ঢাকা ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরে বিএসটিআইয়ের অভিযান, ফিলিং স্টেশনের ৫ ডিসপেন্সিং ইউনিট সিলগালা ভাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলর তিন বন্ধু নিহত অনিয়ম ও অবহেলা সহ্য করা হবে না: সদরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ৩ সেবিকা বদলি দেশে সারের সংকট নেই, চার মাসের বাড়তি মজুত রয়েছে: কৃষিমন্ত্রী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা রোগী হয়রানি বন্ধ, দালালমুক্ত পরিবেশ ও জরুরি অবকাঠামো উন্নয়নে জোর পত্নীতলায় বিএনপির প্রস্তুতি সভা শিবচরে চার বছর বিদ্যুৎহীন উম্মে হানি, মোমবাতির আলোয় চলছে পড়াশোনা ধামইরহাটে ১ হাজার ৫৮০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বিজিবি নওগাঁ জেলার পোরশায় প্রায় ২০ কেজি ওজনের কষ্টিপাথর সদৃশ হিন্দুধর্মীয় দেবতার মূর্তি উদ্ধার নগরকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহাবুব শেখের ঘোষণা

ফরিদপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে মারধরের জেরে মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ ২২৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

মোঃ মাহাবুব মিয়া, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি 

ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার চর কমলাপুর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মারধরের ঘটনায় দীর্ঘ চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল কাশেম মোল্লা (৪২) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে ফরিদপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আবুল কাশেম মোল্লা চর কমলাপুরের বাসিন্দা এবং মৃত মোঃ হাসেম মোল্লার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে চর কমলাপুর খলিফা মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় নিজের কেনা জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে এক ক্রেতাকে জমি দেখাচ্ছিলেন আবুল কাশেম মোল্লা। এ সময় আফজাল মোল্লা (৫০) ঘটনাস্থলে এসে ওই জমি নিজের দাবি করে বাধা দেন।

এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে আবুল কাশেম মোল্লা, আফজাল মোল্লাকে জমির কাগজপত্র দেখাতে বলেন। এ কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে আফজাল মোল্লা তার সহযোগীদের ডেকে এনে আবুল কাশেম মোল্লার ওপর বেধড়ক মারধর চালায়। এক পর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে পুনরায় ফরিদপুরে আনা হলে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তাকে ফরিদপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তার পায়ে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ১৪ জানুয়ারি দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে অপারেশনের আগেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহতের স্ত্রী ফরিদা পারভিন অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী অত্যন্ত সৎ ও ভালো মানুষ ছিলেন। এলাকাবাসী সবাই তা জানেন। আমাদের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না। নিজের কেনা জমি বিক্রি করতেই এই মর্মান্তিক পরিণতি হলো। তিনি তার স্বামীর মৃত্যুর জন্য আফজাল মোল্লা, তামিম মোল্লা (২০), পুষ্প (২০), নাজমা আক্তার (৪৫), রোজিনা বেগম (৬২), জিতু (১৯) সহ আরও কয়েকজনকে দায়ী করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই হামলার ফলেই দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আবুল কাশেম মোল্লার মৃত্যু হয়। এলাকাবাসী দ্রুত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর সদর কোতোয়ালি থানার ইনচার্জ সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে মারধরের জেরে মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ।

আপডেট সময় : ০৪:৪২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

 

মোঃ মাহাবুব মিয়া, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি 

ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার চর কমলাপুর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মারধরের ঘটনায় দীর্ঘ চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল কাশেম মোল্লা (৪২) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে ফরিদপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আবুল কাশেম মোল্লা চর কমলাপুরের বাসিন্দা এবং মৃত মোঃ হাসেম মোল্লার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে চর কমলাপুর খলিফা মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় নিজের কেনা জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে এক ক্রেতাকে জমি দেখাচ্ছিলেন আবুল কাশেম মোল্লা। এ সময় আফজাল মোল্লা (৫০) ঘটনাস্থলে এসে ওই জমি নিজের দাবি করে বাধা দেন।

এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে আবুল কাশেম মোল্লা, আফজাল মোল্লাকে জমির কাগজপত্র দেখাতে বলেন। এ কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে আফজাল মোল্লা তার সহযোগীদের ডেকে এনে আবুল কাশেম মোল্লার ওপর বেধড়ক মারধর চালায়। এক পর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে পুনরায় ফরিদপুরে আনা হলে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তাকে ফরিদপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তার পায়ে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ১৪ জানুয়ারি দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে অপারেশনের আগেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহতের স্ত্রী ফরিদা পারভিন অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী অত্যন্ত সৎ ও ভালো মানুষ ছিলেন। এলাকাবাসী সবাই তা জানেন। আমাদের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না। নিজের কেনা জমি বিক্রি করতেই এই মর্মান্তিক পরিণতি হলো। তিনি তার স্বামীর মৃত্যুর জন্য আফজাল মোল্লা, তামিম মোল্লা (২০), পুষ্প (২০), নাজমা আক্তার (৪৫), রোজিনা বেগম (৬২), জিতু (১৯) সহ আরও কয়েকজনকে দায়ী করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই হামলার ফলেই দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আবুল কাশেম মোল্লার মৃত্যু হয়। এলাকাবাসী দ্রুত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর সদর কোতোয়ালি থানার ইনচার্জ সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।