ঢাকা ০২:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শ্রমিকের প্রতি ভালোবাসা, প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং একজন সংগ্রামী মায়ের গল্প ফরিদপুরে নিখোঁজ যুবকের লাশ পাটখেত থেকে উদ্ধার  অতিরিক্ত তীব্র তাপমাত্রা বৃদ্ধি হওয়ায় সাধারণ জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ সদরপুরে ৮ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা ফরিদপুরে অতিরিক্ত তাপদাহে জনজীবন দুর্বিষহ, বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ ও কৃষক নেতানিয়াহুকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, বড় হামলার পরিকল্পনা স্থগিত ফরিদপুরে বিএসটিআই ও জেলা প্রশাসনের যৌথ মোবাইল কোর্ট: ৫ মামলায় ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা সদরপুরে হত্যা মামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মিরপুরে বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার: বয়স্কদের নিরাপত্তা ও পারিবারিক দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন গজারিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের নতুন কমিটি গঠন ফরিদপুর প্রতিনিধি: মো:নজরুল ইসলাম হিরু গাজারিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের ২০২৬ সালের নতুন কমিটি গঠন

কালিয়াকৈরে পাওনা টাকা না পেয়ে সেলুন অংশিদার আত্মহত্যার অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫ ২০৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

শাকিল হোসেন  গাজীপুর কালিয়াকৈর প্রতিনিধিঃ

 

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণহাটি এলাকায় পাওনা টাকা না পেয়ে সেলুন অংশিদার আতিকুর রহমান আকন্দ (৫০) আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত আতিকুর রহমান গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার পশ্চিম পাড়া লাকার বাসিন্দা ইউসুফ আকন্দ এর ছেলে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৩০ জুন) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার বাবু খাঁন এর বনের মার্কেটের একটি সেলুন দোকানে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আতিকুর রহমান আকন্দ দীর্ঘদিন ধরে দোকানের অপর অংশীদার আহসান ওরফে হাসান (স্থানীয়ভাবে হাসান নাপিত নামেই পরিচিত) কাছে পাওনা টাকার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন আতিকুর রহমান ওই সেলুনে গিয়ে কালো রঙের সেলুনে ব্যবহৃত এক টুকরা মোটা কাপড় দিয়ে দোকানের ভিতর গলায় ফাঁস দেন। এ সময় দোকানের সাঁটার খোলা হলে আহসানের ভাতিজা তানভীর ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে থানায় খবর দেন।

 

ঘটনাস্থলে পৌঁছে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

 

নিহতের পরিবার দাবি করেছেন, আতিকুর রহমান কোনোভাবেই আত্মহত্যার মতো মানুষ ছিলেন না। তাঁর স্ত্রী ও ছেলে অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হাসানের কাছ থেকে পাওনা টাকা চেয়ে আসছিলেন আতিক। কিন্তু টাকা চাইলে হাসান তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিত। এমনকি কয়েকবার মারধরও করার চেষ্টা করে। আমরা মনে করি এটি পরিকল্পিত হত্যা, তাকে আত্মহত্যার পথে বাধ্য করা হয়েছে।

 

অপরদিকে অভিযুক্ত আহসান সাংবাদিকদের জানান, এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তার সাথে আমার টাকার লেনদেন আছে, সে আমার কাছে ৪ লাখ ৩ হাজার টাকা পাবে আমি দিবো। এলাকাব্যাপী সালিশও হয়েছে। আমি সময় চেয়েছি। সে কেন এমন করলো, বুঝতে পারছি না।

 

ঘটনার বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কালিয়াকৈরে পাওনা টাকা না পেয়ে সেলুন অংশিদার আত্মহত্যার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০২:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

 

 

 

শাকিল হোসেন  গাজীপুর কালিয়াকৈর প্রতিনিধিঃ

 

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণহাটি এলাকায় পাওনা টাকা না পেয়ে সেলুন অংশিদার আতিকুর রহমান আকন্দ (৫০) আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত আতিকুর রহমান গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার পশ্চিম পাড়া লাকার বাসিন্দা ইউসুফ আকন্দ এর ছেলে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৩০ জুন) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার বাবু খাঁন এর বনের মার্কেটের একটি সেলুন দোকানে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আতিকুর রহমান আকন্দ দীর্ঘদিন ধরে দোকানের অপর অংশীদার আহসান ওরফে হাসান (স্থানীয়ভাবে হাসান নাপিত নামেই পরিচিত) কাছে পাওনা টাকার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন আতিকুর রহমান ওই সেলুনে গিয়ে কালো রঙের সেলুনে ব্যবহৃত এক টুকরা মোটা কাপড় দিয়ে দোকানের ভিতর গলায় ফাঁস দেন। এ সময় দোকানের সাঁটার খোলা হলে আহসানের ভাতিজা তানভীর ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে থানায় খবর দেন।

 

ঘটনাস্থলে পৌঁছে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

 

নিহতের পরিবার দাবি করেছেন, আতিকুর রহমান কোনোভাবেই আত্মহত্যার মতো মানুষ ছিলেন না। তাঁর স্ত্রী ও ছেলে অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হাসানের কাছ থেকে পাওনা টাকা চেয়ে আসছিলেন আতিক। কিন্তু টাকা চাইলে হাসান তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিত। এমনকি কয়েকবার মারধরও করার চেষ্টা করে। আমরা মনে করি এটি পরিকল্পিত হত্যা, তাকে আত্মহত্যার পথে বাধ্য করা হয়েছে।

 

অপরদিকে অভিযুক্ত আহসান সাংবাদিকদের জানান, এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তার সাথে আমার টাকার লেনদেন আছে, সে আমার কাছে ৪ লাখ ৩ হাজার টাকা পাবে আমি দিবো। এলাকাব্যাপী সালিশও হয়েছে। আমি সময় চেয়েছি। সে কেন এমন করলো, বুঝতে পারছি না।

 

ঘটনার বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।