ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মিরাজ শেখের ১০ বছরের কারাদণ্ড ১৭ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মহানগর প্রেস ক্লাবের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের কল্যাণ, ঐক্য ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ শোক সংবাদ ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল হবে ২৫০ শয্যার, নির্মাণের উদ্যোগ ১৫ তলা আধুনিক ভবনের পত্নীতলায় জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শিবচরে যুবলীগ নেতার দাপট, ভয়-ভীতি ও মারধর করে জমি দখলের অভিযোগ সদরপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত অভিযুক্তের বাড়ির সামনেই ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা নেওয়া ও বাড়ি বিক্রির কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বালিয়াকান্দিতে দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ফরিদপুরে বিএসটিআইয়ের অভিযান, ফিলিং স্টেশনের ৫ ডিসপেন্সিং ইউনিট সিলগালা

টানা বৃষ্টিতে মিস্টি কুমড়া সহ ১০ কোটি টাকার সবজি নষ্ট।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৫:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫ ১৪০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :

খুলনার ডুমুরিয়ায় ৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা ৪ দিনের বৃষ্টিতে কুমড়া সহ বিভিন্ন ধরনের শাজ সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষেতে পানি জমে কাঠালতলা বাজারস্থ  গোবিন্দকাটি বিলের প্রায় ১ একর জমির ফলন্ত মিস্টি কুমড়া সম্পুর্ন নষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারনে উপজেলায় ১০ কোটি টাকার বেশি  ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে। জানা্যায়, আটলিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দকাটি, পাটনপাড়া, মঠবাড়িয়া এলাকা ফসল উৎপাদনের জন্য একটি উর্বর ভুমি। ভালো ফলনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান রয়েছে এ অঞ্চলের মাটিতে। যার কারনে বছরে কয়েক কোটি টাকার বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে। কিন্তু পানি নিস্কাশনের সুব্যবস্থা না থাকার কারনে তিন বিলের কৃষকের স্বপ্ন বিফলে যেতে বসেছে। গত ৬ জুলাই বিকাল থেকে ১০ জুলাই সকাল পর্যন্ত বিরামহীন বৃষ্টি হয় ডুমুরিয়ায়। যার ফলে গোবিন্দকাটি বিলের প্রায় ১০ একরের বেশি জমির ফলন্ত মিস্টি কুমড়ার ক্ষেত সম্পুর্ন নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষেতের কুমরা গাছ পচে গন্ধ বের হচ্ছে। চাকুন্দিয়া গ্রামের কৃষক স্বপন মল্লিক বলেন, প্রচুর বর্ষার কারনে কুমড়া গাছের শিকড় নষ্ট গেছে। আর বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ধরনের মুখে ক্ষেত নষ্ট হয়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে তার। ৩২ হাজার টাকা হারিতে ৫০ শতক জমি মিস্টি কুমড়ার চাষ করেন তিনি। বছরে তিন ফসল উঠবে। বছরের শুরুতে ফসল নষ্ট হয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কৃষকের স্বপ্ন জমিতেই রয়ে গেছে। কৃষি অফিস জানিয়েছে, অতি বৃষ্টির ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির কারনে শাক সবজি সহ ২০৩ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়েছে। আউশ ধান, আমনবীজতলা, মরিচ,আদা, হলুদ, পেঁপে, অফসিজন তরমুজ, পান, গ্রীস্মকালীন টমেটো ও শিম ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে ১০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন, অতিবৃষ্টির ফলে যেখানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। সেখানে সবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সহ কৃষি বিভাগ নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাছাড়া সামনে আরো বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। যেকারনে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিএডিসির কর্মকর্তাদেরকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। ফসলি জমি রক্ষা করতে হলে বিলের মধ্যে বিলের খাল খনন এবং স্লুইসগেট গুলো সচল করে পানি নিস্কাশনের সুব্যবস্থা করার উদ্যোগী হতে হবে। আটলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, গোবিন্দকাটি এবং পাটনপাড়া বিলে কৃষি ফসল উৎপাদনের জন্য একটা উর্বর ভুমি। গত বছর নদী ভাঙনের কারনে ফসল তলিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকার শুধু শিম নষ্ট হয়েছিল। এবার অতিবৃষ্টির কারনে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানি জমে মিস্টি কুমড়া সহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করে পানি নিস্কাশনের লক্ষ্য নিয়ে ভদ্রা নদী রক্ষা বাধে একটি মিনি স্লুইচগেট নির্মান কাজ শুরু করা হয়েছে। এটা চালু করতে পারলে আশা করি এ বিলের জলাবদ্ধতা নিরসন হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

