ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরে বিএসটিআইয়ের অভিযান, ফিলিং স্টেশনের ৫ ডিসপেন্সিং ইউনিট সিলগালা ভাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলর তিন বন্ধু নিহত অনিয়ম ও অবহেলা সহ্য করা হবে না: সদরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ৩ সেবিকা বদলি দেশে সারের সংকট নেই, চার মাসের বাড়তি মজুত রয়েছে: কৃষিমন্ত্রী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা রোগী হয়রানি বন্ধ, দালালমুক্ত পরিবেশ ও জরুরি অবকাঠামো উন্নয়নে জোর পত্নীতলায় বিএনপির প্রস্তুতি সভা শিবচরে চার বছর বিদ্যুৎহীন উম্মে হানি, মোমবাতির আলোয় চলছে পড়াশোনা ধামইরহাটে ১ হাজার ৫৮০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বিজিবি নওগাঁ জেলার পোরশায় প্রায় ২০ কেজি ওজনের কষ্টিপাথর সদৃশ হিন্দুধর্মীয় দেবতার মূর্তি উদ্ধার নগরকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহাবুব শেখের ঘোষণা

ফরিদপুরে অতিরিক্ত তাপদাহে জনজীবন দুর্বিষহ, বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ ও কৃষক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬ ৯১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

রেজাউল করিম,ফরিদপুর:

ফরিদপুর জেলায় টানা কয়েকদিন ধরে চলমান তীব্র তাপদাহে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। প্রচণ্ড রোদ ও অসহনীয় গরমে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, ভ্যান ও রিকশাচালকরা। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে স্বাভাবিক কর্মজীবন ব্যাহত হওয়ায় অনেক শ্রমজীবী মানুষ আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে কাজের সন্ধানে আসা কৃষিশ্রমিকরা জানান, খোলা মাঠে দীর্ঘ সময় কাজ করা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড রোদের কারণে অনেকেই নিয়মিত কাজে যেতে পারছেন না। ফলে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল এসব শ্রমিক পরিবারে দেখা দিয়েছে আর্থিক অনিশ্চয়তা। অনেকেই সীমিত আয়ে কোনোমতে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে অতিরিক্ত গরমে কৃষি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। মাঠের বিভিন্ন ফসল রোদে পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় জমিতে আর্দ্রতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা কৃষকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কৃষকদের মতে, দ্রুত বৃষ্টিপাত না হলে অনেক ফসলের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

নির্মাণ শ্রমিকদেরও একই অবস্থা। খোলা আকাশের নিচে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই ক্লান্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ভ্যান ও রিকশাচালকরা জানান, দুপুরের তীব্র গরমে যাত্রী কমে যাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় রাস্তায় থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের আয়ও আগের তুলনায় কমে গেছে।

ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও জনসমাগমস্থলে মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। গরমে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

বিশেষজ্ঞরা তাপদাহের সময় পর্যাপ্ত পানি পান, ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান এবং অপ্রয়োজনীয় বাইরে চলাফেরা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে শ্রমজীবী মানুষদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ফরিদপুরবাসী এখন স্বস্তির বৃষ্টি ও তাপদাহ থেকে মুক্তির অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফরিদপুরে অতিরিক্ত তাপদাহে জনজীবন দুর্বিষহ, বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ ও কৃষক

আপডেট সময় : ০৯:০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

 

রেজাউল করিম,ফরিদপুর:

ফরিদপুর জেলায় টানা কয়েকদিন ধরে চলমান তীব্র তাপদাহে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। প্রচণ্ড রোদ ও অসহনীয় গরমে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, ভ্যান ও রিকশাচালকরা। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে স্বাভাবিক কর্মজীবন ব্যাহত হওয়ায় অনেক শ্রমজীবী মানুষ আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে কাজের সন্ধানে আসা কৃষিশ্রমিকরা জানান, খোলা মাঠে দীর্ঘ সময় কাজ করা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড রোদের কারণে অনেকেই নিয়মিত কাজে যেতে পারছেন না। ফলে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল এসব শ্রমিক পরিবারে দেখা দিয়েছে আর্থিক অনিশ্চয়তা। অনেকেই সীমিত আয়ে কোনোমতে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে অতিরিক্ত গরমে কৃষি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। মাঠের বিভিন্ন ফসল রোদে পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় জমিতে আর্দ্রতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা কৃষকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কৃষকদের মতে, দ্রুত বৃষ্টিপাত না হলে অনেক ফসলের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

নির্মাণ শ্রমিকদেরও একই অবস্থা। খোলা আকাশের নিচে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই ক্লান্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ভ্যান ও রিকশাচালকরা জানান, দুপুরের তীব্র গরমে যাত্রী কমে যাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় রাস্তায় থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের আয়ও আগের তুলনায় কমে গেছে।

ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও জনসমাগমস্থলে মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। গরমে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

বিশেষজ্ঞরা তাপদাহের সময় পর্যাপ্ত পানি পান, ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান এবং অপ্রয়োজনীয় বাইরে চলাফেরা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে শ্রমজীবী মানুষদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ফরিদপুরবাসী এখন স্বস্তির বৃষ্টি ও তাপদাহ থেকে মুক্তির অপেক্ষায় দিন গুনছেন।