২০ বছর পর রায় ফরিদপুরে খ্রীস্টান সম্প্রদায়ের দুই ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে চারজনের যাবজ্জীবন
- আপডেট সময় : ০৮:০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫ ১৪৩ বার পড়া হয়েছে

পার্থপ্রতিম ভদ্র, ক্রাইম রিপোর্টার:
২০ বছর আগে ফরিদপুরে খ্রীস্টান সম্প্রদায়ের দুই ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে চারজনকে যাবাজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদেরকে আরও ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড ভোগ করতে হবে।
গত ২০০৫ সালের ২৮ জুলাই দিবাগত রাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চর ধোপাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রায় ২০ বছর পর আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে এ আদেশ দেন ফরিদপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শফিউদ্দীন।
এ মামলার ওই চার আসামী পলাতক থাকায় তাদের অবর্তমানে এ রায় প্রদান করা হয়। রায় ঘোষণার পাশাপাশি পলাতক সাজাপ্রাপ্ত ওই চার আসামির নামে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি করা হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত ওই চার ব্যক্তি হলেন, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের শিরগ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন (৫৩), বোয়ালমারী উপজেলার গুণবাহা ইউনিয়নের গুণবাহা গ্রামের কামরুল হাসান ওরফে কামরুজ্জামান (৪৫), বোয়ালমারী চাঁদপুর ইউনিয়নের ধোপাপাড়া গ্রামের মনিরুজ্জামান ওরফে মনির (৪০) ও একই ইউনিয়নের চর ধোপাপাড়া গ্রামের আব্দুস সামাদ (৬০)।
আদালত সুত্রে জানা গেছে, নিহত দুই খ্রীস্টান সম্প্রদায়ের ব্যক্তি হলেন, তপন রায় (৩০) ও নিকলাল মাঝি (৩৫)। এরা বোয়ালমারীর চর ধোপাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিপুল কুমার বাকচীর বাড়ির ভাড়াটিয়া।
২০০৫ সালের ২৮ জুলাই দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে অজ্ঞাত ঘাতকরা ওই দুই ব্যাক্তির বাড়িতে ঢুকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে তদের কুপিয়ে জখম করে। পরে এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ওই বাড়ির মালিক বিপুল কুমার বাকচী বাদী হয়ে ২০০৫ সালের ২৮ জুলাই অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে বোয়ালমারী থানায় একটি হত্যা মামলাদায়ের করেন।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুলতান মাহমুদ ২০০৭ সালের ২৮ মার্চ ওই চার ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র প্রদান করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের বিশেষ জজ আদালতের সরকার পক্ষের কৌশলী (পিপি) মো. আজিজুর রহমান বলেন, তিনি বলেন আসামীদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ঘাতকরা টাকার লোভে ওই দুই ব্যক্তির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটিয়েছিল। তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তবে তারা জামিনে গিয়ে পলাতক হন। বহু বিলম্বে হলেও এ জোড়া হত্যাকান্ডের ঘটনায় আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সস্তুষ্ট।
