টানা বৃষ্টিতে মিস্টি কুমড়া সহ ১০ কোটি টাকার সবজি নষ্ট।

আপডেট সময় : ০৫:১৫:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

 

 

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :

খুলনার ডুমুরিয়ায় ৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা ৪ দিনের বৃষ্টিতে কুমড়া সহ বিভিন্ন ধরনের শাজ সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষেতে পানি জমে কাঠালতলা বাজারস্থ  গোবিন্দকাটি বিলের প্রায় ১ একর জমির ফলন্ত মিস্টি কুমড়া সম্পুর্ন নষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারনে উপজেলায় ১০ কোটি টাকার বেশি  ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে। জানা্যায়, আটলিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দকাটি, পাটনপাড়া, মঠবাড়িয়া এলাকা ফসল উৎপাদনের জন্য একটি উর্বর ভুমি। ভালো ফলনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান রয়েছে এ অঞ্চলের মাটিতে। যার কারনে বছরে কয়েক কোটি টাকার বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে। কিন্তু পানি নিস্কাশনের সুব্যবস্থা না থাকার কারনে তিন বিলের কৃষকের স্বপ্ন বিফলে যেতে বসেছে। গত ৬ জুলাই বিকাল থেকে ১০ জুলাই সকাল পর্যন্ত বিরামহীন বৃষ্টি হয় ডুমুরিয়ায়। যার ফলে গোবিন্দকাটি বিলের প্রায় ১০ একরের বেশি জমির ফলন্ত মিস্টি কুমড়ার ক্ষেত সম্পুর্ন নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষেতের কুমরা গাছ পচে গন্ধ বের হচ্ছে। চাকুন্দিয়া গ্রামের কৃষক স্বপন মল্লিক বলেন, প্রচুর বর্ষার কারনে কুমড়া গাছের শিকড় নষ্ট গেছে। আর বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ধরনের মুখে ক্ষেত নষ্ট হয়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে তার। ৩২ হাজার টাকা হারিতে ৫০ শতক জমি মিস্টি কুমড়ার চাষ করেন তিনি। বছরে তিন ফসল উঠবে। বছরের শুরুতে ফসল নষ্ট হয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কৃষকের স্বপ্ন জমিতেই রয়ে গেছে। কৃষি অফিস জানিয়েছে, অতি বৃষ্টির ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির কারনে শাক সবজি সহ ২০৩ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়েছে। আউশ ধান, আমনবীজতলা, মরিচ,আদা, হলুদ, পেঁপে, অফসিজন তরমুজ, পান, গ্রীস্মকালীন টমেটো ও শিম ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে ১০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন, অতিবৃষ্টির ফলে যেখানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। সেখানে সবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সহ কৃষি বিভাগ নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাছাড়া সামনে আরো বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। যেকারনে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিএডিসির কর্মকর্তাদেরকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। ফসলি জমি রক্ষা করতে হলে বিলের মধ্যে বিলের খাল খনন এবং স্লুইসগেট গুলো সচল করে পানি নিস্কাশনের সুব্যবস্থা করার উদ্যোগী হতে হবে। আটলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, গোবিন্দকাটি এবং পাটনপাড়া বিলে কৃষি ফসল উৎপাদনের জন্য একটা উর্বর ভুমি। গত বছর নদী ভাঙনের কারনে ফসল তলিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকার শুধু শিম নষ্ট হয়েছিল। এবার অতিবৃষ্টির কারনে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানি জমে মিস্টি কুমড়া সহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করে পানি নিস্কাশনের লক্ষ্য নিয়ে ভদ্রা নদী রক্ষা বাধে একটি মিনি স্লুইচগেট নির্মান কাজ শুরু করা হয়েছে। এটা চালু করতে পারলে আশা করি এ বিলের জলাবদ্ধতা নিরসন হবে।