ঢাকা ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাতীয় পরিচয়পত্রে বাধ্যতামূলক মোবাইল নম্বর সংযুক্তির ব্যাপারে আমার কিছু কথা অজ্ঞাত লাশের পরিচয় শনাক্তে কার্যকর উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আমার আহ্বান নগরকান্দায় বড় ভাইয়ের হাতের কব্জি কাটলেন ছোট ভাই ফরিদপুরে নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস পালিত ফরিদপুরে বিএসটিআই’র সমন্বিত মোবাইল কোর্টে ৮ মামলায় জরিমানা ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা নগরকান্দায় অবৈধ মাটি কাটার অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও জনদুর্ভোগ চরমে Youth commits suicide over family feud in Sadarpur ফরিদপুরে মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে কানাইপুর ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা কালিয়াকৈরে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে ৩ জনের মৃত্যু কালিয়াকৈরে ৮৪ কোটির টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাইটেক পার্ক স্টেশন এখন মাদকসেবীদের দখলে গাজীপুরে ৫ খুনের ঘটনায় জানা যাচ্ছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

খুলনায় ধারাবাহিক হত্যাকান্ডের পেছনে মাদক সিন্ডিকেট, আধিপত্য বিস্তার।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫ ১৬৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :

খুলনায় হঠ্যাৎ বেড়েছে খুন,হামলা ও অস্ত্র বাজির ঘটনা। চলতি মাসের প্রথম ৮ দিনেই ৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। কুপিয়ে ও গুলিকরে জখম করা হয়েছে আরোও ৩ জনকে। একের পর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে আতংকিত হয়ে পড়েছে নগরীর মানুষ। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছ থেকে জানাগেছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে সোমবার পর্যন্ত নগরীরতে ৩১ টি হত্যা করা হয়েছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে গত বছরের আগষ্ট পর্যন্ত এক বছরে যা ছিল ১৯। মামলা গুলোর তদন্ত কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, মাদক সংক্রান্ত বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বেশি খুনোখুনি হয়েছে। ১১ টি হত্যাকান্ডের নেপথ্যে মাদক সন্ত্রাসী গ্রুপের আধিপত্যর বিরোধ পাওয়া গেছে। এছাড়া ইজিবাইক ও ভ্যান চুরি নিয়ে পাঁচ, প্রেমের বিরোধে ৫, পারিবারিক কলহে ৩, নদীতে ভেসে আসে ২ টি লাশ, চুরি দেখে ফেলায় ১ জন, গনপিটুনিতে ১ জন এবং অন্যান্য কারনে তিন নিহত হয়েছেন। ভুক্তোভোগীর পরিবার ও পুলিশ সুত্রে জানায়, ১ আগষ্ট রাতে নগরীর সবুজ বাগ এলাকায় ঘরে ঢুকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয় মনোয়ার হোসেন টগরকে। কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও মুল আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। গত ৩ আগষ্ট নগরীর মহেশ্বরপাশা উওর বনিকপাড়া এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় ঘের ব্যাবসায়ী আলামিন হাওলাদারকে। মৃত্যু নিশ্চিত করে সন্ত্রাসীরা তার গলা কেটে ফেলে। এঘটনায় নিহতের ভাই আওলাদ হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।এই মামলায় এখনোও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। গত ৫ আগষ্ট রাত ৮ টায় নগরীর সঙ্গীতা সিনেমা হলের সামনে নিষিদ্ধ চরমপন্থী সংগঠন পুর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির ( জনযুদ্ধ)  নেতা শাহাদাত হোসেনকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। প্রায় ২৩ বছর পর গত ৮ জানুয়ারি জামিনে মুক্তি পান তিনি। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা সহ অসংখ্য মামলা ছিল। মুক্তির পর তিনি স্বাভাবিক জীবন যাপন করছিলেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গনঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সারাদেশের মতো খুলনায় পুলিশের মনোবল ভেঙে পড়ে। দীর্ঘ দিন ধরে নিস্ক্রিয় তারা। এসুযোগ নিয়েছে সন্ত্রাসী ও মাদককারবারীরা। অনেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফিরে আবার আগের অপরাধে জড়িয়েছে। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে উঠতি সন্ত্রাসীরা। দিন দিন সবাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আলোচিত ১০ টি খুনের এজাহার বিশ্লেষন করে ও তদন্ত কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানাযায়, নগরীরতে সশস্ত্র মহড়া,, মাদক সংক্রান্ত গন্ডগোল ও হত্যাকান্ডে তিনটি সশস্ত্র বাহিনী জড়িত। এর মধ্যে রং মিস্ত্রি সোহেল, গোলাম হোসেন ও মনোয়ার হোসেন টগর হত্যাকান্ডে গ্রেনেড বাবু বি – কোম্পানির সদস্য, পঙ্গু রাসেল হত্যায় পলাশ গ্রুপ, অর্নব হত্যায় বি – কোম্পানি ও পলাশ যৌথ এবং আমিন মোল্লা বোয়িং হত্যাকান্ডে আশিক গ্রুপের সদস্যরা জড়িত। এছাড়া তদন্তে বড় শাহিন ও মাহাবুব হত্যায় জেলে থাকা চরমপন্থী নেতাদের অনুসারীদের নাম এসেছে। আলামিন হাওলাদার খুনেও একই গ্রুপ জড়িত। কেএমপির কমিশনার মোঃ জুলফিকার আলী হায়দার বলেন, ২৭ টি হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। এজাহারভুক্ত বেশিরভাগ আসামি কারাগারে। বলেন, পলাশ বাহিনী প্রধান শেখ পলাশ, সেকেন্ড ইন কমান্ড কালা লাভলু, নুর আজিম বাহিনী প্রধান নুর আজিম, আশিক বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড সাগর সহ ৫৪ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের ধরার চেষ্টা চলছে।

