ঢাকা ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জরুরি বিজ্ঞপ্তিঃ তারিখ ০৮-০৬-২০২৬ ইং  ৬৫ শতাংশ গ্রাহককে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে দেশীয় প্রযুক্তিতে বিদ্যুচ্চালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরির উদ্যোগ বোয়ালমারীতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে তিন সন্তানের জনক গ্রেপ্তার ফরিদপুরে প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে ইমাম পরিবারের বসতবাড়িতে হামলার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ দৌলতদিয়ায় ফেরিঘাটে আবারও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে গেলো যাত্রীবাহী বাস কালিয়াকৈরে ছিনতাই হওয়া প্রাইভেটকার উদ্ধার, সংঘবদ্ধ চক্রের ৩ জন সদস্য গ্রেপ্তার কালিয়াকৈরে মানববন্ধন ইসলামী ব্যাংক নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে

বাণিজ্য সচিব নিয়োগে ৩৫ কোটির বাণিজ্য : নেপথ্যে নাহিদ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৩:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

স ম জিয়াউর রহমান :

ছাত্র বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক দলের (এনসিপি) আহ্বায়ক মুহাম্মদ নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে বাণিজ্য সচিব নিয়োগে ৩৫ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার এক বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তথ্য পাচার মামলার ৬ নম্বর আসামি মো. মাহবুবুর রহমানকে বাণিজ্য সচিব পদে পদোন্নতি দিতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে। ফৌজদারি মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তাকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে নিয়োগ দেওয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জনপ্রশাসন নীতি অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করে মাহবুবুর রহমানকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, মো. মাহবুবুর রহমান পূর্বে আইসিটি বিভাগে ডেটা সেন্টারের দায়িত্বে ছিলেন। তার দায়িত্বকালেই দেশের কোটি কোটি নাগরিকের সংবেদনশীল তথ্য পাচারের মতো গুরুতর ঘটনা ঘটে। তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও রয়েছে। এমন একজন বিতর্কিত কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার পেছনে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগটি তাই নতুন মাত্রা পেয়েছে।

জুলাই বিপ্লবের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং সচেতন মহলে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই বিপ্লব, সেই দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এই নিয়োগ এবং এর পেছনের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগটি দেশের প্রশাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মেধার মূল্যায়নকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এ বিষয়ে মুহাম্মদ নাহিদ ইসলাম বা তার দল এনসিপি’র পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে একটি নিরপেক্ষ ও
তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বাণিজ্য সচিব নিয়োগে ৩৫ কোটির বাণিজ্য : নেপথ্যে নাহিদ

আপডেট সময় : ১২:০৩:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

স ম জিয়াউর রহমান :

ছাত্র বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক দলের (এনসিপি) আহ্বায়ক মুহাম্মদ নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে বাণিজ্য সচিব নিয়োগে ৩৫ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার এক বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তথ্য পাচার মামলার ৬ নম্বর আসামি মো. মাহবুবুর রহমানকে বাণিজ্য সচিব পদে পদোন্নতি দিতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে। ফৌজদারি মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তাকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে নিয়োগ দেওয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জনপ্রশাসন নীতি অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করে মাহবুবুর রহমানকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, মো. মাহবুবুর রহমান পূর্বে আইসিটি বিভাগে ডেটা সেন্টারের দায়িত্বে ছিলেন। তার দায়িত্বকালেই দেশের কোটি কোটি নাগরিকের সংবেদনশীল তথ্য পাচারের মতো গুরুতর ঘটনা ঘটে। তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও রয়েছে। এমন একজন বিতর্কিত কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার পেছনে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগটি তাই নতুন মাত্রা পেয়েছে।

জুলাই বিপ্লবের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং সচেতন মহলে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই বিপ্লব, সেই দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এই নিয়োগ এবং এর পেছনের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগটি দেশের প্রশাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মেধার মূল্যায়নকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এ বিষয়ে মুহাম্মদ নাহিদ ইসলাম বা তার দল এনসিপি’র পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে একটি নিরপেক্ষ ও
তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অনেকে।