ঢাকা ০৩:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে যুবক আটক গাজীপুর -১ আসনে ধানের শীষ বিজয়ী হওয়ায় হিন্দু ভাইবোনদের অভিনন্দন ও সংবর্ধনা শিবচরে যোগদানের ৪ দিন পর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রত্যাহার। মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে উত্তাল কালিয়াকৈর সরকারি কলেজ: শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শিবচরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষ আহত ২ ফরিদপুরে জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত গোয়ালচামট ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সংস্থার উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত কালিয়াকৈরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্র সহ গ্রেফতার-৪ জামালপুরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরের তাম্বুলখানায় প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বস্তাভর্তি সরকারি ওষুধ পাচারের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৩:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬ ১৫৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি ওষুধ চুরি ও পাচারের অভিযোগ দিন দিন উদ্বেগজনক মাত্রা ধারণ করছে। হাসপাতালের ভেতর থেকেই অভিনব কৌশলে বস্তাভর্তি করে ওষুধ বাইরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। ইতোমধ্যে এ ঘটনার কিছু দৃশ্য সামাজিকভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তিরা ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কেউ কেউ টানা ৩ থেকে ৮ বছর পর্যন্ত একই স্থানে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি হাসপাতালের পরিচালক হুমায়ুন কবির দুই বছরের বেশি সময় ধরে একই ওয়ার্ডে কর্মরতদের বদলির নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়নে দৃশ্যত ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী চক্র এ বদলি প্রক্রিয়া আটকে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে নার্স ইনচার্জ ম্যাট্রন শামসুন্নাহারের বিরুদ্ধে বদলি ঠেকাতে বিভিন্ন ধরনের তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ঈদকে সামনে রেখে ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যে এই প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা হচ্ছে।
এদিকে লেবার ওয়ার্ড নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। জানা গেছে, নতুন ভবনের তৃতীয় তলা থেকে নাদিরা ও খাদিজা নামের দুই কর্মী নিয়মিতভাবে ওষুধ বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন। যদিও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বেতনভুক্ত নন, তবুও দীর্ঘদিন ধরে তাদের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সূত্র আরও জানায়, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে অনেক ওয়ার্ড ইনচার্জ দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকায় পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। এই সুযোগে একটি চক্র বস্তাভর্তি করে সরকারি ওষুধ পাচার করছে, যা স্থানীয়দের ভাষায় ‘হরি লুট’-এ পরিণত হয়েছে।
এ অবস্থায় হাসপাতালে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও স্বজনরা। প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে অনেক রোগীকে বাইরে থেকে অতিরিক্ত দামে ওষুধ কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারি সম্পদ লুটপাটের এমন চিত্র স্বাস্থ্যসেবার ওপর আস্থার সংকট তৈরি করছে।
এ বিষয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল ও এলাকাবাসী। তারা বলছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বস্তাভর্তি সরকারি ওষুধ পাচারের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:৪৩:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি ওষুধ চুরি ও পাচারের অভিযোগ দিন দিন উদ্বেগজনক মাত্রা ধারণ করছে। হাসপাতালের ভেতর থেকেই অভিনব কৌশলে বস্তাভর্তি করে ওষুধ বাইরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। ইতোমধ্যে এ ঘটনার কিছু দৃশ্য সামাজিকভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তিরা ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কেউ কেউ টানা ৩ থেকে ৮ বছর পর্যন্ত একই স্থানে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি হাসপাতালের পরিচালক হুমায়ুন কবির দুই বছরের বেশি সময় ধরে একই ওয়ার্ডে কর্মরতদের বদলির নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়নে দৃশ্যত ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী চক্র এ বদলি প্রক্রিয়া আটকে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে নার্স ইনচার্জ ম্যাট্রন শামসুন্নাহারের বিরুদ্ধে বদলি ঠেকাতে বিভিন্ন ধরনের তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ঈদকে সামনে রেখে ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যে এই প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা হচ্ছে।
এদিকে লেবার ওয়ার্ড নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। জানা গেছে, নতুন ভবনের তৃতীয় তলা থেকে নাদিরা ও খাদিজা নামের দুই কর্মী নিয়মিতভাবে ওষুধ বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন। যদিও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বেতনভুক্ত নন, তবুও দীর্ঘদিন ধরে তাদের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সূত্র আরও জানায়, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে অনেক ওয়ার্ড ইনচার্জ দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকায় পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। এই সুযোগে একটি চক্র বস্তাভর্তি করে সরকারি ওষুধ পাচার করছে, যা স্থানীয়দের ভাষায় ‘হরি লুট’-এ পরিণত হয়েছে।
এ অবস্থায় হাসপাতালে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও স্বজনরা। প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে অনেক রোগীকে বাইরে থেকে অতিরিক্ত দামে ওষুধ কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারি সম্পদ লুটপাটের এমন চিত্র স্বাস্থ্যসেবার ওপর আস্থার সংকট তৈরি করছে।
এ বিষয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল ও এলাকাবাসী। তারা বলছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।