ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিবচরে আধুনিক ডাকবাংলোর শুভ উদ্বোধন সদরপুরে মোবাইল ব্যবসায়ীকে হানিট্র্যাপে ফেলে ১৮ ঘণ্টা জিম্মি ও টাকা লুটের অভিযোগ: ২ নারী আটক শারদীয়া দুর্গাপূজা ষষ্ঠ থেকে দশমি পর্যন্ত পাঁচ দিন ব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত সদরপুরে ৩৫টি মণ্ডপে পালিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা, আজ প্রতিমা বিসর্জন বালিয়াকান্দি উপজেলা শালমারা নিশ্চিন্তপুর শালিকী গ্রাম স্কুল মাঠ প্রাঙ্গনে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ‎শিবচরে সড়ক দুর্ঘটনায় বিএনপির নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান নিহত ‎। ফরিদপুরে দেড় কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার দীর্ঘ ১৮৫ বছরের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল ফরিদপুর পৌরসভা। দেশকে অস্থিতিশীল করতে পতিত অপশক্তির দোসররা নানা ষড়যন্ত্র করছে: রিজভী কালিয়াকৈরে আবাসিক হোটেলে অভিযান, নারী পুরুষ সহ ৩৯ জনকে আটক 

ফরিদপুর বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেলেন দুই মন্ত্রী কন্যা সহ তিনজন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৪:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫ ২০৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

সেক মোহাম্মদ আফজাল

ব্যুরো চীফ

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুরের চারটি আসনের তিনটিতে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর মধ্যে ফরিদপুর-১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা স্থগিত রেখেছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এটি পরে ঘোষণা করা হবে। বাকি তিনটি আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলামসহ তিন জন। এর আগে একসঙ্গে তাদের পদ স্থগিত করা হয়েছিল।

সোমবার বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় ২৩৭ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। যারা ধানের শীষ প্রতীকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে লড়বেন।

ফরিদপুরের চারটি আসনের মধ্যে দুজন নারীকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। তারা হলেন ফরিদপুর-২ আসনে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির সাবেক মহাসচিব কেএম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদ। তিনি ফরিদপুর বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি বিগত দুটি সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ উপনেতা প্রয়াত সাজেদা চৌধুরীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। পাশাপাশি ফরিদপুর-৩ মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে নায়াব ইউসুফ আহমেদ। তিনি মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এ ছাড়া ফরিদপুর-৪ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন শহীদুল ইসলাম বাবুল। তিনি কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন। তবে ফরিদপুর- ১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি।

দলীয় মনোনয়ন পেয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, সর্বপ্রথম মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এরপর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, স্থায়ী কমিটির নীতিনির্ধারকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর আমার দল এবং দেশের মানুষের বহু কষ্ট এবং ত্যাগের বিনিময়ে আজ দেশ নির্বাচনমুখী হয়েছে। আমিও সেই ত্যাগের একজন অংশীদার। যদি নির্বাচিত হই প্রয়াত বাবার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করবো এবং নগরকান্দা, সালথা বাসীর সাথে থাকবো।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২১ আগস্ট একসঙ্গে পৃথক দুটি চিঠি দিয়ে বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলামের দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছিল। পরে ওই বছরের ১০ নভেম্বর স্থগিত হওয়া দলীয় পদ ফিরে পেয়েছেন তারা। তখন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে বলা হয়, গত ২১ আগস্ট ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য আপনার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রাথমিক পদসহ সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছে। নির্দেশক্রমে আপনার সব পদের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হলো। চিঠিতে দুই নেতাকে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, ‘উল্লেখিত ঘটনার মতো কোনও সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সে জন্য আপনাকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হলো। আপনি এখন থেকে দলের নীতি, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠাবান হবেন বলে দল প্রত্যাশা করে।

