ফরিদপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে মারধরের জেরে মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ।
- আপডেট সময় : ০৪:৪২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ ২২৮ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মাহাবুব মিয়া, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার চর কমলাপুর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মারধরের ঘটনায় দীর্ঘ চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল কাশেম মোল্লা (৪২) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে ফরিদপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আবুল কাশেম মোল্লা চর কমলাপুরের বাসিন্দা এবং মৃত মোঃ হাসেম মোল্লার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে চর কমলাপুর খলিফা মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় নিজের কেনা জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে এক ক্রেতাকে জমি দেখাচ্ছিলেন আবুল কাশেম মোল্লা। এ সময় আফজাল মোল্লা (৫০) ঘটনাস্থলে এসে ওই জমি নিজের দাবি করে বাধা দেন।
এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে আবুল কাশেম মোল্লা, আফজাল মোল্লাকে জমির কাগজপত্র দেখাতে বলেন। এ কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে আফজাল মোল্লা তার সহযোগীদের ডেকে এনে আবুল কাশেম মোল্লার ওপর বেধড়ক মারধর চালায়। এক পর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে পুনরায় ফরিদপুরে আনা হলে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তাকে ফরিদপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তার পায়ে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ১৪ জানুয়ারি দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে অপারেশনের আগেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহতের স্ত্রী ফরিদা পারভিন অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী অত্যন্ত সৎ ও ভালো মানুষ ছিলেন। এলাকাবাসী সবাই তা জানেন। আমাদের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না। নিজের কেনা জমি বিক্রি করতেই এই মর্মান্তিক পরিণতি হলো। তিনি তার স্বামীর মৃত্যুর জন্য আফজাল মোল্লা, তামিম মোল্লা (২০), পুষ্প (২০), নাজমা আক্তার (৪৫), রোজিনা বেগম (৬২), জিতু (১৯) সহ আরও কয়েকজনকে দায়ী করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই হামলার ফলেই দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আবুল কাশেম মোল্লার মৃত্যু হয়। এলাকাবাসী দ্রুত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফরিদপুর সদর কোতোয়ালি থানার ইনচার্জ সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
















