ঢাকা ০৪:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরে বিএসটিআইয়ের অভিযান, ফিলিং স্টেশনের ৫ ডিসপেন্সিং ইউনিট সিলগালা ভাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলর তিন বন্ধু নিহত অনিয়ম ও অবহেলা সহ্য করা হবে না: সদরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ৩ সেবিকা বদলি দেশে সারের সংকট নেই, চার মাসের বাড়তি মজুত রয়েছে: কৃষিমন্ত্রী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা রোগী হয়রানি বন্ধ, দালালমুক্ত পরিবেশ ও জরুরি অবকাঠামো উন্নয়নে জোর পত্নীতলায় বিএনপির প্রস্তুতি সভা শিবচরে চার বছর বিদ্যুৎহীন উম্মে হানি, মোমবাতির আলোয় চলছে পড়াশোনা ধামইরহাটে ১ হাজার ৫৮০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বিজিবি নওগাঁ জেলার পোরশায় প্রায় ২০ কেজি ওজনের কষ্টিপাথর সদৃশ হিন্দুধর্মীয় দেবতার মূর্তি উদ্ধার নগরকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহাবুব শেখের ঘোষণা

অতিরিক্ত তীব্র তাপমাত্রা বৃদ্ধি হওয়ায় সাধারণ জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩০:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬ ৬৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা জুড়ে চলমান তীব্র তাপদাহে জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। প্রখর রোদ আর গরম বাতাসে যেন আগুন ঝরছে আকাশ থেকে। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তেজ বেড়ে যাওয়ায় রাস্তাঘাট, বাজার, শিল্পাঞ্চল ও জনবহুল এলাকাগুলোতে মানুষের চলাচল কমে গেছে চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে।
চন্দ্রা ত্রিমোড়,হরতকিতলা, আমতলা,ডাইনকিনি, মাইওয়ান মোড়,চারতলা,মধ্যপাড়া, মৌচাক, সফিপুর, কালিয়াকৈর পৌর এলাকা ও বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদে দুপুরের পর বাইরে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তীব্র রোদে পুড়ে যাচ্ছে পিচঢালা সড়ক। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, নির্মাণশ্রমিক, কৃষিশ্রমিক ও কারখানাগামী শ্রমিকদের কষ্ট যেন সীমাহীন। মাথায় গামছা বেঁধে, কেউবা ছাতা হাতে জীবিকার তাগিদে রাস্তায় নামলেও গরমে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা সিয়াম জানান, কয়েকদিন ধরে রাতেও স্বস্তি মিলছে না। দিনের পাশাপাশি গভীর রাতেও ঘামতে হচ্ছে মানুষকে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে জ্বর, পানিশূন্যতা ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা।
উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়া ও গরমজনিত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ছে। তাই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি বেশি করে বিশুদ্ধ পানি পান, ডাবের পানি, শরবত ও হালকা খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
শিল্প কারখানা বন্ধ থাকায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকার পরেও মানুষের মাঝে স্বস্তি মিলছে না। গরমে মানুষ হাহাকার করছে। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত যেন ঠান্ডা কোন আবহাওয়া মিলছে না।
এদিকে তীব্র গরমে কালিয়াকৈরের বিভিন্ন বাজারে ঠান্ডা পানীয়, আখের রস, লেবুর শরবত ও তরমুজের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। রাস্তার পাশে অস্থায়ী শরবতের দোকানগুলোতে দেখা গেছে মানুষের ভিড়। অনেকে আবার গরম থেকে বাঁচতে গাছের নিচে কিংবা ছায়াযুক্ত স্থানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিচ্ছেন। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক শ্রমিক কাজের ফাঁকে বারবার পানি পান করছেন।পর্যাপ্ত ঠান্ডা পরিবেশ না থাকায় কর্মপরিবেশও হয়ে উঠেছে কষ্টকর। শ্রমিকরা বলছেন, প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় কাজ করতে গিয়ে মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা অনুভব করছেন অনেকে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রতি বছর গরমের তীব্রতা বাড়ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, গাছপালা কমে যাওয়া এবং পরিবেশ দূষণের কারণেও পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। তারা বেশি বেশি গাছ লাগানো ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তীব্র এই দাবদাহে এখন একটুখানি বৃষ্টি আর স্বস্তির পরশের অপেক্ষায় রয়েছে কালিয়াকৈরের সাধারণ মানুষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

অতিরিক্ত তীব্র তাপমাত্রা বৃদ্ধি হওয়ায় সাধারণ জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ

আপডেট সময় : ০১:৩০:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

 

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা জুড়ে চলমান তীব্র তাপদাহে জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। প্রখর রোদ আর গরম বাতাসে যেন আগুন ঝরছে আকাশ থেকে। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তেজ বেড়ে যাওয়ায় রাস্তাঘাট, বাজার, শিল্পাঞ্চল ও জনবহুল এলাকাগুলোতে মানুষের চলাচল কমে গেছে চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে।
চন্দ্রা ত্রিমোড়,হরতকিতলা, আমতলা,ডাইনকিনি, মাইওয়ান মোড়,চারতলা,মধ্যপাড়া, মৌচাক, সফিপুর, কালিয়াকৈর পৌর এলাকা ও বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদে দুপুরের পর বাইরে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তীব্র রোদে পুড়ে যাচ্ছে পিচঢালা সড়ক। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, নির্মাণশ্রমিক, কৃষিশ্রমিক ও কারখানাগামী শ্রমিকদের কষ্ট যেন সীমাহীন। মাথায় গামছা বেঁধে, কেউবা ছাতা হাতে জীবিকার তাগিদে রাস্তায় নামলেও গরমে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা সিয়াম জানান, কয়েকদিন ধরে রাতেও স্বস্তি মিলছে না। দিনের পাশাপাশি গভীর রাতেও ঘামতে হচ্ছে মানুষকে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে জ্বর, পানিশূন্যতা ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা।
উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়া ও গরমজনিত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ছে। তাই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি বেশি করে বিশুদ্ধ পানি পান, ডাবের পানি, শরবত ও হালকা খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
শিল্প কারখানা বন্ধ থাকায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকার পরেও মানুষের মাঝে স্বস্তি মিলছে না। গরমে মানুষ হাহাকার করছে। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত যেন ঠান্ডা কোন আবহাওয়া মিলছে না।
এদিকে তীব্র গরমে কালিয়াকৈরের বিভিন্ন বাজারে ঠান্ডা পানীয়, আখের রস, লেবুর শরবত ও তরমুজের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। রাস্তার পাশে অস্থায়ী শরবতের দোকানগুলোতে দেখা গেছে মানুষের ভিড়। অনেকে আবার গরম থেকে বাঁচতে গাছের নিচে কিংবা ছায়াযুক্ত স্থানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিচ্ছেন। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক শ্রমিক কাজের ফাঁকে বারবার পানি পান করছেন।পর্যাপ্ত ঠান্ডা পরিবেশ না থাকায় কর্মপরিবেশও হয়ে উঠেছে কষ্টকর। শ্রমিকরা বলছেন, প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় কাজ করতে গিয়ে মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা অনুভব করছেন অনেকে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রতি বছর গরমের তীব্রতা বাড়ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, গাছপালা কমে যাওয়া এবং পরিবেশ দূষণের কারণেও পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। তারা বেশি বেশি গাছ লাগানো ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তীব্র এই দাবদাহে এখন একটুখানি বৃষ্টি আর স্বস্তির পরশের অপেক্ষায় রয়েছে কালিয়াকৈরের সাধারণ মানুষ।