ঢাকা ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রক্তদান কর্মসূচি বিশিষ্ট নজরুল সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে ‘সোহানা আন্তর্জাতিক ব্যবসা পুরস্কার-২০২৬’ অর্জন করলেন- ফরিদপুররের লতা জেলা পরিষদ প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশকে ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাবের জন্মদিনের শুভেচ্ছা পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাবের শুভেচ্ছা বার্তা পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন ফরিদপুর মটর ওয়ার্কার্স (১০৫৫) শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ফরিদপুর সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন নায়াব ইউসুফ ফরিদপুরবাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন জসিম হাওলাদার কৈজুরীবাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন যুবদল নেতা সুমন শেখ নজরুল সংগীতে মুগ্ধতা ছড়ালেন ফরিদপুরের ‘লাইলি খালা’ বটিয়াঘাটায় প্রতারক নারী জৌলুস ইসহাক নাজমা দম্পতি গ্রেফতার

ঐতিহ্য ও গৌরবের ১৮৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ফরিদপুর জিলা স্কুলের পূর্ণমিলনী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৫১ বার পড়া হয়েছে

oplus_2

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

রেজাউল করিম – ফরিদপুর 

 

ঐতিহ্য ও গৌরবের ১৮৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঐতিহাসিক ফরিদপুর জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠেন স্কুলের ১৯৯৩ সালের এসএসসি ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানে প্রথমে কোরআন তেলাওয়াত দিয়ে শুরু করেন এরপর জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন উরানো, ফেস্টুন ও পায়রা উড়োনোর পরে একটি শোভাযাত্রা রেলি বের করে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। উক্ত অনুষ্ঠানের উৎসব কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান শামীম, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম পিপিএম,জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রীতিলতা সরকার, এবং অনুষ্ঠানটির সদস্য সচিব এর দায়িত্ব পালন করেন ওয়াহিদ মিয়া কুটি সহ আরও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এসময় বক্তারা ইস্কুলের উন্নয়ন ও আগামী অনুষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে সকল বন্ধুদের সাথে দেখা পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন ৯৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। অনেকেই প্রায় তিন দশক পর আবার স্কুল প্রাঙ্গণে পা রেখে ফিরে যান ছোটবেলার সেই ছাত্রজীবনের স্মৃতিময় দিনগুলোতে। বন্ধুত্ব, দুষ্টুমি, ক্লাস ফাঁকি, শিক্ষকদের শাসন ও স্নেহ—সবকিছুই যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

১৯৯৩ সালে এসএসসি পাস করার পর ব্যাচের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন নামকরা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। বর্তমানে কেউ সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে কর্মরত, কেউ সফল ব্যবসায়ী, আবার কেউ বিদেশে প্রবাস জীবন গড়ে তুলেছেন। ভিন্ন ভিন্ন পেশা ও অবস্থানে থাকলেও এই মিলনমেলায় সবাই আবার ফিরে যান একই পরিচয়ে—ফরিদপুর জিলা স্কুলের ছাত্র।

অনুষ্ঠান চলাকালে বন্ধুরা একে অপরের খোঁজখবর নেন, স্মৃতিচারণ করেন পুরনো দিনের নানা ঘটনা নিয়ে। কেউ কেউ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্কুল জীবনের স্মৃতি স্মরণ করতে গিয়ে। ছবি তোলা, আড্ডা, হাসি-ঠাট্টা ও গল্পে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

৯৩ ব্যাচের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ফরিদপুর জিলা স্কুল শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি তাদের জীবনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ আজও তাদের জীবনের পথচলায় অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।

১৮৫ বছর পূর্তির এই আয়োজনকে ঘিরে এমন মিলনমেলা ফরিদপুর জিলা স্কুলের গৌরবময় ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করেছে বলে মনে করেন অংশগ্রহণকারীরা। ভবিষ্যতেও এ ধরনের পুনর্মিলনী আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঐতিহ্য ও গৌরবের ১৮৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ফরিদপুর জিলা স্কুলের পূর্ণমিলনী

আপডেট সময় : ১০:২৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

 

 

রেজাউল করিম – ফরিদপুর 

 

ঐতিহ্য ও গৌরবের ১৮৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঐতিহাসিক ফরিদপুর জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠেন স্কুলের ১৯৯৩ সালের এসএসসি ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানে প্রথমে কোরআন তেলাওয়াত দিয়ে শুরু করেন এরপর জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন উরানো, ফেস্টুন ও পায়রা উড়োনোর পরে একটি শোভাযাত্রা রেলি বের করে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। উক্ত অনুষ্ঠানের উৎসব কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান শামীম, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম পিপিএম,জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রীতিলতা সরকার, এবং অনুষ্ঠানটির সদস্য সচিব এর দায়িত্ব পালন করেন ওয়াহিদ মিয়া কুটি সহ আরও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এসময় বক্তারা ইস্কুলের উন্নয়ন ও আগামী অনুষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে সকল বন্ধুদের সাথে দেখা পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন ৯৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। অনেকেই প্রায় তিন দশক পর আবার স্কুল প্রাঙ্গণে পা রেখে ফিরে যান ছোটবেলার সেই ছাত্রজীবনের স্মৃতিময় দিনগুলোতে। বন্ধুত্ব, দুষ্টুমি, ক্লাস ফাঁকি, শিক্ষকদের শাসন ও স্নেহ—সবকিছুই যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

১৯৯৩ সালে এসএসসি পাস করার পর ব্যাচের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন নামকরা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। বর্তমানে কেউ সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে কর্মরত, কেউ সফল ব্যবসায়ী, আবার কেউ বিদেশে প্রবাস জীবন গড়ে তুলেছেন। ভিন্ন ভিন্ন পেশা ও অবস্থানে থাকলেও এই মিলনমেলায় সবাই আবার ফিরে যান একই পরিচয়ে—ফরিদপুর জিলা স্কুলের ছাত্র।

অনুষ্ঠান চলাকালে বন্ধুরা একে অপরের খোঁজখবর নেন, স্মৃতিচারণ করেন পুরনো দিনের নানা ঘটনা নিয়ে। কেউ কেউ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্কুল জীবনের স্মৃতি স্মরণ করতে গিয়ে। ছবি তোলা, আড্ডা, হাসি-ঠাট্টা ও গল্পে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

৯৩ ব্যাচের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ফরিদপুর জিলা স্কুল শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি তাদের জীবনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ আজও তাদের জীবনের পথচলায় অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।

১৮৫ বছর পূর্তির এই আয়োজনকে ঘিরে এমন মিলনমেলা ফরিদপুর জিলা স্কুলের গৌরবময় ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করেছে বলে মনে করেন অংশগ্রহণকারীরা। ভবিষ্যতেও এ ধরনের পুনর্মিলনী আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।