পরিকল্পনাকারী ও মুল খুনীরা কেউ ধরা পড়েনি, গ্রেফতার ৮ জনই জামিনে মুক্ত।
- আপডেট সময় : ০১:৩০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫ ১৩৯ বার পড়া হয়েছে

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো :
ডুমুরিয়ার শরাফপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রবিউল ইসলাম রবির হত্যার এক বছর পার হয়েছে। দীর্ঘ এক বছরেও হত্যার পরিকল্পনাকারী, অর্থ যোগানদাতা ও খুনিদের সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। মামলার তদন্তে ও কোন অগ্রগতি নেই। গ্রেফতার হওয়া আসামীরাও জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। পুলিশের ভুমিকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন রবির পরিবারের সদস্য ও সমর্থকরা। গত বছর ৬ জুলাই উপজেলার গুটুদিয়া ওয়াপদার মাথা নামক স্থানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুন হন জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান রবি। আওয়ামীলীগ ক্ষমতা থাকা অবস্থায় টানা তিন বার আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান হন তিনি। হত্যাকান্ডের পর দিন নিহতের স্ত্রী শায়লা ইরিন বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এর মধ্যে প্রধান আসামি করা হয় রবির নির্বাচনী প্রতিদ্ধন্ধী কে এম ওবায়দুল্লাহকে। ঔই সময় হত্যা মামলা থেকে প্রকৃত খুনিদের আড়াল করার অভিযোগ ওঠে। মামলায় আরো আসামি করা হয় ওয়ালিউল্লাহ অলি, মোঃ আল মামুন সানা, মোঃ রফিক শেখ, আবাসন ব্যবসায়ী জেলা আওয়ামীলীগ নেতা আজগর বিশ্বাস তারা, আল আমিন শেখ ও আল ফুরকান খানকে। পুলিশ প্রত্যককেই গ্রেফতার করে। এক পর্যায়ে সবাই জামিনে মুক্তি পান। ২০১১ সালে ২১ বছর বয়সে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন শেখ রবিউল ইসলাম রবি। পরাজিত করেন প্রভাবশালী নেতা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ নুর উদ্দিন আল মাসুদকে। তিনি আওয়ামিলীগ সমর্থিত প্রার্থী ছিলেন। পরে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সরসরি নৌকা প্রতিকের বিপক্ষে ২০১৬ ও ২০২১ সালেও তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর মধ্যে এলাকায় বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। বরাবরই তিনি মৎস্য ঘের ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন। ডুমুরিয়া শহীদ জোবায়েদ আলী মিলনায়তনে উপজেলা আওয়ামীলীগের বিশেষ বর্ধিত সভা ছিল ২০২৪ সালের ৬ জুলাই বিকালে ঔই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন ভুমি মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। সভা শেষ হয় সন্ধ্যা ৭ টায় । ডুমুরিয়া বাসস্টান্ডে মিঠুর চায়ের দোকানে সকলের সাথে চা পান শেষে রাত ৮ টায় খুলনা বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন চেয়ারম্যান রবি। নিজ মটর সাইকেল চালিয়ে একাই যচ্ছিলেন। খুলনা সাতক্ষীরা মহাসড়কের গুটুদিয়া ওয়াপদা মাথা নামক স্থানে পৌছালে খুনিরা তাকে গুলি করে হত্যা করে। সব গুলিই তার পিঠে বিদ্ধ হয়। হতয়ার সময় পুলিশ কর্তাদের অতিমাত্রায় গাফিলতি, দলীয় শীর্ষ দুনেতার মামলার মোটিভ পাল্টানোয় সরাসরি প্রভাব বিস্তার ও সতন্ত্র কোন সংস্থা দিয়ে তদন্ত না করায় মামলাটি অন্ধকারে রয়ে গেছে। এমনটাই দাবি স্বজন ও এলাকাবাসীর। ঘটনার সময় তৎকালীন ওসি সুকান্ত সাহা ও এসপি মোঃ সাইদুর রহমান সাবেক ভুমি মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের বাড়িতে ছিলেন। খবর পেয়ে ওসি প্রথমে ঘটনাস্থলে না যেয়ে হাসপাতালে যান। পরে উর্ধতন কর্তাদের সাথে ঘটনাস্থলে যান। স্বজনদের দাবি ওসি সুকান্ত সাহা অতিমাত্রায় মন্ত্রীর তেলবাজি করতে্ন। প্রায়ই তিনি তার সাথে সেলফি তুলতেন। ছিলেন অত্যান্ত বাচাল। তার গাফিলতির কারনে ঔই সময়ে খুনিদের সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে এ মামলায় তেমব কোন অগ্রগতিও নেই। তবে স্বজনদের দাবি খুনিরা ভাড়াটে। কিন্তু পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতা হচ্ছে ডুমুরিয়ার। তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং ব্যবসায়ীক দন্ধ যাদের সাথে তারাই এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত। আওয়ামিলীগের দুশীর্ষ নেতা এ হত্যা সম্পর্কে অবগত। এক নেতার আপন চাচত ভাই ডুমুরিয়ার এক ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে রবির ঝগড়া ছিল। তাছাড়া গবাদি পশুর প্রকল্পে শীর্ষ এক নেতা রবিকে অল্প সুদে মোটা অংকের ব্যাংক লোন করতে সহযোগীতা করেন। বিনিময়ে ঔই টাকার অর্ধেক তিনি রবির কাছ থেকে নগদে নেন। কিন্তু ৪/৫ বছর পার হলেও শীর্ষ ঔই নেতা টাকা না দেওয়ায় রবি টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন। ফলে শীর্ষ ঔই নেতা ভেতরে ভেতরে রবির ওপর বিরক্ত ছিলেন। ঔই নেতার মাধ্যমে অপর শীর্ষ নেতা এবং তার চাচাত ভাই পরিকল্পনা করে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করতে পারে বলে স্বজনদের দাবি।স্ব জনদের কেউ কেউ বলছেন ভাড়াটে খুনি প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আসতে পারে। খুন করে নির্বিঘ্নে তারা ঔই নেতার সহযোগীতায় ভারতে পালিয়ে গেছে। স্বজনদের অপর পক্ষের দাবি খুনের নেপথ্যে মাছের হ্যাচারী নিয়ে ব্যাবসায়ীক দ্ধন্ধ থাকতে পারে। ডুমুরিয়া থানার ওসি মাসুদ রানা বলেছেন মামলার শুরুতে পুলিশের কর্মকান্ড দুর্বল ছিল। গত এক বছরে অধিকাংশ ঘটনা উৎঘটন করেছি, কিন্তু রবির ব্যাপারে আমরা কোন ক্লু পায়নি। তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে পুলিশি গাফিলতির কারনে অধিকাংশ খুনের মোটিভ উদ্ধার হয় না। চেয়ারম্যান রবি হত্যা মামলাও তেমনি। তাদের মতে সিআইডি বা পিবিআই বা অন্য কোন সংস্থা দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করলে রবি হত্যার মোটিভ উদঘাটন সম্ভব।























