দীর্ঘ ১৭ বছর পর মানুষ গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছে- পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ ইসলাম
- আপডেট সময় : ০৭:৫৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

নাজমুল হুদা বাশার, ফরিদপুর
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় আয়োজিত এক সামাজিক সচেতনতামূলক সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, দীর্ঘ সময় দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। নানা প্রতিবন্ধকতা, মামলা ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক কর্মী এবং সাধারণ মানুষকে কঠিন সময় অতিক্রম করতে হয়েছে। তবে বর্তমানে গণতান্ত্রিক পরিবেশে মানুষের মত প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভাবুকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জেলা পুলিশের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও প্রগতি’ শীর্ষক সামাজিক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ বিভিন্ন ধরনের হয়রানি, মিথ্যা মামলা এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেককে আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিতে হয়েছে, আবার অনেকেই কারাভোগ করেছেন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর দেশ গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে চলেছে এবং এখন মানুষ আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। তাঁর বাবা, সাবেক মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানও দল-মত নির্বিশেষে মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। সেই আদর্শ অনুসরণ করেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। জনগণের সেবাকেই তিনি একজন জনপ্রতিনিধির প্রধান দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ এবং আত্মহত্যার মতো সামাজিক সমস্যাগুলো মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ হলে অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
স্থানীয় বিরোধ, জমিজমা-সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব এবং সামাজিক সংঘাত নিরসনে পারস্পরিক সহনশীলতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে।
এর আগে সফরের অংশ হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারকে পরিদর্শন করেন। এছাড়া সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।



















