ঢাকা ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শোক সংবাদ ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল হবে ২৫০ শয্যার, নির্মাণের উদ্যোগ ১৫ তলা আধুনিক ভবনের পত্নীতলায় জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শিবচরে যুবলীগ নেতার দাপট, ভয়-ভীতি ও মারধর করে জমি দখলের অভিযোগ সদরপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত অভিযুক্তের বাড়ির সামনেই ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা নেওয়া ও বাড়ি বিক্রির কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বালিয়াকান্দিতে দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ফরিদপুরে বিএসটিআইয়ের অভিযান, ফিলিং স্টেশনের ৫ ডিসপেন্সিং ইউনিট সিলগালা ভাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলর তিন বন্ধু নিহত অনিয়ম ও অবহেলা সহ্য করা হবে না: সদরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ৩ সেবিকা বদলি

ফমেক অধ্যক্ষ পদে যোগ দিলেন ডা. সৈয়দ আসিফ ছাত্রদলের শুভেচ্ছা, বহিরাগতদের মব সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৩:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ১৫৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: নাজমুল হুদা বাশার

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের (ফমেক) নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ডা. সৈয়দ আসিফ-উল আলম। মঙ্গলবার দুপুরে কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ দিলরুবা জেবার কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

ডা. সৈয়দ আসিফ-উল আলমের যোগদানকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তাকে শুভেচ্ছা জানান।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ লিমনের নেতৃত্বে একটি দল নবনিযুক্ত অধ্যক্ষকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। এ সময় ছাত্রদল নেতা ফয়সাল আহমেদ খান, আব্দুল বারিক মন্ডল, আহমেদ আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাসেল খানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যক্ষের কক্ষে মব সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ

অন্যদিকে, নতুন অধ্যক্ষের যোগদানকে কেন্দ্র করে কলেজে বহিরাগতদের নিয়ে মব সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ফমেকের সাবেক শিক্ষার্থী মুস্তাকিম কবিরের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেন। তবে সেখানে উপস্থিত বর্তমান ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেন বলে দাবি করা হয়েছে।

ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, মুস্তাকিম কবির দীর্ঘদিন আগে মেডিক্যাল কলেজের পড়াশোনা শেষ করেছেন এবং বর্তমানে তিনি ফরিদপুরে অবস্থান করেন না। তারপরও তিনি নিজেকে ফমেক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন বলে দাবি করেন তারা।

তাদের আরও অভিযোগ, মুস্তাকিম কবিরের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের কেউই বর্তমানে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী নন। অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশের সুযোগ না পেয়ে তারা পরে কলেজের সামনে ব্যানার নিয়ে ছবি তুলে তা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মুস্তাকিম কবিরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ লিমন বলেন, “মুস্তাকিম কবির অনেক আগেই কলেজ ছেড়েছেন। বর্তমানে তিনি ফরিদপুরেও থাকেন না। তার সঙ্গে যারা এসেছিলেন, তাদের কাউকেই আমরা চিনি না এবং তারা বর্তমান শিক্ষার্থীও নন। বর্তমান ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের না জানিয়ে কলেজে এসে তারা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।”

তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানান এবং কলেজের পরিবেশ শান্ত রাখার আহ্বান জানান।

জেলা ছাত্রদল নেতার প্রতিবাদ

ঘটনার বিষয়ে ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আরেফিন মাহমুদ কায়েসও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ২০২২ সালে ফরিদপুর মহানগর ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি শাহরিয়ার শিথীলকে তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি শ্রাবণ ভাই ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজে ছাত্রদলের কমিটি গঠনের জন্য চাপ দিলেও তখন সক্রিয় কর্মী খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে যারা ফমেক ছাত্রদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন, তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে কলেজের বাইরে অবস্থান করছেন। আন্দোলন-সংগ্রামের সময় তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বিবৃতিতে কায়েস আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর অনেকে নিজেদের বিএনপিপন্থী ও ছাত্রদলপন্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে সামনে আসছেন। তবে দলের নেতাকর্মীদের দুঃসময়ে পাশে থাকা চিকিৎসকদের মধ্যে মুস্তাফিজুর রহমান শামীম, তানজিব জুবায়ের নাদিম, আল-আমিন সারোয়ার, ডেন্টাল চিকিৎসক দেলোয়ার হোসেন, ইন্টারনাল মেডিসিনের রফিকুল ইসলাম এবং অর্থোপেডিক সার্জারির ডা. আসিফ-উল আলম আসিফের নাম উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদে-আপদে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন ডা. মোসাদ্দেক হোসেন।