ক্ষুদ্ধ সাধারণ মানুষ : একের পর এক হত্যাকান্ডে আতংকিত খুলনা নগরীর মানুষ। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিস্ক্রিয়তার কড়া সামলোচনা করছেন।খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব বাবুল হাওলাদার বলেন, অভুত্থানের এক বছরেও পুলিশ বাহিনী ঘুরে দাড়াতে পারেনি। এসুযোগে পলাতক সন্ত্রাসীরা এলাকায় ফিরে এবং কেউ কেউ জেল থেকে বেরিয়ে অপকর্ম করছে। পুলিশ সক্রিয় না হলে এদের প্রতিরোধ করা কঠিন। তিনি বলেন, নিরস্ত্র জনগনের আস্থা পুলিশের ওপর। এ জন্য চৌকস ও দক্ষ কর্মকর্তাদের থানা পর্যায়ে নিয়োগ দেওয়া জরুরি। তাহলে বাহিনীর ওপর জনগণের আস্থা ফিরবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

খুলনায় ধারাবাহিক হত্যাকান্ডের পেছনে মাদক সিন্ডিকেট, আধিপত্য বিস্তার।

আপডেট সময় : ১২:৫৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫

 

 

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :

খুলনায় হঠ্যাৎ বেড়েছে খুন,হামলা ও অস্ত্র বাজির ঘটনা। চলতি মাসের প্রথম ৮ দিনেই ৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। কুপিয়ে ও গুলিকরে জখম করা হয়েছে আরোও ৩ জনকে। একের পর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে আতংকিত হয়ে পড়েছে নগরীর মানুষ। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছ থেকে জানাগেছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে সোমবার পর্যন্ত নগরীরতে ৩১ টি হত্যা করা হয়েছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে গত বছরের আগষ্ট পর্যন্ত এক বছরে যা ছিল ১৯। মামলা গুলোর তদন্ত কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, মাদক সংক্রান্ত বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বেশি খুনোখুনি হয়েছে। ১১ টি হত্যাকান্ডের নেপথ্যে মাদক সন্ত্রাসী গ্রুপের আধিপত্যর বিরোধ পাওয়া গেছে। এছাড়া ইজিবাইক ও ভ্যান চুরি নিয়ে পাঁচ, প্রেমের বিরোধে ৫, পারিবারিক কলহে ৩, নদীতে ভেসে আসে ২ টি লাশ, চুরি দেখে ফেলায় ১ জন, গনপিটুনিতে ১ জন এবং অন্যান্য কারনে তিন নিহত হয়েছেন। ভুক্তোভোগীর পরিবার ও পুলিশ সুত্রে জানায়, ১ আগষ্ট রাতে নগরীর সবুজ বাগ এলাকায় ঘরে ঢুকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয় মনোয়ার হোসেন টগরকে। কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও মুল আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। গত ৩ আগষ্ট নগরীর মহেশ্বরপাশা উওর বনিকপাড়া এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় ঘের ব্যাবসায়ী আলামিন হাওলাদারকে। মৃত্যু নিশ্চিত করে সন্ত্রাসীরা তার গলা কেটে ফেলে। এঘটনায় নিহতের ভাই আওলাদ হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।