খ্যাত কিংবদন্তি শিল্পী ফরিদা পারভীন চলে গেলেন না ফেরার দেশে। শনিবার রাত সোয়া ১০টায় রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল মাত্র ৭৩ বছর। দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতায় ভুগে তিনি শেষ পর্যন্ত হার মানলেন মৃত্যুর নির্মম গ্রাসে।

যে কণ্ঠে বাংলার প্রাণস্পন্দন, যে কণ্ঠে লালনের দর্শন ও মরমিয়া সুর ছড়িয়ে পড়েছিল দিগন্ত থেকে দিগন্তে, সেই কণ্ঠ আজ চিরতরে স্তব্ধ। ফরিদা পারভীনের প্রস্থান শুধু একজন শিল্পীর মৃত্যু নয়—এটি বাংলার সংস্কৃতির বুকচেরা ব্যথা, এক অপূরণীয় শূন্যতা।

১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়ায় জন্ম নেওয়া এই মহীয়সী শিল্পী মাত্র ১৪ বছর বয়সে সংগীতজীবন শুরু করেন। নজরুলগীতি ও দেশাত্মবোধক গান গেয়েও প্রশংসা কুড়িয়েছেন, তবে লালনগীতিতেই পেয়েছেন সর্বোচ্চ আসন। একুশে পদক (১৯৮৭), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩), এবং জাপান সরকারের ‘ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার’ পুরস্কার (২০০৮)—এসব সম্মান তার কণ্ঠের মহিমার সাক্ষ্য বহন করে।

আজ বাংলার গান নিঃসঙ্গ, বাংলার সংস্কৃতি কাঁদছে। লালনের গান যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মের হৃদয়ে পৌঁছে দিয়েছিলেন, সেই ফরিদা পারভীন চলে যাওয়ায় জাতি শোকে নিমজ্জিত। তার কণ্ঠে লালন ছিল শুধু গান নয়—ছিল বেদনা, ছিল দর্শন, ছিল আত্মার আর্তি।

তার চলে যাওয়া বাঙালির জন্য এক চিরস্থায়ী ক্ষত হয়ে থাকবে।⁩

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

⁨বাংলার লালনকন্যা ফরিদা পারভীনের বিদায়ে জাতি শোকে স্তব্ধ — সুরহীন নীরবতায় কাঁদছে পুরো বাংলার আকাশ-বাতাস

আপডেট সময় : ০৭:৪৮:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে :

বাংলার লোকসংগীতের প্রাণ, লালনকন্যা খ্যাত কিংবদন্তি শিল্পী ফরিদা পারভীন চলে গেলেন না ফেরার দেশে। শনিবার রাত সোয়া ১০টায় রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল মাত্র ৭৩ বছর। দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতায় ভুগে তিনি শেষ পর্যন্ত হার মানলেন মৃত্যুর নির্মম গ্রাসে।

যে কণ্ঠে বাংলার প্রাণস্পন্দন, যে কণ্ঠে লালনের দর্শন ও মরমিয়া সুর ছড়িয়ে পড়েছিল দিগন্ত থেকে দিগন্তে, সেই কণ্ঠ আজ চিরতরে স্তব্ধ। ফরিদা পারভীনের প্রস্থান শুধু একজন শিল্পীর মৃত্যু নয়—এটি বাংলার সংস্কৃতির বুকচেরা ব্যথা, এক অপূরণীয় শূন্যতা।

১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়ায় জন্ম নেওয়া এই মহীয়সী শিল্পী মাত্র ১৪ বছর বয়সে সংগীতজীবন শুরু করেন। নজরুলগীতি ও দেশাত্মবোধক গান গেয়েও প্রশংসা কুড়িয়েছেন, তবে লালনগীতিতেই পেয়েছেন সর্বোচ্চ আসন। একুশে পদক (১৯৮৭), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩), এবং জাপান সরকারের ‘ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার’ পুরস্কার (২০০৮)—এসব সম্মান তার কণ্ঠের মহিমার সাক্ষ্য বহন করে।

আজ বাংলার গান নিঃসঙ্গ, বাংলার সংস্কৃতি কাঁদছে। লালনের গান যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মের হৃদয়ে পৌঁছে দিয়েছিলেন, সেই ফরিদা পারভীন চলে যাওয়ায় জাতি শোকে নিমজ্জিত। তার কণ্ঠে লালন ছিল শুধু গান নয়—ছিল বেদনা, ছিল দর্শন, ছিল আত্মার আর্তি।

তার চলে যাওয়া বাঙালির জন্য এক চিরস্থায়ী ক্ষত হয়ে থাকবে।⁩