ঢাকা ০১:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরে হাসেম জুট ইন্ডাস্ট্রিজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: কোটি টাকার ক্ষতি জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত, সমতাভিত্তিক উন্নয়নে জোর। ত্যাগ-সংগ্রামের স্বীকৃতি চান সাহিদা বেগম মধুখালীতে অবৈধ মাটি উত্তোলন: জনদুর্ভোগ চরমে, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা। সালথায় গভীর রাতে খড়ের ঘরে অগ্নিসংযোগ, ক্ষয়ক্ষতি রামুতে গরু চুরির অভিযোগ, শালিসে স্বীকার করেও গা-ঢাকা অভিযুক্তরা। ফরিদপুর সদর থেকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাহিদা বেগম দুঃসময়ের ত্যাগী নেত্রী সাহিদা বেগম: সংগ্রাম ও সাহসিকতার এক অনন্য প্রতিচ্ছবি ফরিদপুরে রেললাইনে কাটা পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু ফরিদপুরে অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ, জনদুর্ভোগ চরমে।

৫৮ শ্রমিক সাময়িক বরখাস্ত, ১৩(১) ধারায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা হানিওয়েল গার্মেন্টস লিমিটেডে উত্তেজনা, শ্রমিকদের মাঝে হতাশা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৭:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ৩০১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ইমন চৌধুরী স্টাফ রিপোর্টার

গাজীপুরের কোনাবাড়ি আমবাগ এলাকার মিতালী ক্লাব সংলগ্ন হানিওয়েল গার্মেন্টস লিমিটেড হঠাৎ করেই অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ৫৮ জন শ্রমিককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে কারখানার সামনে তৈরি হয়েছে চরম উৎকণ্ঠা ও উত্তেজনার পরিবেশ।

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, শ্রম আইন অনুযায়ী ১৩(১) ধারার বিশেষ বিবেচনায় উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কারখানার প্রধান ফটকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

কারখানার গেটে ঝুলিয়ে দেওয়া নোটিশে উল্লেখ করা হয়— “কারখানার অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীল পরিবেশ ও উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ায় ১৩(১) ধারার আওতায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যক্রম বন্ধ রাখা হলো। পাশাপাশি শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ৫৮ শ্রমিককে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।”

বন্ধ ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকেই শ্রমিকরা কারখানার সামনে ভিড় করতে শুরু করেন। বরখাস্ত শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, তাদের বিরুদ্ধজে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং কোনো আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করায় তারা মানবিক সংকটে পড়েছেন।

এক শ্রমিক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা প্রতিদিন কাজ করে সংসার চালাই। হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত দিলে আমরা কোথায় যাব? আমাদের কথা কেউ শুনল না।”

অন্যদিকে ব্যবস্থাপনা পক্ষ দাবি করেছে, শ্রমিকদের একাংশের আচরণে উৎপাদন বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল, যা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করছিল। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকা জুড়ে শ্রমিকদের মাঝে ক্ষোভ, হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অনেকেই দ্রুত সমস্যার সমাধানে শ্রম বিভাগ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন কখন পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

৫৮ শ্রমিক সাময়িক বরখাস্ত, ১৩(১) ধারায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা হানিওয়েল গার্মেন্টস লিমিটেডে উত্তেজনা, শ্রমিকদের মাঝে হতাশা

আপডেট সময় : ০৬:৫৭:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

 

ইমন চৌধুরী স্টাফ রিপোর্টার

গাজীপুরের কোনাবাড়ি আমবাগ এলাকার মিতালী ক্লাব সংলগ্ন হানিওয়েল গার্মেন্টস লিমিটেড হঠাৎ করেই অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ৫৮ জন শ্রমিককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে কারখানার সামনে তৈরি হয়েছে চরম উৎকণ্ঠা ও উত্তেজনার পরিবেশ।

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, শ্রম আইন অনুযায়ী ১৩(১) ধারার বিশেষ বিবেচনায় উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কারখানার প্রধান ফটকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

কারখানার গেটে ঝুলিয়ে দেওয়া নোটিশে উল্লেখ করা হয়— “কারখানার অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীল পরিবেশ ও উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ায় ১৩(১) ধারার আওতায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যক্রম বন্ধ রাখা হলো। পাশাপাশি শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ৫৮ শ্রমিককে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।”

বন্ধ ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকেই শ্রমিকরা কারখানার সামনে ভিড় করতে শুরু করেন। বরখাস্ত শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, তাদের বিরুদ্ধজে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং কোনো আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করায় তারা মানবিক সংকটে পড়েছেন।

এক শ্রমিক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা প্রতিদিন কাজ করে সংসার চালাই। হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত দিলে আমরা কোথায় যাব? আমাদের কথা কেউ শুনল না।”

অন্যদিকে ব্যবস্থাপনা পক্ষ দাবি করেছে, শ্রমিকদের একাংশের আচরণে উৎপাদন বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল, যা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করছিল। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকা জুড়ে শ্রমিকদের মাঝে ক্ষোভ, হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অনেকেই দ্রুত সমস্যার সমাধানে শ্রম বিভাগ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন কখন পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি।