মাদকবিরোধী সভা ঘিরে ভাঙ্গায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক
- আপডেট সময় : ০২:৫৭:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে

রেজাউল করিম প্রতিনিধি, ফরিদপুর:
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী গ্রামে মাদকবিরোধী সভাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দুই পক্ষের গ্রামবাসীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৮ জুন) সকাল থেকে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের প্রভাবে ফরিদপুর-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী সভাকে ঘিরে ভুল বোঝাবুঝি ও পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার কালাম কাজীর বাড়িতে এবং শনিবার হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদে অনুষ্ঠিত সভার পর বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
রোববার সকালে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, ঢাল, টেঁটা, সরকি এবং ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে আকতার মাতুব্বর, রিয়াদ মাতুব্বর ও মামুন মাতুব্বর গুরুতর আহত হলে তাদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অন্য আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোকন মিয়া দাবি করেন, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ায় দেলোয়ার মাতুব্বরের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।
অন্যদিকে প্রতিপক্ষের প্রতিনিধি ছিরু মিয়ার অভিযোগ, মাদকবিরোধী সভার আড়ালে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে লোকজনকে একত্রিত করেছিলেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ, র্যাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সংঘর্ষ থেমে যায় এবং এরপর ধীরে ধীরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, সকাল ৯টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ মহাসড়কে যান চলাচল সচল রাখতে কাজ শুরু করে। সংঘর্ষ থেমে যাওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং কোনো যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজওয়ান দীপু বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেনি। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।



















