জানালা ভেঙে স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ২
- আপডেট সময় : ০৭:১৫:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) নিজ বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা ধাওয়া দিয়ে দুই সন্দেহভাজনকে একটি মোটরসাইকেলসহ আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আহত কিশোরী বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার সময় কিশোরীর দাদির চিকিৎসার জন্য তার মা ও চাচা ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে ছিল কিশোরী, তার ছোট ভাই ও ছোট বোন। এ সময় ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল বাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং দরজা খুলতে চাপ দেয়। দরজা না খোলায় তারা জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে কিশোরীকে জোর করে বের করে নিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের পিছু হটতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে কিশোরীকে মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিন যুবক তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কিশোরীকে বাড়ির কাছাকাছি ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। এ সময় এলাকাবাসী তাদের ধাওয়া করে দুইজনকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে এবং পরে সদরপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। আটক ব্যক্তিরা হলেন হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৬)।
ভুক্তভোগীর মা জানান, শাশুড়ির অস্ত্রোপচারের কারণে তিনি হাসপাতালে ছিলেন। খবর পেয়ে বাড়িতে এসে মেয়ের অবস্থা দেখে তিনি ভেঙে পড়েন।
এদিকে কিশোরীর ছোট বোন জানায়, জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা তার বোনকে চুল ধরে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শামছুল আজম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, এলাকাবাসীর হাতে আটক দুইজন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।