গত ২১ আগস্ট কৃষক দলের নেতা শহীদুল ইসলাম মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা চৌরাস্তা হয়ে নগরকান্দা উপজেলা সদর ও তালমার মোড় হয়ে ফরিদপুর শহরে যাচ্ছিলেন। পথে নগরকান্দায় শামা ওবায়েদের সমর্থকরা শহীদুলের সমর্থকদের ওপর হামলা করেন। হামলায় কবির ভুঁইয়া (৫০) নামে শহীদুলের এক সমর্থক নিহত হন। এ ঘটনার পর রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি চিঠিতে শামা ওবায়েদ ও শহীদুল ইসলামের প্রাথমিক সদস্যসহ দলীয় সব পদ স্থগিত করা হয়। দীর্ঘ ৭৯ দিন পর পদ ফিরে পান তারা। অবশেষে দুজনে একসঙ্গে মনোনয়ন পেলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুর বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেলেন দুই মন্ত্রী কন্যা সহ তিনজন

আপডেট সময় : ১০:১৪:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫

 

সেক মোহাম্মদ আফজাল

ব্যুরো চীফ

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুরের চারটি আসনের তিনটিতে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর মধ্যে ফরিদপুর-১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা স্থগিত রেখেছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এটি পরে ঘোষণা করা হবে। বাকি তিনটি আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলামসহ তিন জন। এর আগে একসঙ্গে তাদের পদ স্থগিত করা হয়েছিল।

সোমবার বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় ২৩৭ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। যারা ধানের শীষ প্রতীকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে লড়বেন।

ফরিদপুরের চারটি আসনের মধ্যে দুজন নারীকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। তারা হলেন ফরিদপুর-২ আসনে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির সাবেক মহাসচিব কেএম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদ। তিনি ফরিদপুর বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি বিগত দুটি সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ উপনেতা প্রয়াত সাজেদা চৌধুরীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। পাশাপাশি ফরিদপুর-৩ মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে নায়াব ইউসুফ আহমেদ। তিনি মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এ ছাড়া ফরিদপুর-৪ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন শহীদুল ইসলাম বাবুল। তিনি কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন। তবে ফরিদপুর- ১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি।

দলীয় মনোনয়ন পেয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, সর্বপ্রথম মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এরপর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, স্থায়ী কমিটির নীতিনির্ধারকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর আমার দল এবং দেশের মানুষের বহু কষ্ট এবং ত্যাগের বিনিময়ে আজ দেশ নির্বাচনমুখী হয়েছে। আমিও সেই ত্যাগের একজন অংশীদার। যদি নির্বাচিত হই প্রয়াত বাবার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করবো এবং নগরকান্দা, সালথা বাসীর সাথে থাকবো।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২১ আগস্ট একসঙ্গে পৃথক দুটি চিঠি দিয়ে বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলামের দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছিল। পরে ওই বছরের ১০ নভেম্বর স্থগিত হওয়া দলীয় পদ ফিরে পেয়েছেন তারা। তখন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে বলা হয়, গত ২১ আগস্ট ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য আপনার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রাথমিক পদসহ সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছে। নির্দেশক্রমে আপনার সব পদের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হলো। চিঠিতে দুই নেতাকে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, ‘উল্লেখিত ঘটনার মতো কোনও সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সে জন্য আপনাকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হলো। আপনি এখন থেকে দলের নীতি, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠাবান হবেন বলে দল প্রত্যাশা করে।

গত ২১ আগস্ট কৃষক দলের নেতা শহীদুল ইসলাম মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা চৌরাস্তা হয়ে নগরকান্দা উপজেলা সদর ও তালমার মোড় হয়ে ফরিদপুর শহরে যাচ্ছিলেন। পথে নগরকান্দায় শামা ওবায়েদের সমর্থকরা শহীদুলের সমর্থকদের ওপর হামলা করেন। হামলায় কবির ভুঁইয়া (৫০) নামে শহীদুলের এক সমর্থক নিহত হন। এ ঘটনার পর রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি চিঠিতে শামা ওবায়েদ ও শহীদুল ইসলামের প্রাথমিক সদস্যসহ দলীয় সব পদ স্থগিত করা হয়। দীর্ঘ ৭৯ দিন পর পদ ফিরে পান তারা। অবশেষে দুজনে একসঙ্গে মনোনয়ন পেলেন।