ঢাকা ০২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিবচরে আধুনিক ডাকবাংলোর শুভ উদ্বোধন সদরপুরে মোবাইল ব্যবসায়ীকে হানিট্র্যাপে ফেলে ১৮ ঘণ্টা জিম্মি ও টাকা লুটের অভিযোগ: ২ নারী আটক শারদীয়া দুর্গাপূজা ষষ্ঠ থেকে দশমি পর্যন্ত পাঁচ দিন ব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত সদরপুরে ৩৫টি মণ্ডপে পালিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা, আজ প্রতিমা বিসর্জন বালিয়াকান্দি উপজেলা শালমারা নিশ্চিন্তপুর শালিকী গ্রাম স্কুল মাঠ প্রাঙ্গনে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ‎শিবচরে সড়ক দুর্ঘটনায় বিএনপির নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান নিহত ‎। ফরিদপুরে দেড় কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার দীর্ঘ ১৮৫ বছরের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল ফরিদপুর পৌরসভা। দেশকে অস্থিতিশীল করতে পতিত অপশক্তির দোসররা নানা ষড়যন্ত্র করছে: রিজভী কালিয়াকৈরে আবাসিক হোটেলে অভিযান, নারী পুরুষ সহ ৩৯ জনকে আটক 

আলফাডাঙ্গায় মুরগির নাড়িভুঁড়ি ও পচা বর্জ্য ফেলে মাছ চাষ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২০:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ৫৩৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

আব্দুল মতিন মুন্সী (ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:)

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্ধ ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামে মুরগির নাড়িভুঁড়ি, বিষ্ঠা, পচা বর্জ্য ও মরামুর্গির দেহাংশ পুকুরে ফেলে মাছ চাষের অভিযোগে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সুমন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এই অস্বাস্থ্যকর পদ্ধতিতে পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া মাছ উৎপাদন করে বাজারজাত করছেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।

সরেজমিনে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে স্বীকারোক্তি

বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা পুকুরের চারপাশ ঘুরে দেখতে পান—পুকুরপাড়ে ছড়ানো মুরগির নাড়িভুঁড়ি, দুর্গন্ধ ছড়ানো বর্জ্য এবং পানি কালচে-সবুজ হয়ে আছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভিডিওচিত্রে সুমন মিয়া স্বীকার করেন,

“প্রায় এক বছর ধরে বাজার থেকে মুরগির নাড়িভুঁড়ি, মরামুর্গি আর মুরগির বিষ্ঠা সংগ্রহ করে আমার ঘেরে মাছের খাদ্য হিসেবে দিচ্ছি।”

 

তার দাবি, এতে খরচ কম হয় এবং মাছ দ্রুত বড় হয়।

দূষণে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্জ্য পুকুরে ফেলার কারণে পুরো এলাকাসহ আশপাশের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও বাগানে বিরামহীন দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। সন্ধ্যার পর এলাকায় হাঁটাচলা করাই দুষ্কর হয়ে পড়ে।
ফুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা এক নারী বলেন,

“আমরা জানালা খুলে রাখতে পারি না। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব বিপাকে আছি। এই মাছ বাজারে গেলে মানুষের শরীরের ওপর কী প্রভাব পড়বে—তা ভেবে আতঙ্ক লাগে।”

 

অনেকেই জানান, বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় মাছ কেনার প্রতি মানুষের অনীহা দেখা যাচ্ছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা

স্থানীয় কয়েকজন বলেন, অস্বাস্থ্যকর বর্জ্যে পচন ধরে নানা জীবাণু তৈরি হয়। এসব খেয়ে মাছের শরীরে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও ব্যাকটেরিয়া প্রবেশের শঙ্কা আছে। এমন মাছ বাজারে গেলে তা মানুষের কিডনি, লিভার ও পরিপাকতন্ত্রে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।

মৎস্য বিভাগের অবস্থান

ঘটনাটি জানতে চাইলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু ঘোর বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন,

