ঢাকা ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও জুলাই গনহত্যার বিচারের দাবীতে সদরপুরে জামায়াত ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত সদরপুরে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ: ভুক্তভোগীর পাশে এমপি বাবুল, দ্রু ত বিচারের নির্দেশ তজুমদ্দিনে জামায়াত সেক্রেটারির বিরুদ্ধে এমপিও জালিয়াতির অভিযোগ, তদন্তের দাবি ধামইরহাটে ট্যাপেন্টাডল সেবনকালে আটক, মাদকসেবীর ৬ মাসের কারাদণ্ড ফরিদপুরে র‌্যাবের অভিযানে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ অস্ত্রধারী গ্রেপ্তার ফরিদপুর পৌরসভায় নাগরিক সেবায় গতি এনেছে প্রশাসনিক উদ্যোগ, ১-২ দিনেই মিলছে নাগরিকত্ব সনদ জানালা ভেঙে স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ২ মৃত্যুফাঁদের নাম ‘চায়না দুয়ারি’: নীরব ধ্বংসের মুখে দেশি মাছের অভয়াশ্রম সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির তথ্য সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার সাংবাদিক, হাসপাতালে ভর্তি কালিয়াকৈরে সবজির বাজারগুলোতে ফের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বেশির ভাগ সবজির দাম সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে

তজুমদ্দিনে জামায়াত সেক্রেটারির বিরুদ্ধে এমপিও জালিয়াতির অভিযোগ, তদন্তের দাবি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৩:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

খন্দকার নিরব, ভোলা প্রতিনিধি:

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এক মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও এমপিও তথ্য ব্যবহার করে দীর্ঘদিন সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিধিবহির্ভূত নিয়োগ, পদ অনুযায়ী বেতন না নেওয়া এবং এমপিও নথিতে অসঙ্গতির অভিযোগও সামনে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৩ মার্চ ১৯৯৪ সালে মোঃ মহিউদ্দিন নামে একজন জুনিয়র শিক্ষক মাদ্রাসাটিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তার এমপিও ইনডেক্স নম্বর ছিল ৩৬৪৭৭৬ এবং ব্যাংক হিসাব নম্বর ৪৬০৬। পরবর্তীতে তার মৃত্যু হলে পদটি শূন্য হয়ে যায়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী মোঃ মহিউদ্দিন (পিতা: আছমত আলী মহাজন), যার এমপিও ইনডেক্স নম্বর ৬০২৭৮২ এবং ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব নম্বর ৪৫৭৭, তিনি ৭ সেপ্টেম্বর ২০০৬ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। অভিযোগকারীদের দাবি, শিক্ষক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর পরও বিধি অনুসরণ না করে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, নামের মিলকে কাজে লাগিয়ে মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব নম্বর ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হয়ে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়া সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পেলেও জুনিয়র শিক্ষক পদের বিপরীতে বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রকাশিত এমপিও শিটে ইনডেক্স নম্বর ৬০২৭৮২-এর বিপরীতে মৃত শিক্ষক মোঃ মহিউদ্দিনের ব্যাংক হিসাব নম্বর ৪৬০৬-ই উল্লেখ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, এটি গুরুতর প্রশাসনিক অনিয়ম, যা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মোঃ মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, “ব্যাংক হিসাব নম্বর ৪৬০৬ থাকলেও ওই হিসাব থেকে আমি কোনো বেতন উত্তোলন করিনি। নিয়োগের সময় কোনো তথ্য গোপন করা হয়নি।” তিনি আরও জানান, রুপালী ব্যাংক, তজুমদ্দিন শাখায় তার নিজ নামে পৃথক ব্যাংক হিসাব রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নুরুজ্জামান বলেন, “বর্তমানে এমপিও শিটে ইনডেক্স নম্বর ৬০২৭৮২-এর বিপরীতে ৪৬০৬ নম্বর হিসাবেই সহকারী শিক্ষক মহিউদ্দিনের নাম রয়েছে। বিষয়টি আমার নজরে আসার পর হিসাব সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।”

তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম বলেন, “লিখিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।”

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

তজুমদ্দিনে জামায়াত সেক্রেটারির বিরুদ্ধে এমপিও জালিয়াতির অভিযোগ, তদন্তের দাবি

আপডেট সময় : ০৬:১৩:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

 

খন্দকার নিরব, ভোলা প্রতিনিধি:

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এক মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও এমপিও তথ্য ব্যবহার করে দীর্ঘদিন সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিধিবহির্ভূত নিয়োগ, পদ অনুযায়ী বেতন না নেওয়া এবং এমপিও নথিতে অসঙ্গতির অভিযোগও সামনে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৩ মার্চ ১৯৯৪ সালে মোঃ মহিউদ্দিন নামে একজন জুনিয়র শিক্ষক মাদ্রাসাটিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তার এমপিও ইনডেক্স নম্বর ছিল ৩৬৪৭৭৬ এবং ব্যাংক হিসাব নম্বর ৪৬০৬। পরবর্তীতে তার মৃত্যু হলে পদটি শূন্য হয়ে যায়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী মোঃ মহিউদ্দিন (পিতা: আছমত আলী মহাজন), যার এমপিও ইনডেক্স নম্বর ৬০২৭৮২ এবং ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব নম্বর ৪৫৭৭, তিনি ৭ সেপ্টেম্বর ২০০৬ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। অভিযোগকারীদের দাবি, শিক্ষক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর পরও বিধি অনুসরণ না করে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, নামের মিলকে কাজে লাগিয়ে মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব নম্বর ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হয়ে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়া সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পেলেও জুনিয়র শিক্ষক পদের বিপরীতে বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রকাশিত এমপিও শিটে ইনডেক্স নম্বর ৬০২৭৮২-এর বিপরীতে মৃত শিক্ষক মোঃ মহিউদ্দিনের ব্যাংক হিসাব নম্বর ৪৬০৬-ই উল্লেখ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, এটি গুরুতর প্রশাসনিক অনিয়ম, যা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মোঃ মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, “ব্যাংক হিসাব নম্বর ৪৬০৬ থাকলেও ওই হিসাব থেকে আমি কোনো বেতন উত্তোলন করিনি। নিয়োগের সময় কোনো তথ্য গোপন করা হয়নি।” তিনি আরও জানান, রুপালী ব্যাংক, তজুমদ্দিন শাখায় তার নিজ নামে পৃথক ব্যাংক হিসাব রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নুরুজ্জামান বলেন, “বর্তমানে এমপিও শিটে ইনডেক্স নম্বর ৬০২৭৮২-এর বিপরীতে ৪৬০৬ নম্বর হিসাবেই সহকারী শিক্ষক মহিউদ্দিনের নাম রয়েছে। বিষয়টি আমার নজরে আসার পর হিসাব সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।”

তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম বলেন, “লিখিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।”

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।