আরেফিন মাহমুদ কায়েস বলেন, “৫ আগস্টের পর যারা দীর্ঘদিন নীরব ছিলেন, তাদের অনেকেই এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করে নিজেদের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন।”

তবে বিবৃতিতে উত্থাপিত অভিযোগ ও বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফমেক অধ্যক্ষ পদে যোগ দিলেন ডা. সৈয়দ আসিফ ছাত্রদলের শুভেচ্ছা, বহিরাগতদের মব সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:৩৩:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: নাজমুল হুদা বাশার

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের (ফমেক) নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ডা. সৈয়দ আসিফ-উল আলম। মঙ্গলবার দুপুরে কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ দিলরুবা জেবার কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

ডা. সৈয়দ আসিফ-উল আলমের যোগদানকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তাকে শুভেচ্ছা জানান।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ লিমনের নেতৃত্বে একটি দল নবনিযুক্ত অধ্যক্ষকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। এ সময় ছাত্রদল নেতা ফয়সাল আহমেদ খান, আব্দুল বারিক মন্ডল, আহমেদ আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাসেল খানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যক্ষের কক্ষে মব সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ

অন্যদিকে, নতুন অধ্যক্ষের যোগদানকে কেন্দ্র করে কলেজে বহিরাগতদের নিয়ে মব সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ফমেকের সাবেক শিক্ষার্থী মুস্তাকিম কবিরের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেন। তবে সেখানে উপস্থিত বর্তমান ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেন বলে দাবি করা হয়েছে।

ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, মুস্তাকিম কবির দীর্ঘদিন আগে মেডিক্যাল কলেজের পড়াশোনা শেষ করেছেন এবং বর্তমানে তিনি ফরিদপুরে অবস্থান করেন না। তারপরও তিনি নিজেকে ফমেক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন বলে দাবি করেন তারা।

তাদের আরও অভিযোগ, মুস্তাকিম কবিরের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের কেউই বর্তমানে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী নন। অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশের সুযোগ না পেয়ে তারা পরে কলেজের সামনে ব্যানার নিয়ে ছবি তুলে তা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মুস্তাকিম কবিরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ লিমন বলেন, “মুস্তাকিম কবির অনেক আগেই কলেজ ছেড়েছেন। বর্তমানে তিনি ফরিদপুরেও থাকেন না। তার সঙ্গে যারা এসেছিলেন, তাদের কাউকেই আমরা চিনি না এবং তারা বর্তমান শিক্ষার্থীও নন। বর্তমান ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের না জানিয়ে কলেজে এসে তারা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।”

তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানান এবং কলেজের পরিবেশ শান্ত রাখার আহ্বান জানান।

জেলা ছাত্রদল নেতার প্রতিবাদ

ঘটনার বিষয়ে ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আরেফিন মাহমুদ কায়েসও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ২০২২ সালে ফরিদপুর মহানগর ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি শাহরিয়ার শিথীলকে তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি শ্রাবণ ভাই ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজে ছাত্রদলের কমিটি গঠনের জন্য চাপ দিলেও তখন সক্রিয় কর্মী খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে যারা ফমেক ছাত্রদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন, তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে কলেজের বাইরে অবস্থান করছেন। আন্দোলন-সংগ্রামের সময় তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বিবৃতিতে কায়েস আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর অনেকে নিজেদের বিএনপিপন্থী ও ছাত্রদলপন্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে সামনে আসছেন। তবে দলের নেতাকর্মীদের দুঃসময়ে পাশে থাকা চিকিৎসকদের মধ্যে মুস্তাফিজুর রহমান শামীম, তানজিব জুবায়ের নাদিম, আল-আমিন সারোয়ার, ডেন্টাল চিকিৎসক দেলোয়ার হোসেন, ইন্টারনাল মেডিসিনের রফিকুল ইসলাম এবং অর্থোপেডিক সার্জারির ডা. আসিফ-উল আলম আসিফের নাম উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদে-আপদে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন ডা. মোসাদ্দেক হোসেন।

আরেফিন মাহমুদ কায়েস বলেন, “৫ আগস্টের পর যারা দীর্ঘদিন নীরব ছিলেন, তাদের অনেকেই এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করে নিজেদের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন।”

তবে বিবৃতিতে উত্থাপিত অভিযোগ ও বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।