সাংবাদিক হেনস্তা ও প্রশাসনের কাজে বাধার অভিযোগ তাঁতী দলের সভাপতি সোহেল সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ সাংবাদিক মহল
- আপডেট সময় : ০৬:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৩০২ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাংবাদিকদের হেনস্তা ও প্রশাসনের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁতী দলের সভাপতি সোহেল সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, অপরাধ আড়াল করতে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
ঘটনার সূত্রপাত টঙ্গীর দেওড়া এলাকায় অবস্থিত তালিমুস সুন্নাহ বালিকা মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে। গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) মাদ্রাসাটির তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সোহানা (১১) নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা মানিক মিয়া স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি জানান এবং ঘটনাস্থলে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সভাপতি আবুল হাসেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে তিনি পূর্বে অবগত ছিলেন না। শিশু নির্যাতনের বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয় উল্লেখ করে তিনি তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের উপস্থিতিতেও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের আচরণ ছিল অবমাননাকর। একইসঙ্গে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতিও উত্তেজনাকর আচরণ করা হয়। ওই সময় ঘটনাস্থলে প্রায় ১৮ থেকে ২০টি গণমাধ্যমের সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ সময় উত্তেজনা চলার পর সন্ধ্যার দিকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের আহ্বানে তাঁতী দলের সভাপতি সোহেল সিদ্দিকী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি একদল বহিরাগত ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন নিয়ে সেখানে যান। এ সময় তিনি টঙ্গী পশ্চিম থানার এক পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে প্রশাসনকে সরে যেতে বলেন এবং নিজেই বিষয়টি ‘মীমাংসা’ করবেন বলে হুংকার দেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কি রাজনৈতিক নেতার নির্দেশে কাজ করবে?
আরও অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসন ও সাংবাদিকদের আড়ালে ভুক্তভোগী মানিক মিয়াকে মাদ্রাসার ভেতরে ডেকে নিয়ে একটি লিখিত সমঝোতা তৈরি করে তাতে স্বাক্ষর করানো হয়। পরবর্তীতে সেটি প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সামনে পড়ে শোনানো হয়।
এ সময় বঙ্গ টেলিভিশনের সাংবাদিক সামিমা খানম ঘটনার সত্যতা জানতে প্রশ্ন করলে সোহেল সিদ্দিকী ও তার সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা সংঘবদ্ধভাবে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে প্রকাশ্যে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। এতে উপস্থিত ১৮–২০টি গণমাধ্যমের সাংবাদিক চরমভাবে হেনস্তার শিকার হন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোহেল সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে এর আগেও জমি ও বাড়ি দখলসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এমনকি গভীর রাতে মদ্যপ অবস্থায় টঙ্গী রিপোর্টার্স ক্লাবে ভাঙচুরের ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণ ও সাংবাদিক সমাজ তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
