“মাছকে মুরগির নাড়িভুঁড়ি বা যেকোনো পচা বর্জ্য খাওয়ানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এটি পরিবেশ দূষণ, জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি এবং মৎস্যসম্পদ আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত পুকুরটির নমুনা সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, সতর্ক করার পরও সুমন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর সোজাসাপ্টা দাবি—

“এই দূষণ বন্ধ করতে হবে এবং এমন মাছ বাজারে আসা ঠেকাতে হবে। না হলে আমাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে।”

 

পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ না হলে স্থানীয় জলাশয়, মাটি ও বায়ুর মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আলফাডাঙ্গায় মুরগির নাড়িভুঁড়ি ও পচা বর্জ্য ফেলে মাছ চাষ

আপডেট সময় : ১১:২০:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

 

আব্দুল মতিন মুন্সী (ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:)

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্ধ ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামে মুরগির নাড়িভুঁড়ি, বিষ্ঠা, পচা বর্জ্য ও মরামুর্গির দেহাংশ পুকুরে ফেলে মাছ চাষের অভিযোগে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সুমন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এই অস্বাস্থ্যকর পদ্ধতিতে পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া মাছ উৎপাদন করে বাজারজাত করছেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।

সরেজমিনে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে স্বীকারোক্তি

বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা পুকুরের চারপাশ ঘুরে দেখতে পান—পুকুরপাড়ে ছড়ানো মুরগির নাড়িভুঁড়ি, দুর্গন্ধ ছড়ানো বর্জ্য এবং পানি কালচে-সবুজ হয়ে আছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভিডিওচিত্রে সুমন মিয়া স্বীকার করেন,

“প্রায় এক বছর ধরে বাজার থেকে মুরগির নাড়িভুঁড়ি, মরামুর্গি আর মুরগির বিষ্ঠা সংগ্রহ করে আমার ঘেরে মাছের খাদ্য হিসেবে দিচ্ছি।”

 

তার দাবি, এতে খরচ কম হয় এবং মাছ দ্রুত বড় হয়।

দূষণে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্জ্য পুকুরে ফেলার কারণে পুরো এলাকাসহ আশপাশের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও বাগানে বিরামহীন দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। সন্ধ্যার পর এলাকায় হাঁটাচলা করাই দুষ্কর হয়ে পড়ে।
ফুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা এক নারী বলেন,

“আমরা জানালা খুলে রাখতে পারি না। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব বিপাকে আছি। এই মাছ বাজারে গেলে মানুষের শরীরের ওপর কী প্রভাব পড়বে—তা ভেবে আতঙ্ক লাগে।”

 

অনেকেই জানান, বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় মাছ কেনার প্রতি মানুষের অনীহা দেখা যাচ্ছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা

স্থানীয় কয়েকজন বলেন, অস্বাস্থ্যকর বর্জ্যে পচন ধরে নানা জীবাণু তৈরি হয়। এসব খেয়ে মাছের শরীরে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও ব্যাকটেরিয়া প্রবেশের শঙ্কা আছে। এমন মাছ বাজারে গেলে তা মানুষের কিডনি, লিভার ও পরিপাকতন্ত্রে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।

মৎস্য বিভাগের অবস্থান

ঘটনাটি জানতে চাইলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু ঘোর বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন,

“মাছকে মুরগির নাড়িভুঁড়ি বা যেকোনো পচা বর্জ্য খাওয়ানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এটি পরিবেশ দূষণ, জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি এবং মৎস্যসম্পদ আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত পুকুরটির নমুনা সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, সতর্ক করার পরও সুমন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর সোজাসাপ্টা দাবি—

“এই দূষণ বন্ধ করতে হবে এবং এমন মাছ বাজারে আসা ঠেকাতে হবে। না হলে আমাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে।”

 

পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ না হলে স্থানীয় জলাশয়, মাটি ও বায়ুর মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।