এই মামলায় এখনোও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। গত ৫ আগষ্ট রাত ৮ টায় নগরীর সঙ্গীতা সিনেমা হলের সামনে নিষিদ্ধ চরমপন্থী সংগঠন পুর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির ( জনযুদ্ধ)  নেতা শাহাদাত হোসেনকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। প্রায় ২৩ বছর পর গত ৮ জানুয়ারি জামিনে মুক্তি পান তিনি। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা সহ অসংখ্য মামলা ছিল। মুক্তির পর তিনি স্বাভাবিক জীবন যাপন করছিলেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গনঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সারাদেশের মতো খুলনায় পুলিশের মনোবল ভেঙে পড়ে। দীর্ঘ দিন ধরে নিস্ক্রিয় তারা। এসুযোগ নিয়েছে সন্ত্রাসী ও মাদককারবারীরা। অনেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফিরে আবার আগের অপরাধে জড়িয়েছে। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে উঠতি সন্ত্রাসীরা। দিন দিন সবাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আলোচিত ১০ টি খুনের এজাহার বিশ্লেষন করে ও তদন্ত কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানাযায়, নগরীরতে সশস্ত্র মহড়া,, মাদক সংক্রান্ত গন্ডগোল ও হত্যাকান্ডে তিনটি সশস্ত্র বাহিনী জড়িত। এর মধ্যে রং মিস্ত্রি সোহেল, গোলাম হোসেন ও মনোয়ার হোসেন টগর হত্যাকান্ডে গ্রেনেড বাবু বি – কোম্পানির সদস্য, পঙ্গু রাসেল হত্যায় পলাশ গ্রুপ, অর্নব হত্যায় বি – কোম্পানি ও পলাশ যৌথ এবং আমিন মোল্লা বোয়িং হত্যাকান্ডে আশিক গ্রুপের সদস্যরা জড়িত। এছাড়া তদন্তে বড় শাহিন ও মাহাবুব হত্যায় জেলে থাকা চরমপন্থী নেতাদের অনুসারীদের নাম এসেছে। আলামিন হাওলাদার খুনেও একই গ্রুপ জড়িত। কেএমপির কমিশনার মোঃ জুলফিকার আলী হায়দার বলেন, ২৭ টি হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। এজাহারভুক্ত বেশিরভাগ আসামি কারাগারে। বলেন, পলাশ বাহিনী প্রধান শেখ পলাশ, সেকেন্ড ইন কমান্ড কালা লাভলু, নুর আজিম বাহিনী প্রধান নুর আজিম, আশিক বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড সাগর সহ ৫৪ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের ধরার চেষ্টা চলছে।

ক্ষুদ্ধ সাধারণ মানুষ : একের পর এক হত্যাকান্ডে আতংকিত খুলনা নগরীর মানুষ। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিস্ক্রিয়তার কড়া সামলোচনা করছেন।খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব বাবুল হাওলাদার বলেন, অভুত্থানের এক বছরেও পুলিশ বাহিনী ঘুরে দাড়াতে পারেনি। এসুযোগে পলাতক সন্ত্রাসীরা এলাকায় ফিরে এবং কেউ কেউ জেল থেকে বেরিয়ে অপকর্ম করছে। পুলিশ সক্রিয় না হলে এদের প্রতিরোধ করা কঠিন। তিনি বলেন, নিরস্ত্র জনগনের আস্থা পুলিশের ওপর। এ জন্য চৌকস ও দক্ষ কর্মকর্তাদের থানা পর্যায়ে নিয়োগ দেওয়া জরুরি। তাহলে বাহিনীর ওপর জনগণের আস্থা ফিরবে।