ভাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলর তিন বন্ধু নিহত
- আপডেট সময় : ১২:১৫:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

সেক মোহাম্মদ আফজাল
ব্যুরো চীফ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা তিন জনের প্রাণ গেছে। তারা তিনজন পরস্পরের বন্ধুূ ছিলেন।
শনিবার ২৯ আগষ্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এতে ঘটনাস্থলে একজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে অন্য দুজনের মৃত্যু হয়। তারা হলেন,সৌদি আরব প্রবাসী চয়ন মোল্লা (২৩), সিয়াম মোল্লা (২৩) ও নয়ন হোসেন (২১)।
চয়ন ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের হাসনহাটি গ্রামের দলিল উদ্দিন মন্ডলের ছেলে। সিয়াম একই গ্রামের আজগর মোল্লার ছেলে। আর নয়ন হোসেন একই গ্রামের এনায়েত হোসেনের ছেলে।লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাসনহাটি গ্রামের বাসিন্দা মো. কাইয়ুম মিয়া জানান, চয়ন ও সিয়াম সৌদি প্রবাসী ছিলেন। এর মধ্যে চয়ন ঈদুল আজহার ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। সিয়াম ২০ দিন আগে দেশে আসেন।
নয়ন কয়েক মাস কুর্দিস্তানে ছিলেন। এরপর প্রায় এক বছর আগে দেশে এসে নগরকান্দা এলাকায় একটি কুরিয়ার কোম্পানিতে মোটরসাইকেলে কুরিয়ার ডেলিভারির কাজ শুরু করেন বলে জানান তিনি।
ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন চয়ন। পেছনে ছিলেন সিয়াম ও নয়ন। তারা লস্করদিয়া থেকে ভাঙ্গা গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিলেন।
বাড়ি ফেরার পথে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাস তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই চয়নের মৃত্যু হয়।
আহত দুজনকে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি ঘটায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে কেরানিগঞ্জে অ্যাম্বুলেন্সে তাদের মৃত্যু হয়।
ইউপি সদস্য মো. কাইয়ুম মিয়া বলেন, শনিবার রাতে চয়নের জানাজা হয়। আজ সকালে নয়ন ও সিয়ামের মরদেহ গ্রামে আনা হলে মা বাবা ও প্রিয়জনদের মধ্যে শোকের মাতম বিরাজ করছে।
তিনি জানান, এই তিনজন কাছাকাছি বয়সের হওয়ায় একই সঙ্গে ঘোরাফেরা করতেন। তারা বন্ধু ছিলেন। তারা অবিবাহিত ছিলেন। তাদের মৃত্যুতে এলাকায় শোক নেমে এসেছে।
দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট আজাদুর রহমান বলেন, আমরা ঘাতক বাসটির সন্ধান এখনো পাইনি। খোঁজ করছি। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।




















