ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরের সালথায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ, থানায় এজাহার দায়ের। নওগাঁ মধ্যরাতের অভিযানে ৯০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার পত্নীতলায় ১৪০ পিচ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক সদরপুরে ভুবনেশ্বর নদ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির গলিত মরদেহ উদ্ধার ফরিদপুরে সাংবাদিকতার পরিচয়ের আড়ালে মাদক ব্যবসা জরুরি বিজ্ঞপ্তিঃ তারিখ ০৮-০৬-২০২৬ ইং  ৬৫ শতাংশ গ্রাহককে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে দেশীয় প্রযুক্তিতে বিদ্যুচ্চালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরির উদ্যোগ বোয়ালমারীতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে তিন সন্তানের জনক গ্রেপ্তার

রায় শুনে আনন্দে কাঁদলেন আহত ও নিহতের স্বজনরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৮:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ২৮০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ইমন চৌধুরী স্টাফ রিপোর্টার

দীর্ঘ প্রতীক্ষা, চোখের নিচে ক্লান্তির রেখা আর বুকভরা হাহাকার—সবকিছুকে ছাপিয়ে আজ আদালত চত্বরে ফুটে উঠল এক ভিন্ন দৃশ্য। ন্যায়বিচারের কাঙ্ক্ষিত রায় ঘোষণার পর আহত ও নিহতদের স্বজনদের মুখে দেখা গেল স্বস্তির আলো, আর সেই আলোর সাথেই ঝরে পড়ল অশ্রু—বেদনার নয়, আনন্দের।

আজ বেলা ১২টার দিকে আদালতের বিচারক মামলার রায় পড়া শুরু করলে পুরো আদালতকক্ষে নেমে আসে নিস্তব্ধতা। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা হাত ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। রায়ে আসামিদের উপযুক্ত শাস্তি ঘোষণার পরপরই স্বজনদের চোখ ভিজে ওঠে আবেগে। কেউ হাত তুলে তাকালেন আকাশের দিকে, কেউ আবার ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “আজ আমাদের কষ্টের কিছুটা হলেও সান্ত্বনা মিলল।”

এক নিহতের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি আমার ছেলেকে আর ফিরে পাব না, কিন্তু আজ অন্তত তার হত্যার বিচার পেলাম। আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া।” আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত তার আত্মীয়স্বজনরা তাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন।

এদিকে আহতদের পরিবারগুলোও রায়ের পর অনুভব করেন এক ধরনের নিরাপত্তা ও সন্তুষ্টি। একজন আহতের ভাই বলেন, “এই রায়ের জন্য আমরা দিনের পর দিন অপেক্ষা করেছি। আজ মনে হচ্ছে, আমাদের কষ্ট আদালত বুঝেছে।”

রায়কে ঘিরে আদালত এলাকায় ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিচার শেষে স্বজনদের অনেকেই বাইরে এসে একে অপরকে আলিঙ্গন করেন। কেউ কেউ দোয়া পাঠ করেন নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে।

আইনজীবীরাও রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি ন্যায়বিচারের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই রায় ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ভূমিকা রাখবে।

বিচার পেয়ে আনন্দে ভাসলেও স্বজনদের চোখে ছিল না পাওয়া মানুষগুলোর শূন্যতার ছাপ। তবু আজকের রায় তাদের মনে কিছুটা হলেও প্রশান্তি এনে দিয়েছে—এই বিশ্বাস নিয়েই আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন সবাই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

রায় শুনে আনন্দে কাঁদলেন আহত ও নিহতের স্বজনরা

আপডেট সময় : ০১:২৮:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

 

ইমন চৌধুরী স্টাফ রিপোর্টার

দীর্ঘ প্রতীক্ষা, চোখের নিচে ক্লান্তির রেখা আর বুকভরা হাহাকার—সবকিছুকে ছাপিয়ে আজ আদালত চত্বরে ফুটে উঠল এক ভিন্ন দৃশ্য। ন্যায়বিচারের কাঙ্ক্ষিত রায় ঘোষণার পর আহত ও নিহতদের স্বজনদের মুখে দেখা গেল স্বস্তির আলো, আর সেই আলোর সাথেই ঝরে পড়ল অশ্রু—বেদনার নয়, আনন্দের।

আজ বেলা ১২টার দিকে আদালতের বিচারক মামলার রায় পড়া শুরু করলে পুরো আদালতকক্ষে নেমে আসে নিস্তব্ধতা। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা হাত ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। রায়ে আসামিদের উপযুক্ত শাস্তি ঘোষণার পরপরই স্বজনদের চোখ ভিজে ওঠে আবেগে। কেউ হাত তুলে তাকালেন আকাশের দিকে, কেউ আবার ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “আজ আমাদের কষ্টের কিছুটা হলেও সান্ত্বনা মিলল।”

এক নিহতের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি আমার ছেলেকে আর ফিরে পাব না, কিন্তু আজ অন্তত তার হত্যার বিচার পেলাম। আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া।” আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত তার আত্মীয়স্বজনরা তাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন।

এদিকে আহতদের পরিবারগুলোও রায়ের পর অনুভব করেন এক ধরনের নিরাপত্তা ও সন্তুষ্টি। একজন আহতের ভাই বলেন, “এই রায়ের জন্য আমরা দিনের পর দিন অপেক্ষা করেছি। আজ মনে হচ্ছে, আমাদের কষ্ট আদালত বুঝেছে।”

রায়কে ঘিরে আদালত এলাকায় ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিচার শেষে স্বজনদের অনেকেই বাইরে এসে একে অপরকে আলিঙ্গন করেন। কেউ কেউ দোয়া পাঠ করেন নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে।

আইনজীবীরাও রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি ন্যায়বিচারের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই রায় ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ভূমিকা রাখবে।

বিচার পেয়ে আনন্দে ভাসলেও স্বজনদের চোখে ছিল না পাওয়া মানুষগুলোর শূন্যতার ছাপ। তবু আজকের রায় তাদের মনে কিছুটা হলেও প্রশান্তি এনে দিয়েছে—এই বিশ্বাস নিয়েই আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন সবাই।